হঠাৎ করেই খবরের শিরোনামে এলো “হান্টা ভাইরাস”। এই ভাইরাসের সংক্রমণের খবরে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, হান্টা ভাইরাস কি সত্যিই করোনার মতো ভয়াবহ মহামারি ডেকে আনতে পারে? নাকি এটি একটি বিরল ভাইরাস, যা সচেতন থাকলেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টা ভাইরাস নতুন কোনো ভাইরাস নয়। এটি গত শতাব্দীর শেষ দিক থেকেই পরিচিত। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় আলোচনায় এসেছে। এই আর্টিকেলে আমরা সিডিসি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে হান্টা ভাইরাসের লক্ষণ, সংক্রমণের পদ্ধতি, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেব।
হান্টা ভাইরাস কি: ভূমিকা ও পরিচিতি
হান্টা ভাইরাস মূলত ইঁদুর বাহিত এক ধরনের আরএনএ ভাইরাস। এটি বুনইয়াভাইরাসি পরিবারের সদস্য। বিজ্ঞানীরা ১৯৭০-এর দশকে কোরিয়ার হানতান নদী এলাকায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করেন। তখন থেকে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির হান্টা ভাইরাস আছে। ইঁদুর ও মূষিকজাতীয় প্রাণী এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইঁদুরের শরীরে ভাইরাসটি থাকলেও তাদের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তারা শুধু বাহক হিসেবে কাজ করে। মানুষ যখন সংক্রমিত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে আসে, তখন এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
সাধারণত দুটি ধরনের মারাত্মক রোগের জন্য হান্টা ভাইরাস দায়ী। একটি হলো হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম বা এইচপিএস, যা ফুসফুসকে আক্রমণ করে। অন্যটি হলো হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম বা এইচএফআরএস, যা কিডনির ক্ষতি করে। এই দুটি রোগই চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে সময়মতো হাসপাতালে গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
হান্টা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়: সংক্রমণের মূল পথ
হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণের পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। কারণ ভুল ধারণা অনর্থক আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। এটি করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে না। নিচে মূল সংক্রমণের পদ্ধতিগুলো আলোচনা করা হলো:
বায়ুবাহিত ধূলিকণার মাধ্যমে (অ্যারোসলাইজেশন)
এটি হান্টা ভাইরাস ছড়ানোর সবচেয়ে প্রচলিত পথ। সংক্রমিত ইঁদুরের মল বা মূত্র থেকে ভাইরাস পরিবেশে ছড়ায়। যখন এই মল বা মূত্র শুকিয়ে যায়, তখন তা ধূলিকণায় পরিণত হয়। সেই ধূলিকণা বাতাসে মিশে গেলে মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাসটিকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘর, বেসমেন্ট, শস্যভাণ্ডার বা কাঠের গুদাম পরিষ্কার করার সময় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
দূষিত জিনিস স্পর্শের মাধ্যমে
ইঁদুরের মল বা মূত্র লাগা কোনো জিনিস স্পর্শ করার পর কেউ যদি চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করে, তাহলে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া দূষিত খাবার বা পানি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।
ইঁদুরের কামড়
এটি খুবই বিরল একটি পদ্ধতি। সংক্রমিত ইঁদুর কামড় দিলে বা আঁচড় দিলেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে বিশ্বব্যাপী এই ধরণের সংক্রমণের ঘটনা খুবই কম।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ
অধিকাংশ হান্টা ভাইরাসের স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণ আমেরিকার এন্ডিজ ভাইরাস স্ট্রেইনের ব্যতিক্রম আছে। এই স্ট্রেইনটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে কখনো কখনো ছড়াতে পারে।
সাধারণ পরিস্থিতিতে হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে আলাদা করার প্রয়োজন হয় না। এটি করোনার মতো ছোঁয়াচে নয়, যা অনেকের মনকে শান্ত করবে।
হান্টা ভাইরাসের লক্ষণ: প্রাথমিক ও উন্নত পর্যায়
হান্টা ভাইরাসের লক্ষণগুলো ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়। সংক্রমণের ১ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ জ্বর, ফ্লু বা ডেঙ্গুর মতো মনে হতে পারে। তাই সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যদি ইঁদুরের সংস্পর্শের ইতিহাস থাকে।
প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ (১-৪ দিন)
- হঠাৎ উচ্চ জ্বর: ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর উঠতে পারে। জ্বর সাধারণত সর্দি-কাশির আগেই শুরু হয়।
- তীব্র পেশি ব্যথা: বিশেষ করে উরু, কোমর ও পিঠের পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক রোগী এই ব্যথাকে “ভারী বস্তু চাপার মতো” অনুভূতি বলে বর্ণনা করেন।
- মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা: অস্বাভাবিক মাত্রার মাথাব্যথা ও আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
- গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথা হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে কেউ কেউ সাধারণ ভাইরাস জ্বর ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু হান্টা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই অবহেলা মারাত্মক হতে পারে। কারণ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ৪-১০ দিনের মধ্যে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়।
গুরুতর পর্যায়ের লক্ষণ (৪-১০ দিন)
প্রাথমিক লক্ষণ শুরুর ৪ থেকে ১০ দিন পর হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ফুসফুসে পানি জমতে থাকে, বুকে চাপ অনুভূত হয়, শুকনো কাশি হতে পারে। একে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম বা এইচপিএস বলা হয়। এইচএফআরএস বা কিডনিজনিত সিনড্রোমের ক্ষেত্রে প্রস্রাব কমে যাওয়া, পেট ও পায়ে পানি জমা, রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলেন, একবার এই গুরুতর উপসর্গ শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি। কারণ এই পর্যায়ে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা নির্ভর করে কত দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা শুরু হয় তার ওপর।
