২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে

২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে: ৫ তথ্য

২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে পরীক্ষা হবে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য। আগে দাখিল ও এসএসসি ধারার পরীক্ষার্থীরা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ধরে প্রস্তুতি নিতেন। এবার ১৩টি সাধারণ ও নৈর্বাচনিক বিষয়ে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে। তবে বাংলা প্রথম পত্রে পাঠ্যক্রমের পার্থক্য থাকায় দুই ধারার প্রশ্নপত্র আলাদা থাকবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে থাকা বিষয় কোড অনুযায়ী আগের পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে হবে।

  • নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ১৩টি বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকবে।
  • তবে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র আলাদা হবে।
  • অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
  • প্রশ্নপত্রের মিল থাকলেও বিষয় কোড ও পরীক্ষার ধরন যাচাই করা জরুরি।

কোন ১৩ বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্ন হবে?

২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে নির্ধারিত হয়েছে বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে গার্হস্থ্যবিজ্ঞান পর্যন্ত। তালিকায় ভাষা, বিজ্ঞান, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবহারিক ধারার বিষয় রয়েছে। ফলে নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা নিচের বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।

  • বাংলা দ্বিতীয় পত্র — বিষয় কোড ১০২
  • ইংরেজি প্রথম পত্র — বিষয় কোড ১০৭
  • ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র — বিষয় কোড ১০৮
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি — বিষয় কোড ১৫৪
  • গণিত — বিষয় কোড ১০৯
  • বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় — বিষয় কোড ১৫০
  • পদার্থবিজ্ঞান — বিষয় কোড ১৩৬
  • রসায়ন — বিষয় কোড ১৩৭
  • জীববিজ্ঞান — বিষয় কোড ১৩৮
  • উচ্চতর গণিত — বিষয় কোড ১২৬
  • পৌরনীতি ও নাগরিকতা — বিষয় কোড ১৪০
  • কৃষিশিক্ষা — বিষয় কোড ১৩৪
  • গার্হস্থ্যবিজ্ঞান — বিষয় কোড ১৫১

তালিকাটি দেখে একটি বিষয় পরিষ্কার: অভিন্ন প্রশ্নের সিদ্ধান্ত শুধু আবশ্যিক বিষয়ের জন্য নয়। বরং নৈর্বাচনিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও নিয়মিত দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র এক রাখা হবে। তাই বিষয় নির্বাচন করার সময় শিক্ষার্থীকে নিজের রেজিস্ট্রেশন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

বাংলা প্রথম পত্র আলাদা কেন?

বাংলা প্রথম পত্রে অভিন্ন প্রশ্ন না হওয়ার প্রধান কারণ হলো দাখিল ও সাধারণ শিক্ষা ধারার পাঠ্যক্রমে নির্দিষ্ট পার্থক্য। বিষয় কোড ১০১ একই রাখা হলেও পাঠ্যবস্তু এক নয়। ফলে একই প্রশ্নপত্র ব্যবহার করলে কোনো একটি ধারার শিক্ষার্থী অসম সুবিধা বা অসুবিধায় পড়তে পারে।

এই কারণে ২০২৭ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র আলাদাভাবে প্রণয়ন করা হবে। অর্থাৎ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে প্রশ্ন এক হলেও বাংলা প্রথম পত্রে দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ ধারার প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।

লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, বিষয় কোড একই হওয়া মানেই প্রশ্নপত্র অভিন্ন হওয়া নয়। বাংলা প্রথম পত্রের ক্ষেত্রে বিষয় কোড ১০১ নির্ধারিত থাকলেও পাঠ্যক্রমের পার্থক্যই প্রশ্নপত্র আলাদা রাখার ভিত্তি হয়েছে।

নিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীদের নিয়ম কি একই?

২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে ব্যবস্থা কেবল নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীদের এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়নি। তাই তাদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আগের নিয়মই কার্যকর থাকবে।

রিটেক পরীক্ষার্থী বলতে সাধারণত এমন পরীক্ষার্থীকে বোঝানো হয় যিনি আগের পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি বা নির্ধারিত নিয়মে পুনরায় পরীক্ষা দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর প্রকৃত অবস্থান রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও বোর্ডের নথিতে যাচাই করতে হবে। সুতরাং অনুমানের ভিত্তিতে নিয়মিত বা রিটেক শ্রেণি নির্ধারণ করা নিরাপদ নয়।

  • নিয়মিত পরীক্ষার্থী: তালিকাভুক্ত ১৩টি বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।
  • বাংলা প্রথম পত্র: তবে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্যও প্রশ্নপত্র আলাদা থাকবে।
  • অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থী: রেজিস্ট্রেশন কার্ডে থাকা বিষয় কোড অনুযায়ী পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।

প্রশ্নপত্র এক হলে প্রস্তুতিতে কী বদলাবে?

