পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এর অর্থ হলো নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার সময়সীমা এখন ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এই মেয়াদ বাড়িয়েছে। ফলে সদর দপ্তর ও জেলা পর্যায়ের সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্য পদগুলোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ধরা যাক কোনো প্রার্থী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহকারী বা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে আগ্রহী। তাঁর জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, ছাড়পত্র বাড়লেও এটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সমান নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে পদ যাচাই, বিধি অনুসরণ ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সংক্ষিপ্ত:

  • ছাড়পত্রের আওতায় মোট পদ: ১ হাজার ৮৫৫টি।
  • সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৬৭টি পদ রয়েছে।
  • জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১৮৮টি পদ।
  • নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার বর্ধিত সময়সীমা: ৩০ জুন ২০২৭।

ছাড়পত্রের মেয়াদ কতদিন বাড়ল?

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য কর্তৃপক্ষের হাতে প্রায় ১০ মাসের মতো সময় রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ তথ্যের মধ্যে জানানো হয়নি।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পার-২ শাখা থেকে এ বিষয়ে চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আব্দুল হোসেন। সংবাদটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বা বাসসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সর্বশেষ সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপদ্ধতি ও নোটিশ যাচাই করতে প্রার্থীরা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে পারেন। তবে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদে আবেদন শুরু হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

১ হাজার ৮৫৫ পদ কোথায়?

ছাড়পত্র পাওয়া পদগুলো দুই প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়েছে। সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৬৭টি পদ এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরিতে ১৮৮টি পদ রয়েছে। হিসাবটি হলো ১,৬৬৭ + ১৮৮ = মোট ১,৮৫৫ পদ।

নিয়োগের স্তরক্যাটাগরিপদের সংখ্যা
সদর দপ্তর পর্যায়১৭১,৬৬৭
জেলা পর্যায়১৮৮
মোট২১১,৮৫৫

এই বিভাজন প্রার্থীদের জন্য ব্যবহারিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ সদর দপ্তরের কারিগরি বা প্রশাসনিক পদে আগ্রহী হতে পারেন। অন্যদিকে জেলা পর্যায়ের পদগুলোতে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব, স্থানীয় কর্মস্থল ও নির্দিষ্ট নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

কোন কোন পদ রয়েছে?

সদর দপ্তর পর্যায়ের তালিকায় কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক ও সহায়ক কাজের পদ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য পদগুলোর মধ্যে আছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ফিজিওথেরাপিস্ট ও গবেষণা সহকারী।

  • সহকারী লাইব্রেরিয়ান
  • ইপিআই টেকনিশিয়ান
  • টেলিফোন অপারেটর
  • ওয়ার্ড মাস্টার
  • জিনেম কিপার
  • টিকেট ক্লার্ক
  • ভেন্টিলেটর কাম মেকানিক
  • কিনো সুপারভাইজার
  • রেডিও কিপার
  • কার্ডিওগ্রাফার

এ ছাড়া অধিদপ্তর পর্যায়ে অফিস সহায়ক বা এমএলএসএস এবং কুক হেলপার পদও ছাড়পত্রের আওতায় রাখা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের তালিকায় রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী বা এফপিএ, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক বা এফপিআই, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং আয়া।

বেতনস্কেল সম্পর্কে কী জানা যায়?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি পদের গ্রেড ও বেতনস্কেল নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বেতনস্কেল জাতীয় বেতন কাঠামোর সংশ্লিষ্ট গ্রেডভিত্তিক সীমা বোঝায়। তবে ভাতা, নিয়োগের শর্ত ও চাকরির অন্যান্য সুবিধা জানতে অবশ্যই চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।

পদগ্রেডবেতনস্কেল
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব)১১তম১২,৫০০ থেকে ৩০,২৩০ টাকা
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা১৪তম১০,২০০ থেকে ২৪,৬৮০ টাকা
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক১৬তম৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা
অফিস সহায়ক বা এমএলএসএস২০তম৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা

লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, তালিকায় থাকা সব পদের যোগ্যতা এক নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, কম্পিউটার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা ও জেলা-ভিত্তিক শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে দেওয়া হতে পারে। তাই শুধু বেতনস্কেল দেখে পদ বেছে নেওয়া সময়ের সেরা ব্যবহার হবে না।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী শর্ত আছে?