হান্টা ভাইরাসের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ পদ্ধতি
হান্টা ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো সাপোর্টিভ কেয়ার এবং রোগ নির্ণয়ের পর দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা। হাসপাতালে রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট, শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে ভেন্টিলেটর, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়। কিডনি বিকল হয়ে গেলে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় হান্টা ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো সংক্রমণ এড়ানো। নিচে কার্যকর প্রতিরোধ পদ্ধতি দেওয়া হলো:
ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ ও ঘর পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি
যেহেতু ইঁদুরই মূল বাহক, তাই ইঁদুর নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ইঁদুর ঢোকার পথ বন্ধ করে দিতে হবে। বিশেষ করে দরজা-জানালার ফাঁক, পাইপের গর্ত, দেয়ালের ফাটল সিমেন্ট বা স্টিল উল দিয়ে বন্ধ করে দিন। খাবার ঢেকে রাখুন, রাতে খোলা খাবার ফেলবেন না।
ইঁদুরের মল বা মূত্র পরিষ্কারের সময় কখনোই শুকনো ঝাড়ু বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করবেন না। এতে ভাইরাস ধূলিকণা আকারে বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে। সঠিক পদ্ধতি হলো: প্রথমে ব্লিচ ও পানির ১:১০ অনুপাতে মিশ্রণ স্প্রে করে মল-মূত্র ভিজিয়ে ফেলুন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ভেজা কাপড় দিয়ে তুলে ফেলুন। এই সময় N95 মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা আবশ্যক।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও কাজে সতর্কতা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বেসমেন্ট, শস্যভাণ্ডার, কাঠের গুদাম, বনাঞ্চল ও ক্যাম্পিং সাইটে যাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। ঘরে ঢোকার আগে কিছুক্ষণ দরজা-জানালা খুলে বায়ু চলাচল করতে দিন। কাঠ কাটা বা জঙ্গল পরিষ্কারের সময় মাস্ক ব্যবহার করুন। কৃষক ও কাঠমজুরদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হান্টা ভাইরাসের ঝুঁকি
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে হান্টা ভাইরাসের কোনো প্রাদুর্ভাব বা নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে বাংলাদেশের জলবায়ু ও ইঁদুরের উপদ্রব বিবেচনায় ভবিষ্যতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ যে হতে পারে না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ২০০০ সালের দিকে এক গবেষণায় দেশের কিছু জায়গায় ইঁদুরের মধ্যে হান্টা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মানুষের মধ্যে এর প্রভাব দেখা যায়নি।
তা সত্ত্বেও সচেতনতার বিকল্প নেই। সাধারণ ফ্লু বা জ্বরের সাথে হান্টা ভাইরাসের লক্ষণের মিল থাকায় চিকিৎসকদের সতর্ক থাকা জরুরি। ইঁদুরের সংস্পর্শের ইতিহাস থাকলে এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত। তবে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিকভাবে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ ও ঘর পরিষ্কারের নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
হান্টা ভাইরাস কি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বাড়িতে চিকিৎসা করা যায়?
>উত্তর: না, বাড়িতে চিকিৎসা নিরাপদ নয়। হান্টা ভাইরাস দ্রুত ফুসফুস ও কিডনি বিকল করতে পারে। এ জন্য হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রয়োজন হয়। লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
প্রশ্ন ২: হান্টা ভাইরাসের মৃত্যুহার কত?
>উত্তর: স্ট্রেইন ও চিকিৎসার ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুহার ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিলে মৃত্যুহার কমে। আমেরিকার সিডিসির তথ্য অনুযায়ী এইচপিএস-এর মৃত্যুহার প্রায় ৩৮%।
প্রশ্ন ৩: হান্টা ভাইরাস প্রতিরোধের টিকা আছে?
>উত্তর: বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। গবেষণা অব্যাহত থাকলেও এটি সাধারণ মানুষের জন্য এখনো উন্মুক্ত নয়। তাই প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়ানো ও সঠিক পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা।
প্রশ্ন ৪: হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করা দরকার?
>উত্তর: অধিকাংশ স্ট্রেইনের জন্য না। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শুধু এন্ডিজ স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
প্রশ্ন ৫: শুকনো ঝাড়ু দেওয়া কেন বিপজ্জনক?
>উত্তর: শুকনো ঝাড়ু দিলে ইঁদুরের মল-মূর্তি ভেঙে বাতাসে ধূলিকণা ছড়ায়। সেই ধূলিকণা শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়। ভেজা পদ্ধতিতে পরিষ্কার করাই নিরাপদ।
প্রশ্ন ৬: দেশে প্রচলিত ইঁদুরের বিষ ব্যবহার করলে ভাইরাস ছড়ায়?
>উত্তর: বিষ প্রয়োগে ইঁদুর মারা যায়, কিন্তু বিষ ভাইরাস নষ্ট করে না। মৃত ইঁদুরের মল-মূর্তি থেকে ভাইরাস বাতাসে থাকতে পারে। কাজেই মৃত ইঁদুর ও তার বর্জ্য পরিষ্কারে একই সতর্কতা প্রযোজ্য।
পরিশেষে বলা যায়, হান্টা ভাইরাস একটি বিরল হলেও সম্ভাব্য গুরুতর ভাইরাস। এর উচ্চ মৃত্যুহার সত্ত্বেও জনসংখ্যায় এটি ব্যাপক আকার ছড়ায় না। সঠিক তথ্য ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হান্টা ভাইরাস থেকে বাঁচার প্রধান হাতিয়ার। আমাদের সবারই সচেতন হওয়া উচিত, আতঙ্কিত নয়। ইঁদুর নেই তো হান্টা ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব নেই—এই সত্য মনে রেখে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।


