দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান পদের বিপুল সংখ্যক শূন্য পদে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা এসব পদে নিয়োগ দিতে সম্প্রতি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষক মহলে এই নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া কবে শেষ হতে পারে? এই প্রতিবেদনে আমরা এনটিআরসিএর দেওয়া তথ্য ও সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আবেদন প্রক্রিয়া শেষ, এরপর কী?
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগের জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হয়েছে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। এখন এই বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে এনটিআরসিএ। সংস্থাটি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এই তালিকা তৈরি হওয়ার পরই নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
আরও জানতে পারেনঃ তিন চাকার অটো গাড়ির দাম কত ২০২৬
প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রিলি ও মৌখিক পরীক্ষা
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের সুবিধার্থে প্রাথমিক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে সহজ ও দ্রুততর। সংস্থাটির সদস্য ও পরীক্ষা গ্রহণ কমিটির সদস্যসচিব মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ টাইপ) এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ সম্পন্ন করার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ এই নিয়োগ বৃত্তে লিখিত পরীক্ষা না রেখে শুধু প্রিলি ও ভাইভার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে।
কবে নাগাদ শেষ হতে পারে নিয়োগ প্রক্রিয়া?
যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া কবে শেষ হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা জানিয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নিয়োগ অনুষ্ঠিত হবে।
মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, আগস্ট মাসের মধ্যে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে এখনই পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন চূড়ান্ত করা হবে। তারপরই তারিখ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। তাই প্রার্থীদের উচিত এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিকের বিজ্ঞপ্তির ওপর নজর রাখা।
তিন অধিদপ্তরে শূন্য পদ ১৩ হাজার ৫৯৯
এই নিয়োগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শূন্য পূরণে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এনটিআরসিএ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনটি অধিদপ্তরের আওতায় মোট শূন্য পদের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৯৯ টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শূন্য পদ রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। সেখানে শূন্য রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি পদ। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ রয়েছে ১৪০টি।
পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে যা জানা গেল
এখন পর্যন্ত এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সদস্যসচিবের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই নিয়োগ হবে প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। মানবণ্টন কেমন হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থী বাছাই করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষা
নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগে এখন সবচেয়ে বড় ধাপ হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া। পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন চূড়ান্ত করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এনটিআরসিএ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যাবে। অনুমোদন পাওয়ার পরপরই নিয়োগের বাকি প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রার্থীদের প্রস্তুতি ও করণীয়
যেহেতু আগস্ট মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই প্রার্থীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া উচিত। এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রার্থীদের উচিত নিজ নিজ বিষয়ের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধনের পাঠ্যক্রম ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র অনুশীলন করা। বিশেষ করে প্রধান পদের নিয়োগ হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় শিক্ষানীতি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে ভালো ধারণা রাখতে হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার যে কোনো আপডেট পেতে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করা জরুরি।
উপসংহার
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে ১৩ হাজারের বেশি শূন্য পদে নিয়োগের এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে – এই প্রশ্নের উত্তরে আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এনটিআরসিএ, তা আশাপ্রদ। এখন সবকিছু নির্ভর করছে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও তার পরবর্তী প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপর। আশা করা যায়, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক নেতৃত্ব শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) ছাড়াও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা না রেখে শুধু প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ১০ হাজার ২৭৮টি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৪০টি পদ শূন্য রয়েছে।
এনটিআরসিএ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী।