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। চিঠিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যেকোনো শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

পদোন্নতি, বদলি, অবসর, চাকরিচ্যুতি বা অন্য কোনো কারণে শূন্য হওয়া পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নেই। কেবল সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্য পদগুলোতেই জনবল নেওয়া যাবে। ফলে পদসংখ্যা বোঝার ক্ষেত্রে এই শর্তটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমা তৈরি করে।

নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে জানাতে হবে। অর্থাৎ নিয়োগ শেষ হলেও প্রশাসনিক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আলাদা সময়সীমা থাকবে।

প্রার্থীদের জন্য কার্যকর প্রস্তুতি

  1. প্রথমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সরকারি নোটিশ পেজ নিয়মিত দেখুন।
  2. এদিকে শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত রাখুন।
  3. কম্পিউটারভিত্তিক পদের জন্য বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং দক্ষতা যাচাই করুন।
  4. আবেদনের আগে গ্রেড, যোগ্যতা, বয়সসীমা ও কর্মস্থলের শর্ত মিলিয়ে নিন।
  5. সবশেষে শুধু সরকারি ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।

চাকরিপ্রার্থীদের একটি সাধারণ ভুল হলো ছাড়পত্রের খবরকে সরাসরি আবেদন বিজ্ঞপ্তি হিসেবে ধরে নেওয়া। আসলে ছাড়পত্র প্রশাসনিক অনুমোদনের একটি ধাপ। এরপর নিয়োগের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি, আবেদন প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের ধাপ থাকতে পারে।

এই নিয়োগে সময় ব্যবস্থাপনা কীভাবে করবেন?

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগের খবর অনুসরণ করতে নিয়মিত কিন্তু অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করাই কার্যকর কৌশল। তাই সপ্তাহে দুই বা তিন দিন নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি ওয়েবসাইট যাচাই করলে ভুয়া পোস্টের পেছনে সময় নষ্টের ঝুঁকি কমে।

অভিজ্ঞ প্রার্থীরা সাধারণত প্রস্তুতিকে তিন ভাগে সাজাতে পারেন। প্রথমে পদভেদে যোগ্যতা যাচাই, পরে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা এবং শেষে কাগজপত্র ও আবেদন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়া যায়। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সব শুরু করলে চাপ বাড়ে।

  • প্রথম ধাপ: নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্ভাব্য পদ মিলিয়ে তালিকা তৈরি করুন।
  • দ্বিতীয় ধাপ: পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলন করুন।
  • তৃতীয় ধাপ: আবেদন ফি, ছবি, স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় নথির ডিজিটাল কপি প্রস্তুত রাখুন।

এই পদ্ধতির সুবিধা হলো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সিদ্ধান্ত নিতে কম সময় লাগে। তবে সীমাবদ্ধতাও আছে। চূড়ান্ত পদসংখ্যা, যোগ্যতা বা পরীক্ষার ধরন বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তিত হলে প্রস্তুতির পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হতে পারে।

সিদ্ধান্তের আগে যে ভুলগুলো এড়াবেন

নিয়োগ-সংক্রান্ত খবরে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয় পদসংখ্যা, ছাড়পত্র ও আবেদন শুরুর সময় নিয়ে। ১ হাজার ৮৫৫টি পদ ছাড়পত্রের আওতায় থাকলেও সব পদের বিজ্ঞপ্তি একই সময়ে প্রকাশিত হবে, এমন তথ্য দেওয়া হয়নি।

  • প্রথমত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি মনে করা।
  • সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদ ও অন্যান্য শূন্য পদকে একই হিসেবে ধরা।
  • বেতনস্কেল দেখে যোগ্যতার শর্ত না পড়া।
  • ভুয়া ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ প্রদান করা।
  • সবশেষে বর্ধিত সময়সীমাকে আবেদন করার শেষ তারিখ হিসেবে বোঝা।

বাস্তব প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম হলো, বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত আলাদা করে টিক চিহ্ন দিয়ে যাচাই করা। বিশেষ করে বয়স গণনার তারিখ, আবেদন ফি, কোটার শর্ত ও পরীক্ষার ধাপ বাদ দিলে পরে সংশোধনের সুযোগ নাও থাকতে পারে।

প্রশ্নোত্তর

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগের ছাড়পত্র কতদিন কার্যকর?

ছাড়পত্রের বর্ধিত মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত। ফলে এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মোট কতটি পদে নিয়োগের ছাড়পত্র রয়েছে?

সদর দপ্তর পর্যায়ে ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

ছাড়পত্র বাড়লেই কি আবেদন শুরু হয়েছে?

না। ছাড়পত্র প্রশাসনিক অনুমোদনের অংশ। তাই আবেদন শুরু হয়েছে কি না জানতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।

জেলা পর্যায়ে কোন পদগুলো রয়েছে?

জেলা পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও আয়া পদে মোট ১৮৮টি শূন্য পদ রয়েছে।

অফিস সহায়ক পদের বেতনস্কেল কত?

অফিস সহায়ক বা এমএলএসএস পদটি ২০তম গ্রেডের। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এর বেতনস্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

নিয়োগ শেষ হওয়ার পর কী করতে হবে?

নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হলে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে জানাতে হবে।

Scroll to Top