বার্ধক্যের আর্থিক সুরক্ষায় নতুন মাইলফলক ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি অবদানভিত্তিক জাতীয় কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিক নিয়মিত চাঁদা জমা দিয়ে ৬০ বছর বয়সের পর আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন। সমৃদ্ধ ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আদলে চালু হওয়া এই স্কিম প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরির বাইরের কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক নিরাপত্তার দরজা খুলে দিয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি এখন প্রায় ৪ লাখ নিবন্ধনকারী নিয়ে একটি পরিণত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
এই স্কিমকে শুধু একটি পেনশন প্রকল্প হিসেবে দেখলে ভুল হবে। প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে ‘কল্যাণনির্ভর’ থেকে ‘অবদাননির্ভর’ ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রথম ধাপ। এত দিন রাষ্ট্র সীমিত ভাতা দিয়ে দরিদ্র ও প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তা করেছে, কিন্তু এখন নাগরিকরাই নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করছেন, আর রাষ্ট্র তাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ইতিহাসে একটি বাঁকবদলকারী উদ্যোগ করে তুলেছে।
সরকারি পেনশন আর সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মধ্যে পার্থক্য কী?
সরকারি পেনশন ব্যবস্থা অ-অবদানভিত্তিক এবং শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য, যেখানে সর্বজনীন পেনশন স্কিম অবদানভিত্তিক এবং দেশের সব শ্রেণির নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান রাজধানীতে তার কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পার্থক্য স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি পেনশনে কর্মচারীদের নিজের পকেট থেকে কোনো চাঁদা দিতে হয় না, রাষ্ট্র নিজস্ব রাজস্ব থেকে এই দায় বহন করে। কিন্তু সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত চাঁদা জমা দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা তৈরি করেন। নিচের তালিকায় দুই ব্যবস্থার মূল পার্থক্যগুলো দেখে নেওয়া যাক:
| বিষয় | সরকারি পেনশন | সর্বজনীন পেনশন স্কিম |
|---|---|---|
| ভিত্তি | অ-অবদানভিত্তিক | অবদানভিত্তিক |
| যোগ্যতা | শুধু সরকারি চাকরিজীবী | সব নাগরিক (বেসরকারি, স্বকর্মে নিয়োজিত, প্রবাসী) |
| অর্থায়ন | রাষ্ট্রীয় রাজস্ব থেকে | ব্যক্তির নিয়মিত চাঁদা থেকে |
| সুবিধা | মাসিক পেনশন | আজীবন মাসিক পেনশন + কর সুবিধা |
ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জনাব রহিম এর উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। তিনি ইতিমধ্যে ‘প্রগতি’ স্কিমে নাম লিখিয়েছেন, কারণ তার প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবসর তহবিল ছিল না। তার মতো লাখো বেসরকারি খাতের কর্মীর জন্য এই স্কিম প্রথমবারের মতো একটি নির্ভরযোগ্য, রাষ্ট্র-সমর্থিত অবসরকালীন সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চারটি কর্মসূচি কী কী এবং কারা অংশ নিতে পারবেন?
দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় চারটি পৃথক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক তার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী উপযুক্ত স্কিম বেছে নিতে পারেন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই বিভাজনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনা, যাতে কেউ আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে বাদ না পড়েন।
- প্রবাস স্কিম: প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত, যাতে বিদেশে অবস্থানকালেও তারা দেশে ফেরার পর বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
- প্রগতি স্কিম: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য, যেখানে কর্মী ও নিয়োগকর্তা যৌথভাবে চাঁদা প্রদান করেন।
- সুরক্ষা স্কিম: স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য—যেমন কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার ও তাঁতি।
- সমতা স্কিম: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা, যেখানে সরকার অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয়।
সমতা স্কিমের বিশেষত্ব হলো, একজন গ্রাহক মাসে ৫০০ টাকা জমা দিলে সরকার সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে মোট ১ হাজার টাকার চাঁদা নিশ্চিত করে। অর্থাৎ নিম্ন আয়ের মানুষের জমাকৃত অর্থ সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় প্রণোদনা। অন্যদিকে প্রগতি স্কিমে কর্মী ও নিয়োগকর্তা যৌথভাবে চাঁদা দেওয়ায় বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম পড়ে।
নিবন্ধন ও চাঁদা জমার প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?
নিবন্ধন ও চাঁদা জমার প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাতে যেকোনো নাগরিক ঘরে বসেই স্কিমে যুক্ত হতে পারেন। নিবন্ধন ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতোমধ্যে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে চাঁদা জমা দেওয়ার সুবিধাও চালু করা হয়েছে, যা গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, বিভিন্ন এনজিও এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এই সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সহজে নিবন্ধন করতে পারেন।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে কী কী আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়?
