ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করলে কত টাকা ফেরত পাওয়া যায় ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান রিফান্ড নীতিমালা অনুযায়ী ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করলে কত টাকা ফেরত পাওয়া যায় তা নির্ভর করে যাত্রা শুরুর কত ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করা হচ্ছে তার ওপর। যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করলে শুধুমাত্র নির্ধারিত পরিষেবা চার্জ কাটা হয়। ৪৮ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করলে ভাড়ার ২৫%, ২৪ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৫০%, ১২ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ৭৫% কাটা হয়। আর যাত্রার ৬ ঘণ্টার কম সময় বাকি থাকলে কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হয় না। অনলাইনে রিফান্ডের টাকা সর্বোচ্চ ৮ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়।

ঈদ, ছুটির মৌসুম বা অন্য যেকোনো সময়ে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেক যাত্রীরই টিকিট বাতিল করার প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একই দিনের ট্রেন চলাচলে বড় প্রভাব না পড়লেও পরবর্তী দিনের কিছু ট্রেন বিলম্বিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যারা ভ্রমণ বাতিল করতে চান, তাদের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের রিফান্ড নীতিমালা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Summary of Article

ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করলে কত টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

ফেরত পাওয়ার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে যাত্রা শুরুর আগে কত সময় বাকি আছে তার ওপর। যত আগে টিকিট বাতিল করবেন, তত কম অর্থ কাটা হবে এবং বেশি টাকা ফেরত পাবেন।

টিকিট বাতিলের সময়কত টাকা বা কত শতাংশ কাটা হবেফেরতের অবস্থা
যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা আগেএসি: ৪০ টাকা, প্রথম শ্রেণি: ৩০ টাকা, অন্যান্য: ২৫ টাকা পরিষেবা চার্জবাকি অর্থ ফেরত
৪৮ ঘণ্টার কম কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশিভাড়ার ২৫%৭৫% ফেরত
২৪ ঘণ্টার কম কিন্তু ১২ ঘণ্টার বেশিভাড়ার ৫০%৫০% ফেরত
১২ ঘণ্টার কম কিন্তু ৬ ঘণ্টার বেশিভাড়ার ৭৫%২৫% ফেরত
৬ ঘণ্টার কমকোনো রিফান্ড নেই০ টাকা

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে টিকিট রিফান্ডের ক্ষেত্রে পরিষেবা চার্জ ফেরতযোগ্য নয়। তাই টিকিট বাতিলের আগে সম্ভাব্য ফেরতের পরিমাণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।যাত্রার যত আগে টিকিট ক্যানসেল করবেন, তত বেশি টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো অর্থ ফেরত পাওয়া যায় না।

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার পর কেন রিফান্ড নিয়ে আলোচনা বাড়ল?

ট্রেন চলাচলে সম্ভাব্য বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রী ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারেন, তাই রিফান্ড নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, একই দিনে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব না পড়লেও রাতে বা ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর নির্ধারিত ট্রেনগুলো বিলম্বিত হতে পারে। এর ফলে পরবর্তী দিনের কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পরে ছাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, যদি কোনো যাত্রী যাত্রা না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তিনি বিদ্যমান রিফান্ড নীতিমালা অনুসরণ করে টিকিট বাতিল করতে পারবেন এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাবেন।

  • দুর্ঘটনার কারণে ট্রেন বিলম্বিত হলে রিফান্ডের নিয়ম একই থাকে।
  • টিকিট বাতিলের সময়ই সম্ভাব্য ফেরতের পরিমাণ দেখা যায়।
  • অনলাইনে আবেদন করলেও টাকা সঙ্গে সঙ্গে ফেরত আসে না।
  • রিফান্ডের অর্থ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে পাঠানো হয়।
ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রিফান্ড পেতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সীমা ও নীতিমালা অনুসরণ করতেই হবে।

যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকিট ক্যানসেল করলে কত কাটা যাবে?

যাত্রা শুরুর কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করলে ভাড়ার শতাংশ কাটা হয় না। শুধুমাত্র নির্ধারিত পরিষেবা চার্জ কেটে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এটি যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সময়। কারণ এই সময়ে টিকিট বাতিল করলে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ রেলওয়ের রিফান্ড নীতিমালা অনুযায়ী পরিষেবা চার্জ শ্রেণিভেদে আলাদা।

ক্লাসকাটা হবে
এসি ক্লাস৪০ টাকা
প্রথম শ্রেণি৩০ টাকা
অন্যান্য সকল শ্রেণি২৫ টাকা

উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো যাত্রী ১,০০০ টাকার একটি এসি টিকিট ৪৮ ঘণ্টারও আগে বাতিল করেন, তাহলে ৪০ টাকা পরিষেবা চার্জ কেটে ৯৬০ টাকা ফেরত পাওয়ার যোগ্য হবেন।৪৮ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করলে ভাড়ার শতাংশ কাটা হয় না, শুধু নির্ধারিত পরিষেবা চার্জ কাটা হয়।

৪৮ ঘণ্টার কম কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে কত টাকা কাটা হবে?

যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টার কম কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বাকি থাকলে টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে মোট ভাড়ার ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে নয়, বরং এক বা দুই দিন আগে ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। এই সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের রিফান্ড নীতিমালায় নির্দিষ্ট হারে অর্থ কর্তনের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আর নির্দিষ্ট পরিষেবা চার্জ নয়, বরং টিকিটের মোট ভাড়ার একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়।

ধরুন আপনার টিকিটের মূল্য ৮০০ টাকা। যদি যাত্রার ৩০ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করেন, তাহলে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ২০০ টাকা কাটা হবে এবং আপনি ৬০০ টাকা ফেরত পাবেন।

টিকিটের মূল্যকর্তন (২৫%)ফেরতযোগ্য অর্থ
৫০০ টাকা১২৫ টাকা৩৭৫ টাকা
৮০০ টাকা২০০ টাকা৬০০ টাকা
১,০০০ টাকা২৫০ টাকা৭৫০ টাকা
১,৫০০ টাকা৩৭৫ টাকা১,১২৫ টাকা

যদি আপনি নিশ্চিত হন যে নির্ধারিত দিনে ভ্রমণ করতে পারবেন না, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব টিকিট বাতিল করাই ভালো। কারণ পরবর্তী সময়সীমায় গেলে কর্তনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।৪৮ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট ক্যানসেল করলে ভাড়ার ২৫% কাটা হবে এবং ৭৫% অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।

২৪ ঘণ্টার কম কিন্তু ১২ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে কত টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

যাত্রা শুরুর ২৪ ঘণ্টার কম কিন্তু ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বাকি থাকলে মোট ভাড়ার ৫০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। অর্থাৎ আপনি ভাড়ার বাকি ৫০ শতাংশ ফেরত পাবেন।এই সময়সীমায় টিকিট বাতিল করলে কর্তনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই ভ্রমণ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব রিফান্ডের আবেদন করা উচিত।উদাহরণস্বরূপ, আপনার টিকিটের মূল্য যদি ১,২০০ টাকা হয় এবং যাত্রার ১৮ ঘণ্টা আগে আপনি টিকিট বাতিল করেন, তাহলে ৬০০ টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং বাকি ৬০০ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

টিকিটের মূল্যকর্তন (৫০%)ফেরতযোগ্য অর্থ
৬০০ টাকা৩০০ টাকা৩০০ টাকা
১,০০০ টাকা৫০০ টাকা৫০০ টাকা
১,২০০ টাকা৬০০ টাকা৬০০ টাকা
২,০০০ টাকা১,০০০ টাকা১,০০০ টাকা

অনেক যাত্রী মনে করেন এই সময়ে হয়তো শুধুমাত্র পরিষেবা চার্জ কাটা হবে। কিন্তু বাস্তবে এই পর্যায়ে মোট ভাড়ার অর্ধেক কেটে নেওয়া হয়। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক। ২৪ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট বাতিল করলে ভাড়ার ৫০% ফেরত পাওয়া যায় এবং ৫০% কেটে নেওয়া হয়।

১২ ঘণ্টার কম কিন্তু ৬ ঘণ্টার বেশি সময় থাকলে কী নিয়ম প্রযোজ্য?

যাত্রার ১২ ঘণ্টার কম কিন্তু ৬ ঘণ্টার বেশি সময় বাকি থাকলে মোট ভাড়ার ৭৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। অর্থাৎ মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাওয়া যায়।এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের রিফান্ড নীতিমালার শেষ ধাপ, যেখানে এখনো কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে কর্তনের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় এই সময়ে টিকিট বাতিল করলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যায়।ধরুন, আপনার টিকিটের মূল্য ৮০০ টাকা। যদি যাত্রার ৮ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করেন, তাহলে ৬০০ টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং আপনি মাত্র ২০০ টাকা ফেরত পাবেন।

টিকিটের মূল্যকর্তন (৭৫%)ফেরতযোগ্য অর্থ
৪০০ টাকা৩০০ টাকা১০০ টাকা
৮০০ টাকা৬০০ টাকা২০০ টাকা
১,০০০ টাকা৭৫০ টাকা২৫০ টাকা
২,০০০ টাকা১,৫০০ টাকা৫০০ টাকা

