বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বিশেষ করে MPOভুক্ত প্রতিষ্ঠানে) কর্মরত মহিলা শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি বা প্রসূতি ছুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী এই ছুটির নিয়মাবলী এখনো কার্যকর রয়েছে। এই নিয়মে মহিলা শিক্ষকরা ৬ মাসের পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, যা চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ বার ভোগ করা যায়।
মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ও শুরু
- ছুটির মোট মেয়াদ: ৬ মাস (১৮০ দিনের কাছাকাছি)।
- ছুটি শুরু হবে আবেদনকৃত তারিখ থেকে অথবা হাসপাতালে ভর্তির তারিখ থেকে – যেটি আগে হয়।
- সর্বশেষ শুরুর তারিখ: সন্তান প্রসবের দিন।
- প্রসূতি ছুটি নিয়ম ২০২৫: কোনো পরিবর্তন হয়নি, এখনো ৬ মাসই প্রযোজ্য।
আরও জানতে পারেনঃ সরকারি চাকরিতে কোন গ্রেডে কত বেতন ২০২৬
ছুটির প্রাপ্যতা ও বেতন-ভাতা
- চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ বার এই ছুটি ভোগ করা যাবে।
- ছুটিকালীন পূর্ণ বেতন ও ভাতা প্রদান করতে হবে (ছুটির আগের বেতনের হারে)।
- কোনো বেতন কর্তন বা সুবিধা হ্রাস করা যাবে না।
ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সীমাবদ্ধতা
নিবন্ধিত চিকিত্সকের সার্টিফিকেটসহ আবেদন জমা দিলে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কমিটি:
- আবেদন মঞ্জুর না করতে পারবে না।
- ৬ মাসের কম ছুটি দিতে পারবে না।
- আবেদনকৃত তারিখ পরিবর্তন করতে পারবে না।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও আবেদন প্রক্রিয়া
- আবশ্যিক ডকুমেন্ট: নিবন্ধিত MBBS ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট (গর্ভাবস্থা ও সম্ভাব্য প্রসব তারিখ উল্লেখসহ)।
- আবেদনের সময়: প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের ১-২ মাস আগে আবেদন করা উচিত।
- মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন ফরম্যাট (নমুনা):
তারিখ: [বর্তমান তারিখ] বরাবর, অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক, [প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা]
বিষয়: মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদন।
মহোদয়,
যথাবিহিত সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে [পদের নাম, যেমন: সহকারী শিক্ষক] হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে আমি গর্ভবতী এবং ডাক্তারি সনদ অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ [তারিখ]।
অতএব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী [ছুটি শুরুর তারিখ] থেকে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করে অনুমতি প্রদানের জন্য মর্জি হয়।
বিনীত নিবেদক, [আপনার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর]
সংযুক্তি: ১. নিবন্ধিত চিকিত্সকের মেডিকেল সার্টিফিকেট।
আপনি মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন PDF অনলাইনে খুঁজে ডাউনলোড করতে পারেন অথবা প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে পারেন।
আরও জানতে পারেনঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকা ২০২৬ (আপডেট তথ্য)
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- এই ছুটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং MPOভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক।
- ছুটির সময় চাকরিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
- যেকোনো সমস্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা DSHE অফিসে যোগাযোগ করুন।
সূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের পরিপত্র (এখনো কার্যকর)। আরও বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
