সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ কত

সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ কত—নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ভাতাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা পাবেন। ঢাকায় এই পরিমাণ হবে ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা। আর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের ভাতাসহ বেতন দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। তবে পূর্ণ বেতন-ভাতা পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

  • নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
  • এছাড়াও মূল বেতন তিন ধাপে বাড়বে এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ কার্যকর হবে।
  • নতুন বাড়িভাড়া ও অধিকাংশ ভাতা চালু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি।
  • সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন কত

সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা হবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। এই হিসাব ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকার সঙ্গে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও মুঠোফোন ভাতা যোগ করে করা হয়েছে। তবে ঢাকায় বাড়িভাড়া বেশি হওয়ায় মোট বেতন দাঁড়াবে ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা।

বেতনের উপাদানজেলা ও উপজেলাঢাকা
মূল বেতন২০,০০০ টাকা২০,০০০ টাকা
বাড়িভাড়া৯,০০০ টাকা১২,০০০ টাকা
চিকিৎসা ভাতা৩,০০০ টাকা৩,০০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা৬০০ টাকা৬০০ টাকা
টিফিন ভাতা৫০০ টাকা৫০০ টাকা
মুঠোফোন ভাতা১৫০ টাকা১৫০ টাকা
মোট৩৩,২৫০ টাকা৩৬,২৫০ টাকা

তুলনার জন্য, ২০২৩ সালে ঘোষিত মজুরিকাঠামো অনুযায়ী দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে সরকারি চাকরির মোট বেতন ও পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি এক ধরনের আয় নয়; সরকারি বেতনের মধ্যে বিভিন্ন ভাতা ও চাকরিসংশ্লিষ্ট সুবিধা যুক্ত থাকে।

সর্বোচ্চ বেতন কত হবে

নতুন কাঠামোয় গাড়িসুবিধা বাদ দিয়ে সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ মাসিক বেতন হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এই বেতন পাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তাঁদের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এরপর ঢাকার বাড়িভাড়া ও নির্দিষ্ট ভাতাগুলো যোগ করলে মোট পরিমাণটি দাঁড়ায়।

উপাদানপরিমাণ
মূল বেতন১,৭২,০০০ টাকা
ঢাকার বাড়িভাড়া, ৪০ শতাংশ৬৮,৮০০ টাকা
চিকিৎসা ভাতা৪,০০০ টাকা
আপ্যায়ন ভাতা২,০০০ টাকা
মুঠোফোন ভাতা৫০০ টাকা
ধোলাই ভাতা৩০০ টাকা
মোট২,৪৭,৬০০ টাকা

এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবেরা সার্বক্ষণিক গাড়িসুবিধাসহ আরও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পান। তাই ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা তাঁদের মোট আর্থিক সুবিধার পূর্ণ হিসাব নয়।

গ্রেডভিত্তিক বেতনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

এক নম্বর গ্রেডে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই গ্রেডে ভাতা যোগ হলে মাসিক বেতন সোয়া দুই লাখ টাকার কাছাকাছি যেতে পারে। অন্যদিকে, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৯ম গ্রেডে যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তাদের মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। তাঁদের সর্বনিম্ন মোট বেতন হবে ৬০ হাজার টাকার কিছু বেশি।

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে, নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য আলাদা বিশেষ গ্রেড রাখা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সচিবদের মূল বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে কবে

মূল বেতন একবারে পুরোপুরি বাড়ছে না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন দেওয়া হবে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে এক ধরনের হার এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে আরেক ধরনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

  1. ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর: নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ যোগ হবে।
  2. ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন: নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
  3. ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে: বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

তবে বাড়িভাড়াসহ অধিকাংশ নতুন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে নতুন কাঠামোর পূর্ণ সুবিধা পেতে কর্মচারীদের আরও প্রায় দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে। মূল বেতন ও ভাতার কার্যকর তারিখ আলাদা—এটি হিসাব করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গে ১ জুলাই থেকে বকেয়া দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইনক্রিমেন্ট ও উচ্চতর গ্রেডের নিয়ম

সব সরকারি কর্মচারীর বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ হবে অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ না হলে ওই সময়ে ইনক্রিমেন্ট পাওয়া যাবে না। তাই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখটি আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে।