অভিন্ন প্রশ্নপত্রের সিদ্ধান্তে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মূল ভিত্তি হবে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যক্রম, বিষয় কোড এবং বোর্ড নির্ধারিত সিলেবাস। শুধু অন্য ধারার পরীক্ষার্থীদের নোট বা সাজেশন অনুসরণ করলেই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হবে না। বরং নিজের ধারার বই, অধ্যায়ভিত্তিক শিখনফল এবং বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার নির্দেশনা আগে গুরুত্ব পাবে।

উদাহরণ হিসেবে গণিতের বিষয় কোড ১০৯ উভয় ধারায় একই প্রশ্নপত্রের আওতায় থাকলেও পরীক্ষার্থীকে নিজের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী অনুশীলন করতে হবে। একইভাবে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের ধরন অভিন্ন হলেও ব্যবহারিক প্রস্তুতি ও শ্রেণিকাজের নির্দেশনা আলাদা হতে পারে।

  1. প্রথমে রেজিস্ট্রেশন কার্ডে নিজের পরীক্ষার ধরন ও বিষয় কোড মিলিয়ে নিন।
  2. এরপর ১৩টি অভিন্ন বিষয়ের জন্য নিজ ধারার পাঠ্যক্রম ধরে অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিন।
  3. বাংলা প্রথম পত্রের জন্য দাখিল বা এসএসসি ধারার নিজস্ব পাঠ্যক্রম অনুসরণ করুন।
  4. বিষয় কোড ১০২, ১০৭, ১০৮, ১৫৪ ও ১০৯-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কোড আলাদা তালিকায় লিখে রাখুন।
  5. সবশেষে মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রযোজ্য প্রশ্নের ধরন ও সময় ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করুন।

আসল পরিবর্তনটি প্রশ্নপত্রে, পাঠ্যক্রমে নয়। তাই অভিন্ন প্রশ্নের খবর শুনে বই বা নির্ধারিত সিলেবাস বদলে ফেলা ঠিক হবে না। প্রস্তুতির সময় বোর্ডের অনুমোদিত তথ্যই চূড়ান্ত ভিত্তি হওয়া উচিত।

প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর করণীয়

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী, পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিয়মিত, অনিয়মিত এবং রিটেক পরীক্ষার্থীদের তথ্য আলাদা করে যাচাই করা। কারণ একই শ্রেণির সব পরীক্ষার্থীকে এক নিয়মে ধরে নিলে ভুল প্রশ্নপত্র, ভুল বিষয় কোড বা ভুল পরীক্ষার্থী তালিকার সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় যাচাই

  • প্রথমে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের তালিকা আলাদা করে প্রস্তুত করা।
  • এরপর অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন তথ্য মিলিয়ে দেখা।
  • ১৩টি অভিন্ন বিষয়ের বিষয় কোড সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা।
  • এছাড়া বাংলা প্রথম পত্রের পৃথক প্রশ্নপত্রের বিষয়টি শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের জানানো।
  • সবশেষে পরীক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনা শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে দেওয়া।

একজন শহুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হতে পারে: একই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থী একসঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই তাদের সবার জন্য একই প্রশ্নপত্রের কথা ধরে নিলে ভুল হবে। বরং রেজিস্ট্রেশন কার্ডের তথ্য দেখে আলাদা নির্দেশনা দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।

সাধারণ ভুলগুলো কী?

২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে সিদ্ধান্তটি বুঝতে গিয়ে কয়েকটি ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। প্রশ্নপত্র এক হওয়া মানে সব বিষয়ের পাঠ্যক্রম, বই বা পরীক্ষার সব নিয়ম এক হয়ে যাওয়া নয়। একইভাবে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে অভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও বাংলা প্রথম পত্রে পৃথক প্রশ্ন থাকবে।

  • একটি ভুল ধারণা: সব বিষয়ে প্রশ্ন এক হবে।
    সঠিক তথ্য: ১৩টি নির্ধারিত বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্ন হবে।
  • আরেকটি ভুল ধারণা: বাংলা দুই পত্রেই প্রশ্ন এক হবে।
    সঠিক তথ্য: বাংলা দ্বিতীয় পত্র অভিন্ন হলেও বাংলা প্রথম পত্র আলাদা।
  • তৃতীয় ভুল ধারণা: রিটেক পরীক্ষার্থীরাও নতুন নিয়মে পরীক্ষা দেবে।
    সঠিক তথ্য: অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের নিয়ম বহাল।
  • চতুর্থ ভুল ধারণা: বিষয় কোড একই হলেই প্রশ্নপত্র এক হবে।
    সঠিক তথ্য: প্রশ্নপত্রের ধরন বোর্ডের নির্দিষ্ট নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।

দ্রুত প্রশ্নোত্তর

২০২৭ সালের দাখিল-এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন ১৩ বিষয়ে কি সব পরীক্ষার্থীর জন্য?

না। নতুন নিয়মটি নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য। অন্যদিকে অনিয়মিত ও রিটেক পরীক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন কার্ডে থাকা বিষয় কোড অনুযায়ী আগের নিয়মে পরীক্ষা দেবে।

বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বিষয় কোড কত?

বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বিষয় কোড ১০২। ২০২৭ সালের নিয়মিত দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।

গণিতের প্রশ্নপত্র কি দাখিল ও এসএসসিতে একই?

নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য গণিতের প্রশ্নপত্র অভিন্ন হবে। গণিতের বিষয় কোড ১০৯। তাই পরীক্ষার আগে রেজিস্ট্রেশন তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

রিটেক পরীক্ষার্থী কি ১৩ বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্ন পাবে?

রিটেক পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। তারা রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখ থাকা বিষয় কোড অনুযায়ী পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।

কোন কোন বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন এক হবে?

পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং উচ্চতর গণিত অভিন্ন প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে। এগুলোর বিষয় কোড যথাক্রমে ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮ ও ১২৬।

Scroll to Top