আনারসের দাম কত ২০২৬ | আজকের বাজারে পাইকারি ও খুচরা মূল্য

গ্রীষ্ম শুরু হতেই মিষ্টি রসালো আনারসের দিকে অনেকের নজর পড়ে। কিন্তু বাজারে গিয়ে আনারসের দাম কত জানতে চাইলে সরাসরি সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন। কেউ পিসে বিক্রি করে, কেউ ওজন করে। মধুপুরের টক জাত নাকি সিলেটের মিষ্টি জাত—দামের তারতম্য অনেক। এই পোস্টে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ও খুচরা দাম, মৌসুমভিত্তিক দামের পরিবর্তন এবং কোথায় কম দামে ভালো মানের আনারস পাবেন তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

গত মাসের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকার খুচরা বাজারে একটি মাঝারি আকারের আনারস (প্রায় ১-১.৫ কেজি) ৪০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আকার বড় কিংবা ‘কিউই’ বা ‘হানিকুইন’ জাতের হলে দাম ৮০ টাকা ছুঁয়েছে। অন্যদিকে পাইকারি পর্যায়ে একই মানের আনারস ২৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যায়। তবে পাইকারি বাজারে একসঙ্গে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ পিস কিনতে হয়।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উৎপাদন অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় দাম তুলনামূলক কম। সিলেট নগরীর খুচরা বাজারে একটি আনারস ৩৫-৫০ টাকায় কেনা যায়। অন্যদিকে রাজশাহীতে আনারসের তেমন চাহিদা না থাকায় দাম আরও কম—প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মতো জেলায় সরবরাহ বেশি থাকায় পাইকারি দাম ২০ টাকায় নেমে আসে, কিন্তু খুচরায় তা ৪৫ টাকা ছুঁয়েছে।

আজকের বাংলাদেশে আনারসের বাজারদর (শহরভিত্তিক)

নিচের টেবিলটি ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহের বাজার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে পাইকারি দাম বলতে শতভাগ পাইকারি বাজার (যেখানে পাইকাররা কিনে থাকেন) বোঝানো হয়েছে।

শহর/অঞ্চলখুচরা মূল্য (পিস)পাইকারি মূল্য (পিস)বিশেষত্ব/মন্তব্য
ঢাকা ও আশপাশ
কারওয়ান বাজার (ঢাকা)৫০-৭০ টাকা৩৫-৪৫ টাকামধুপুর ও সিলেটের আনারস মেশানো থাকে
নিউ মার্কেট (ঢাকা)৫৫-৬৫ টাকাসিলেটি মিষ্টি জাতের চাহিদা বেশি
মহাখালী বাজার৪৫-৬০ টাকা২৮-৩৫ টাকাসরাসরি ট্রাকে করে আনা আনারস বেশি পাওয়া যায়
চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম নগর৪০-৫৫ টাকা২৫-৩২ টাকারাঙ্গামাটি এলাকার ‘কিউই’ জাতের উচ্চ চাহিদা
কক্সবাজার৪৫-৬০ টাকা৩০-৩৫ টাকাপর্যটক এলাকা বলে দাম সামান্য বেশি
সিলেট বিভাগ
সিলেট নগর৩৫-৫০ টাকা২২-২৮ টাকাউৎপাদন এলাকা কাছাকাছি, দাম কম
মৌলভীবাজার৩০-৪৫ টাকা২০-২৫ টাকাস্থানীয় হাটে আরও সস্তা পাওয়া যায়
রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ
রাজশাহী৩০-৪০ টাকা১৮-২২ টাকাচাহিদা তুলনামূলক কম, দাম কম স্থিতিশীল
খুলনা৪০-৫০ টাকা২৫-৩০ টাকাভারতীয় বর্ডার থেকে আসা আনারসও পাওয়া যায়

পাইকারি ও খুচরা ব্যবধানের কারণ

খুচরা বাজারে দাম বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো মধ্যস্বত্বভোগী ও পরিবহন খরচ। গাজীপুরের টঙ্গীর পাইকারি হাটে একটি আনারস যখন ২৫ টাকায় বিক্রি হয়, সেটি কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে সময় ও শ্রম লাগে। এতে দাম ৪৫-৫০ টাকায় পৌঁছে যায়। আবার কিছু বিক্রেতা আনারস কেটে টুকরো করে বিক্রি করেন, তখন দাম ওজনভিত্তিক হয়ে যায়।

মৌসুমভেদে দাম কীভাবে বদলায়?