যদিও এই সময়ে এখনো রিফান্ড পাওয়া সম্ভব, তবুও যাত্রীদের উচিত প্রয়োজন হলে আরও আগে টিকিট বাতিল করা, যাতে বেশি অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। ১২ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট বাতিল করলে মাত্র ২৫% অর্থ ফেরত পাওয়া যায় এবং ৭৫% ভাড়া কেটে নেওয়া হয়।

যাত্রার ৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কি কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

না। বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান রিফান্ড নীতিমালা অনুযায়ী যাত্রা শুরুর ৬ ঘণ্টার কম সময় বাকি থাকলে টিকিট বাতিল করলেও কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হয় না।

এটি রিফান্ড নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ বাতিল করে রিফান্ড পাওয়ার আশা করেন। কিন্তু নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার সময়ের ৬ ঘণ্টার কম সময় বাকি থাকলে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য বাজেয়াপ্ত হয় এবং কোনো ধরনের রিফান্ড দেওয়া হয় না।

তাই আপনি যদি বুঝতে পারেন যে নির্ধারিত ট্রেনে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে না, তাহলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব টিকিট বাতিল করুন। এতে অন্তত কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

  • ৬ ঘণ্টার কম সময়ে টিকিট বাতিল করলে রিফান্ড পাওয়া যায় না।
  • অনলাইনেও একই নিয়ম কার্যকর থাকে।
  • বিশেষ পরিস্থিতি হলেও সাধারণ রিফান্ড নীতিমালাই অনুসরণ করা হয়, যদি না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলাদা নির্দেশনা দেয়।
মূল কথা: যাত্রার ৬ ঘণ্টার কম সময় বাকি থাকলে টিকিট ক্যানসেল করেও কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম কী?

যে অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টের Purchase History থেকে Cancel অপশন ব্যবহার করেই অনলাইনে রিফান্ডের আবেদন করা যায়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় রিফান্ড প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ করা হয়েছে। যাত্রীকে আলাদা করে কাউন্টারে যেতে হয় না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে থাকলে অনলাইনে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করেই টিকিট বাতিল করা যায়।

  1. যে অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
  2. Purchase History বা পার্চেজ হিস্ট্রি অপশনে প্রবেশ করুন।
  3. আপনার কেনা টিকিটগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন।
  4. প্রতিটি উপযুক্ত টিকিটের পাশে থাকা Cancel বাটনে ক্লিক করুন।
  5. সিস্টেম আপনাকে দেখাবে, এই মুহূর্তে টিকিট বাতিল করলে কত টাকা ফেরত পাবেন।
  6. সব তথ্য যাচাই করে বাতিলের আবেদন নিশ্চিত করুন।

রিফান্ড নিশ্চিত করার আগে সম্ভাব্য ফেরতের পরিমাণ অবশ্যই দেখে নিন। কারণ আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ কেটে নেওয়া হবে।অনলাইনে টিকিট রিফান্ড করতে শুধু Purchase History থেকে Cancel অপশন ব্যবহার করলেই হবে।

রিফান্ডের টাকা কতদিনে পাওয়া যায়?

টিকিট বাতিল করার সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত দেওয়া হয় না। রিফান্ডের অর্থ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়।অনেক যাত্রী মনে করেন টিকিট বাতিল করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য পেমেন্ট গেটওয়ের কিছু সময় লাগে।আপনি যে মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেছেন, সাধারণত সেই মাধ্যমেই রিফান্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর ধৈর্য ধরে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

বিষয়তথ্য
রিফান্ড শুরুটিকিট বাতিল নিশ্চিত হওয়ার পর
সর্বোচ্চ সময়৮ কার্যদিবস
ফেরতের মাধ্যমব্যবহৃত পেমেন্ট গেটওয়ে
সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যায়?না

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও অর্থ ফেরত না আসে, তাহলে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

রিফান্ডের টাকা না পেলে কী করবেন?

নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পেলে সমস্যার বিস্তারিত উল্লেখ করে support@eticket.railway.gov.bd ঠিকানায় ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করতে হবে।অভিযোগ করার সময় যত বেশি সঠিক তথ্য দেবেন, তত দ্রুত বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। ইমেইলে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো উল্লেখ করা ভালো।

  • টিকিট নম্বর
  • যাত্রার তারিখ
  • যাত্রীর নাম
  • ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর
  • পেমেন্টের মাধ্যম
  • সমস্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার পর যাত্রীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে উত্তর পাঠানো হবে।রিফান্ড সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় স্ক্রিনশট, লেনদেনের তথ্য এবং টিকিটের বিবরণ সংরক্ষণ করে রাখলে পরবর্তী যাচাই সহজ হয়। ৮ কার্যদিবস পার হলেও টাকা না পেলে support@eticket.railway.gov.bd-এ বিস্তারিত তথ্যসহ ইমেইল করে অভিযোগ করুন।

টিকিট ক্যানসেল করার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন

উত্তর: টিকিট বাতিল করার আগে সময়সীমা, সম্ভাব্য রিফান্ডের পরিমাণ, পেমেন্ট মাধ্যম এবং রিফান্ডের শর্তগুলো যাচাই করা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

অনেক যাত্রী তাড়াহুড়ো করে টিকিট বাতিল করেন, পরে বুঝতে পারেন যে আরও কিছুক্ষণ আগে বাতিল করলে বেশি অর্থ ফেরত পাওয়া যেত। তাই রিফান্ডের আবেদন করার আগে নিচের বিষয়গুলো একবার দেখে নেওয়া ভালো।

  • যাত্রা শুরুর কত ঘণ্টা বাকি আছে তা নিশ্চিত করুন।
  • রিফান্ডের সম্ভাব্য পরিমাণ দেখে তারপর ক্যানসেল করুন।
  • যে অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিট কাটা হয়েছে, সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই রিফান্ড আবেদন করুন।
  • রিফান্ডের টাকা সঙ্গে সঙ্গে না এসে সর্বোচ্চ ৮ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে—এটি মাথায় রাখুন।
  • টিকিট বাতিলের পর লেনদেনের তথ্য ও স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন।
  • ৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো রিফান্ড পাওয়া যাবে না।
টিকিট বাতিলের আগে সময়সীমা যাচাই করলে অপ্রয়োজনীয় কর্তন এড়িয়ে বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।

সংক্ষেপে রিফান্ড নীতিমালা

নিচের টেবিলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পূর্ণ রিফান্ড নীতিমালা এক নজরে তুলে ধরা হলো।

যাত্রা শুরুর আগে অবশিষ্ট সময়কর্তনের নিয়মফেরতযোগ্য অর্থ
৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশিএসি ৪০ টাকা, প্রথম শ্রেণি ৩০ টাকা, অন্যান্য ২৫ টাকা পরিষেবা চার্জবাকি সম্পূর্ণ অর্থ
৪৮–২৪ ঘণ্টামোট ভাড়ার ২৫%৭৫%
২৪–১২ ঘণ্টামোট ভাড়ার ৫০%৫০%
১২–৬ ঘণ্টামোট ভাড়ার ৭৫%২৫%
৬ ঘণ্টার কম১০০% (কোনো রিফান্ড নয়)০%
যত আগে টিকিট ক্যানসেল করবেন, তত বেশি টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

সমস্যা সমাধান (FAQ)

ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করলে কত টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

ফেরতের পরিমাণ নির্ভর করে যাত্রা শুরুর কত ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করা হচ্ছে তার ওপর। ৪৮ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে শুধু পরিষেবা চার্জ কাটা হয়, এরপর ধাপে ধাপে ২৫%, ৫০% ও ৭৫% ভাড়া কাটা হয়। ৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো রিফান্ড পাওয়া যায় না।

অনলাইনে টিকিট ক্যানসেল করা যায় কি?

হ্যাঁ। যে অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টের Purchase History থেকে Cancel বাটন ব্যবহার করে টিকিট বাতিল করা যায়।

রিফান্ডের টাকা কতদিনের মধ্যে পাওয়া যায়?

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী রিফান্ডের অর্থ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়।

রিফান্ডের টাকা না এলে কী করতে হবে?

সমস্যার বিবরণসহ support@eticket.railway.gov.bd ঠিকানায় ইমেইল করে অভিযোগ করতে হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাধারণত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উত্তর প্রদান করে।

৬ ঘণ্টার কম সময় আগে টিকিট বাতিল করলে কি কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

না। যাত্রা শুরুর ৬ ঘণ্টার কম সময় বাকি থাকলে বর্তমান রিফান্ড নীতিমালা অনুযায়ী কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হয় না।

রিফান্ডের অর্থ কোন মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়?

সাধারণত যে পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে টিকিট কেনা হয়েছে, সেই মাধ্যমেই রিফান্ডের অর্থ ফেরত পাঠানো হয়।

Scroll to Top