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীরা একাধিক আর্থিক সুবিধা পান, যা এটিকে সাধারণ সঞ্চয় প্রকল্প থেকে আলাদা করে তোলে। ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশন তহবিল পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় সরকার নিজে বহন করে, ফলে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা সরাসরি গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়—কোনো মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান এই মুনাফার অংশ কেটে নেয় না।
এই স্কিমের প্রধান আর্থিক সুবিধাগুলো হলো:
- মাসিক চাঁদার বিপরীতে কর রেয়াত সুবিধা।
- প্রাপ্ত পেনশনের ওপর সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত সুবিধা।
- ৬০ বছর পূর্তির পর পেনশন তহবিলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ।
- তহবিল ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক খরচ সরকার বহন করায় সম্পূর্ণ মুনাফা গ্রাহকের হিসাবে জমা।
- আজীবন নিশ্চিত মাসিক পেনশন সুবিধা।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে আমি যদি এখন চাকরি ছেড়ে দিই বা ব্যবসা পরিবর্তন করি, তাহলে আমার জমাকৃত টাকার কী হবে? যেহেতু সর্বজনীন পেনশন স্কিম কোনো নির্দিষ্ট চাকরি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং ব্যক্তির নিজস্ব হিসাবে পরিচালিত হয়, তাই চাকরি বা পেশা পরিবর্তন হলেও জমাকৃত অর্থ ও তার ওপর অর্জিত মুনাফা অক্ষত থাকে এবং গ্রাহক চাইলে ভিন্ন স্কিমেও স্থানান্তর করতে পারেন।
জমাকৃত টাকা কি নিরাপদ? তহবিল কীভাবে পরিচালিত হয়?
জমাকৃত টাকা আইনি সুরক্ষা ও রক্ষণশীল বিনিয়োগ নীতির মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে, যদিও যেকোনো বিনিয়োগের মতোই এতে কিছুটা বাজার-সম্পর্কিত ঝুঁকি থাকতে পারে। ড. সুরাতুজ্জামান জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ এবং সরকার অনুমোদিত বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী বর্তমানে তহবিলের অর্থ নিরাপদ ও স্বল্প-ঝুঁকিপূর্ণ খাতে, বিশেষ করে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তহবিলের আকার বাড়লে ঝুঁকি ও মুনাফার ভারসাম্য বিবেচনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও বহুমুখী করা হবে। অর্থাৎ তহবিল বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ কৌশলও ধীরে ধীরে বিবর্তিত হবে, তবে শুরুতে নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক পেনশন স্কিম কেন প্রয়োজন?
দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান নাগরিকদের চাহিদা বিবেচনায় শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ পদ্ধতির আওতায় ইসলামিক পেনশন স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় একজন আন্তর্জাতিক পরামর্শক শরিয়াহসম্মত কাঠামো ও বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়নের কাজ করছেন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সুদভিত্তিক বিনিয়োগে আপত্তি থাকা নাগরিকরাও নির্দ্বিধায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বাড়ানো। ড. সুরাতুজ্জামান নিজেই স্বীকার করেন, যেহেতু এটি একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি, তাই অনেকেই এর সুফল সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি অবগত নন। বিশেষ করে যারা আগে কখনো প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয় বা বিনিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না, তাদের কাছে এই ধারণা বোধগম্য করে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ।
তবে তিনি আশাবাদী যে সময়ের সঙ্গে সফল বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, ডিজিটাল সেবা এবং নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে ৪ কোটি মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, যা বর্তমান নিবন্ধন সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে গ্রামীণ পর্যায়ে প্রচার, সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সর্বজনীন পেনশন স্কিম দীর্ঘমেয়াদে দেশের পুঁজিবাজার ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের একটি নতুন উৎস তৈরি করতে পারে। বিশ্বের যেসব দেশে পেনশন তহবিল পরিণত পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে এই তহবিল প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অর্থায়নের উৎস হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশেও তহবিলের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
কেন এখনই সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়া উচিত?
বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়া উচিত, কারণ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় শক্তি। চেয়ারম্যান ড. সুরাতুজ্জামানের ভাষায়, অল্প অল্প করে নিয়মিত সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। যত আগে কেউ স্কিমে যুক্ত হবেন, চাঁদা জমার মেয়াদ তত দীর্ঘ হবে এবং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফাও তত বেশি জমা হওয়ার সুযোগ পাবে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট এবং সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক চ্যানেলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আপডেট তথ্য পাওয়া যায়। যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ নিয়মকানুন যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ একটি নতুন কর্মসূচি হিসেবে সময়ের সঙ্গে এর নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রায়জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে কীভাবে নিবন্ধন করা যায়?
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করা যায়, এবং চাঁদা জমা দেওয়া যায় ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা টেলিটকের মাধ্যমে।
কোন স্কিম আমার জন্য উপযুক্ত?
প্রবাসীদের জন্য প্রবাস স্কিম, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রগতি স্কিম, স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য সুরক্ষা স্কিম এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সমতা স্কিম উপযুক্ত।
আমি চাকরি বা পেশা পরিবর্তন করলে আমার জমাকৃত টাকার কী হবে?
যেহেতু হিসাবটি ব্যক্তির নিজস্ব, চাকরি বা পেশা পরিবর্তন হলেও জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা অক্ষত থাকে এবং প্রয়োজনে ভিন্ন স্কিমে স্থানান্তর করা যায়।
এই তহবিলের টাকা কি নিরাপদ?
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী তহবিলের অর্থ বর্তমানে নিরাপদ ও স্বল্প-ঝুঁকিপূর্ণ খাতে, বিশেষ করে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
ইসলামিক পেনশন স্কিম কবে চালু হবে?
শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক পেনশন স্কিমের কাঠামো ও বাস্তবায়ন কৌশল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় প্রণয়নের কাজ চলছে; নির্দিষ্ট চালুর তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
৬০ বছর বয়সের আগে কি টাকা তোলা যায়?
৬০ বছর পূর্তির পর তহবিলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে; এর আগে উত্তোলনের নির্দিষ্ট নিয়মকানুন জানতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক চ্যানেল দেখা উচিত।