আনারসের প্রধান মৌসুম এপ্রিল থেকে জুলাই। এই সময় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম তুলনামূলক কম থাকে। মৌসুমের শুরুতে (এপ্রিল) দাম ১০-১৫% বেশি থাকে। মাঝামাঝি (মে-জুন) সময় সবচেয়ে সস্তা পাওয়া যায়। জুলাইয়ের শেষে যখন সরবরাহ কমতে থাকে, তখন দাম আবার বাড়ে। বছরের বাকি সময় (আগস্ট-মার্চ) আনারস আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে (বিশেষত মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড), তখন দাম অনেক বেড়ে যায়—প্রতি পিস ১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কোথায় পাবেন সবচেয়ে কম দামে আনারস?

ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও রাঙ্গামাটিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বা সাপ্তাহিক হাটে কিনলে সবচেয়ে কম দাম পড়ে। এছাড়া ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোর মধ্যে মিরপুর-১ ও শ্যামপুর বাজারে দাম তুলনামূলক কম। ‘কৃষক বাজার’ ও ‘সরকারি তেলাবাজার’ নামে পরিচিত কিছু পাইকারি হাট থেকে একসঙ্গে অনেক পিস কিনলেও দাম কম পাওয়া যায়।

ভালো আনারস চেনার উপায়

দাম নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে জেনে নিন ভালো আনারস দেখতে কেমন। একটি পাকা আনারসে হালকা মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়, উপরের খোসা কিছুটা নরম হয়, এবং টানা পাতাগুলো সহজে উঠে আসে। গোড়ায় সাদা পচন বা কালো দাগ থাকলে সেটি বাসি। ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস বেশি মিষ্টি, অন্যদিকে ‘কিউই’ জাত টক-মিষ্টি।

ভবিষ্যৎ বাজার বিশ্লেষণ

এপ্রিলে তুলনামূলক কোন বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সরবরাহ ভালো থাকে। ফলে মে-জুন মাসে দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা কম। জুনের শেষে পাহাড়ি ঢল বা বন্যা না হলে দাম স্থিতিশীল থাকবে। তবে পরিবহন খরচে সামান্য হেরফের হতে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে উত্তম সময় দাম ও মান বিবেচনায় মে মাসকেই বলা চলে।

আনারসের দাম কত সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: একটি ভালো মানের আনারসের আদর্শ দাম কত?
উত্তর: ২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকায় একটি ভালো মানের মাঝারি সাইজের আনারস ৫০-৬৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে এটি ৩৫-৫০ টাকায় কেনা সম্ভব।

প্রশ্ন ২: পাইকারি বাজারে কত পিস কিনতে হয়?
উত্তর: সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ পিস হলেই পাইকারি দর পাওয়া যায়। কৃষক পর্যায়ে গেলে এক ট্রাক বা আধা ট্রাক (হাজার পিসের উপরে) নিলে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া সম্ভব।

প্রশ্ন ৩: কি ওজনভিত্তিক দাম জানতে চাইলে করণীয়?
উত্তর: আনারস সাধারণত পিসেই বিক্রি হয়। তবে দাম খুব বেশি হলে ওজন করে নিতে পারেন। ১ কেজি আনারস খুচরায় ৫০-৬০ টাকা পড়ে। অনেক দোকান ১ টুকরো (¼ অংশ) ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করে।

প্রশ্ন ৪: রপ্তানি বা বিদেশি আনারসের দাম কেমন?
উত্তর: থাই বা ফিলিপাইনের আনারস শুধু বিলাসবহুল সুপারশপে পাওয়া যায়, যার দাম প্রতি পিস ১৮০-২৫০ টাকা। সেগুলো সাধারণত টিনজাত করে বিক্রি হয়।

প্রশ্ন ৫: কোন জাতের আনারস সবচেয়ে দামি?
উত্তর: রাঙ্গামাটি অঞ্চলের ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাহিদা ও স্বাদের দিক থেকে দামি। খুচরায় এটির দাম অন্যদের থেকে ১০-১৫ টাকা বেশি পড়ে।

শেষকথা

আনারসের দাম কত এমন প্রশ্নের একক উত্তর নেই। এটি নির্ভর করে আপনি কোথায় কিনছেন, কোন জাত কিনছেন আর মৌসুম কোন দিকে। সব মিলিয়ে, মে এবং জুন মাস সাশ্রয়ী দরে ভালো মানের আনারস কিনতে সেরা সময়। এ সময় খুচরা বাজারে ৪৫-৬০ টাকার মধ্যে একটি মাঝারি সাইজের আনারস পাবেন। পাইকারি বাজার বা সিলেটের মত অঞ্চলে গেলে ২০-৩০ টাকাতেও পাবেন। একটু সময় নিয়ে হাটে ঘুরলে আরও কম দামে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

Scroll to Top