পদোন্নতি না পেলেও নির্দিষ্ট শর্তে উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ থাকবে। একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে এবং চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক থাকলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যেতে পারে। এরপরও পদোন্নতি না হলে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করে আরও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে একই পদের বিপরীতে একাধিক উচ্চতর গ্রেড নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য।

পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন ব্লকড পদের কর্মচারীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। বাস্তবে কারও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার আগে চাকরির রেকর্ড, সময়সীমা ও প্রযোজ্য প্রশাসনিক শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

বাড়িভাড়া ভাতা কীভাবে বদলাবে

নতুন বাড়িভাড়া ভাতা কর্মস্থল ও গ্রেডভেদে নির্ধারিত হয়েছে। তবে এসব হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তার আগে প্রচলিত হারেই বাড়িভাড়া দেওয়া হবে।

এলাকা১৬–২০ গ্রেড১০–১৫ গ্রেড৫–৯ গ্রেড১–৪ ও তদূর্ধ্ব
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন৬০%৫০%৪৫%৪০%
১১ সিটি করপোরেশন, সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকা৫০%৪০%৩৫%৩০%
অন্যান্য এলাকা৪৫%৩৫%৩০%২৫%

বর্তমান ও নতুন হার এক নয়। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে ৬৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়, যার ন্যূনতম পরিমাণ ৫ হাজার ৬০০ টাকা। অন্যদিকে, ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে হার ৬০ শতাংশ এবং ন্যূনতম বাড়িভাড়া ৬ হাজার ৪০০ টাকা।

১৬ হাজার ১ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে বর্তমান হার ৫৫ শতাংশ, ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা। এরপর ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেশি মূল বেতনে হার ৫০ শতাংশ, ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোনো হিসাব ধরে বেতন নির্ধারিত হবে।

ভাতা ও বিশেষ সুবিধার তালিকা

নতুন কাঠামোয় চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎসব, যাতায়াত ও দায়িত্বভিত্তিক ভাতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধিকাংশ নতুন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি চালু হবে। তাই মূল বেতন বাড়লেও সব ভাতা একই সময়ে হাতে আসবে না।

  • ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা মাসে ৩ হাজার টাকা। তবে ৫০ বছর ১ দিন বয়স থেকে অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত তা ৪ হাজার টাকা।
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য সন্তানপ্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা মিলবে।
  • বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হবে। আগে এটি ২০ শতাংশ ছিল।
  • চাকরিরত ও পেনশনভোগী উভয়ের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতা থাকবে।
  • ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা শিক্ষাসহায়ক ভাতা দেওয়া হবে।
  • এছাড়াও ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন।
  • সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে যাতায়াত ভাতা হবে ৬০০ টাকা।
  • পঞ্চম গ্রেড ও তার ওপরে মুঠোফোন ভাতা ৫০০ টাকা এবং তার নিচের গ্রেডে ১৫০ টাকা।

আপ্যায়ন ভাতায়ও পদভেদে পার্থক্য থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব ১ হাজার টাকা, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ টাকা এবং যুগ্ম সচিব বা সমমর্যাদার কর্মচারীরা ৬০০ টাকা পাবেন।

অন্যদিকে, পার্বত্য জেলায় কর্মরত কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ পাহাড়ি ভাতা পাবেন। জেলা সদর ও সদর উপজেলায় এই ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা হবে। হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় বিশেষ ভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ, তবে ৫ হাজার টাকার বেশি নয়।

সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে থাকা নবম গ্রেড ও তার ওপরের কর্মকর্তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ প্রশিক্ষণ ভাতা পাবেন। এছাড়াও বিশেষায়িত হাসপাতাল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কারাগার, ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও থাকবে।

পেনশন কত বাড়বে

পেনশন বৃদ্ধির হার পাঁচটি স্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে বৃদ্ধি পাবেন। তবে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা।

বর্তমান নিট পেনশনবৃদ্ধির হারউদাহরণ
৯,০০০ টাকা বা কম১০০%৯,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%বর্তমান পেনশনের ওপর ৭৫% যোগ
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%বর্তমান পেনশনের ওপর ৬৫% যোগ
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%বর্তমান পেনশনের ওপর ৬০% যোগ
৪০,০০১ টাকা বা বেশি৫৫%সর্বোচ্চ ৭০,২০০ টাকা পর্যন্ত

পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বয়সভেদে নির্ধারিত হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য সরকারের আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থার ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এরপর বেতন নির্ধারণ শেষ হলে কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির তথ্য ও আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর প্রস্তুত রাখুন।
  2. তারপর আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে প্রবেশ করুন।
  3. চাকরির গ্রেড, পদ, যোগদানের তারিখ ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করুন।
  4. অনলাইনে বেতন নির্ধারণের আবেদন সম্পন্ন করুন।
  5. সবশেষে প্রাপ্ত কাগজপত্র হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দিন।

কারও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন করতে হবে। তবে তথ্যের বানান, জন্মতারিখ ও যোগদানের তারিখে অমিল থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে। তাই অনলাইনে পাঠানোর আগে চাকরির নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

বেতন আদেশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্যের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট এবং নিজ দপ্তরের হিসাবরক্ষণ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

অর্থায়ন নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বড় প্রশ্ন হলো অতিরিক্ত অর্থের জোগান। দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে রাজস্ব আয় কতটা বাড়বে, সেই বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। একই সময়ে, বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য সরকারি ব্যয়ও চালু রাখতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হলেও তার বড় অংশ সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পথ হিসেবে ঋণ নেওয়া বা ব্যয় সাশ্রয়ের কথা আসতে পারে। তবে বাজেট ঘাটতি বাড়লে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি মেটানোর ফলে অর্থের জোগান বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের আয় বাড়ালেও এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব রাজস্ব আয়, বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির গতিপথের ওপর নির্ভর করবে।

সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

  • ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই সব ভাতা পুরোপুরি চালু হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
  • এছাড়াও মূল বেতন ও মোট বেতনকে একই বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা আলাদা করে যোগ হয়।
  • গাড়িসুবিধা ছাড়া সর্বোচ্চ বেতন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। তবে গাড়ি ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
  • পদোন্নতি না পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড মিলবে না। আট বছরের চাকরি, সন্তোষজনক রেকর্ড ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
  • অনলাইন পে ফিক্সেশনে ভুল তথ্য দিলে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্নোত্তর

সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার টাকা কি সবার জন্য একই?

না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০তম গ্রেডে মোট বেতন ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা। তবে ঢাকায় বাড়িভাড়া বেশি হওয়ায় একই গ্রেডে মোট ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা হতে পারে।

সর্বোচ্চ সরকারি বেতন কত?

গাড়িসুবিধা ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মাসিক বেতন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এতে মূল বেতন ও নির্দিষ্ট ভাতা রয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামো কবে থেকে কার্যকর?

কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে বাড়বে এবং সব নতুন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কবে পাওয়া যাবে?

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাসে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে।

নতুন কাঠামোয় কয়টি গ্রেড থাকবে?

২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদোন্নতি না হলে কি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে?

নির্দিষ্ট শর্তে পাওয়া যেতে পারে। একই পদে আট বছর পূর্ণ করে চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ থাকে।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণে কী লাগবে?

জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির তথ্য ও আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর প্রয়োজন হবে। তবে এনআইডি না থাকলে চাকরির নথির তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।

সর্বোচ্চ পেনশন কত হবে?

৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি হারে বৃদ্ধি পাবেন।

কর্মচারীদের জন্য বাস্তব হিসাব

নতুন কাঠামো বোঝার সময় তিনটি তারিখ আলাদা করে লিখে রাখা সবচেয়ে কার্যকর: ২০২৬ সালের ১ জুলাই কাঠামোর কার্যকারিতা, ২০২৭ সালের ১ জুলাই পূর্ণ মূল বেতন এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি নতুন ভাতার কার্যকারিতা। এতে বেতন স্লিপে দেখা অঙ্কের সঙ্গে ঘোষিত মোট সুবিধার পার্থক্য সহজে বোঝা যাবে।

সরকারি কর্মচারীদের তাই প্রথমে নিজের গ্রেড, কর্মস্থল, মূল বেতন ও যোগদানের তারিখ যাচাই করা উচিত। এরপর আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সবশেষে, চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে নিজ দপ্তরের প্রশাসন শাখা ও সরকারি প্রজ্ঞাপনকে অগ্রাধিকার দিন।

Scroll to Top