শৈত্য প্রবাহ ২০২৬ নিয়ে কি এবার দীর্ঘ সময়ের ঠান্ডার আশঙ্কা আছে? প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র আকার নিতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে শীতকাল স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা উষ্ণ থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
দিনের রোদ এখনো তেমন কমেনি। কিন্তু শেষরাতে কাঁথা টেনে নেওয়া, ফ্যানের গতি কমানো এবং উত্তরের গ্রামাঞ্চলে কুয়াশা জানান দিচ্ছে ঋতু বদলের। অন্যদিকে কংক্রিটের শহরে শীতের প্রভাব ধীরে অনুভূত হলেও নদীতীর ও বিস্তীর্ণ প্রান্তরে হিমেল বাতাস ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
- নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
- এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।
- উত্তর, পশ্চিম ও কিছু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঠান্ডার প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
- এছাড়াও ঘন কুয়াশা দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়াতে পারে।
শৈত্য প্রবাহ ২০২৬-এর পূর্বাভাস কী বলছে
শৈত্য প্রবাহ ২০২৬ সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিন মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি দফা তীব্র আকার ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিটি দফার স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি একই হবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসটি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং আন্তর্জাতিক মডেল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, “শীত উষ্ণ থাকবে” এবং “শৈত্যপ্রবাহ হবে”—এই দুই তথ্য পরস্পরবিরোধী নয়। গড় তাপমাত্রা বেশি থাকলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে।
কোন তাপমাত্রায় কোন শৈত্যপ্রবাহ
শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা নির্ধারণে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। এরপর তাপমাত্রা আরও কমলে তা মাঝারি বা তীব্র পর্যায়ে যায়।
| ধরন | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|---|
| মৃদু শৈত্যপ্রবাহ | ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস | ভোর ও রাতে ঠান্ডা বাড়ে, দিনে রোদ থাকলে স্বস্তি মিলতে পারে |
| মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ | ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস | সকাল পর্যন্ত ঠান্ডার অনুভূতি থাকে, কুয়াশা দৃশ্যমানতা কমাতে পারে |
| তীব্র শৈত্যপ্রবাহ | ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস | শীতের চাপ বাড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন |
| অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ | ৪ ডিগ্রির নিচে | অত্যন্ত ঠান্ডা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে |
এই সীমাগুলো কোনো নির্দিষ্ট জেলার পুরো দিনের গড় তাপমাত্রা নয়। সাধারণত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিবেচনা করে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তাই দুপুরে রোদ থাকলেও ভোরে কোনো এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
কোন অঞ্চলে ঠান্ডা বেশি পড়তে পারে
শৈত্য প্রবাহ ২০২৬-এর প্রাথমিক পূর্বাভাসে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলকে বেশি ঝুঁকিপ্রবণ বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তৈরি হতে পারে।
ডিসেম্বরে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সময়ে একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
ধরা যাক, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী বা রাজশাহীর কোনো এলাকায় রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং উত্তরের ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হয়। সেক্ষেত্রে সেখানে শহরের তুলনায় দ্রুত তাপমাত্রা কমতে পারে। নদীর চর ও খোলা মাঠে কুয়াশার কারণে ঠান্ডা আরও তীব্র মনে হতে পারে।
কুয়াশা কেন শীতের অনুভূতি বাড়াবে
শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঘন কুয়াশা দিনের রোদ দেরিতে পৌঁছাতে দিলে সকাল দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকতে পারে।
কুয়াশার আরেকটি প্রভাব হলো দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়া। সাধারণত দিনে সূর্যের তাপে মাটি উষ্ণ হয়। কিন্তু ঘন কুয়াশা সূর্যালোকের তীব্রতা কমিয়ে দিলে দিনের তাপমাত্রা প্রত্যাশার তুলনায় কম বাড়ে। ফলে আবহাওয়ার সরকারি হিসাবে শীত খুব তীব্র না হলেও মানুষের অনুভূতিতে ঠান্ডা বেশি লাগতে পারে।
যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ভোরে মহাসড়ক, ফেরিঘাট, নদীসংলগ্ন সড়ক ও বিমান চলাচলে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে। তাই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে দ্রুতগতির বদলে ধীর ও সতর্ক চলাচল নিরাপদ।
উষ্ণ শীতের পেছনে এল নিনোর ভূমিকা
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়তে পারে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই উষ্ণ প্রবণতা শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে না। কোনো একটি সময়ে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস, পরিষ্কার আকাশ ও কুয়াশার সমন্বয় হলে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। এ কারণেই শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণটি সহজভাবে বললে, এবার দীর্ঘস্থায়ী অতি তীব্র শীতের সম্ভাবনা কম। কিন্তু স্বল্পস্থায়ী তীব্র ঠান্ডার দফা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বাস্তবে প্রস্তুতির জন্য এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।
লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা কতটা
আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি বা দুটি লঘুচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রবণতা, নিশ্চিত ঘটনা নয়।
অক্টোবর ও নভেম্বর সাধারণত বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ সময়। সূর্যের দক্ষিণায়নে দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূর্যালোকের প্রাপ্যতা বেশি থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ফলে সেই পরিবেশে লঘুচাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে প্রতিটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় না। কোনো কোনোটি দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। এই ধরনের ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থাকে ট্রানজিয়েন্ট সিস্টেম বলা হয়। তাই সতর্কতা জারি না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাবনাকে নিশ্চিত দুর্যোগ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বৃষ্টিপাতের বিভাগভিত্তিক চিত্র
তিন মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। নভেম্বরের বৃষ্টিপাত তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমে আসতে পারে। বিভাগভিত্তিক সম্ভাব্য পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো।
| সময় | বিভাগ | সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত |
|---|---|---|
| নভেম্বর | চট্টগ্রাম | ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার |
| নভেম্বর | বরিশাল | ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার |
| নভেম্বর | ঢাকা, সিলেট ও খুলনা | ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার |
| নভেম্বর | ময়মনসিংহ ও রাজশাহী | ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার |
| নভেম্বর | রংপুর | ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার |
| ডিসেম্বর | ঢাকা | ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার |
| ডিসেম্বর | সিলেট | ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার |
| জানুয়ারি | খুলনা | ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার |
| জানুয়ারি | ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগ | ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার |
বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে মাটির আর্দ্রতা ও রাতের তাপমাত্রার পরিবর্তনও ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। তাই কৃষক, পরিবহনকর্মী ও খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষের জন্য শুধু দিনের তাপমাত্রা নয়, ভোরের কুয়াশা ও রাতের আবহাওয়াও নজরে রাখা দরকার।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কীভাবে তৈরি হয়
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস একদিনের আবহাওয়ার হিসাব নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর অতীতের দীর্ঘ সময়ের তথ্য, বর্তমান আবহাওয়ার বিন্যাস, ঊর্ধ্বাকাশের পরিস্থিতি, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর মডেল পূর্বাভাস একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে।
ড. মল্লিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে কতটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের গড় চিত্রে এই সময়ে সাধারণত এক থেকে তিনটি লঘুচাপ দেখা যায়। এরপর সেই ঐতিহাসিক প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মিলিয়ে পূর্বাভাস তৈরি করা হয়।
এল নিনো ও লা নিনার অবস্থাও বিশ্লেষণের অংশ। তবু দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকে। তাই কোনো জেলার মানুষকে শুধু তিন মাসের পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করা উচিত।
সাধারণ ভুল ও করণীয়
শৈত্যপ্রবাহের খবর শুনে অনেকে পুরো শীতকাল একই রকম ঠান্ডা থাকবে মনে করেন। তবে এটি সঠিক নয়। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সম্ভাব্য প্রবণতা জানায়, কিন্তু নির্দিষ্ট দিনের তাপমাত্রা ও বৃষ্টির তথ্যের জন্য স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস বেশি কার্যকর।
- ভোরের কুয়াশায় যানবাহনের গতি কমিয়ে হেডলাইট ব্যবহার করুন।
- শিশু, বয়স্ক ও বাইরে কাজ করা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত গরম পোশাক প্রস্তুত রাখুন।
- কুয়াশার দিনে নদী পারাপার ও মহাসড়কে দৃশ্যমানতার বিষয়টি গুরুত্ব দিন।
- কৃষিকাজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া বার্তা যাচাই করুন।
- ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাকে গুজবের ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারি সতর্কবার্তার আলোকে মূল্যায়ন করুন।
সাধারণ একটি ভুল হলো, দুপুরের রোদ দেখে সকাল ও রাতের ঠান্ডাকে গুরুত্ব না দেওয়া। বাস্তবে শীতজনিত অস্বস্তি অনেক সময় তাপমাত্রার চেয়ে কুয়াশা, বাতাস ও সূর্যের অনুপস্থিতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন
শৈত্য প্রবাহ ২০২৬ কখন বেশি হতে পারে?
ডিসেম্বরে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তবে জানুয়ারিতে মাঝারি এবং কখনো তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন জেলায় ঠান্ডা বেশি পড়তে পারে?
উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবার কি পুরো শীতকাল খুব ঠান্ডা থাকবে?
সম্ভাব্য চিত্রটি তেমন নয়। বরং গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে কয়েকটি সময়ে স্বল্পস্থায়ী তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
ঘন কুয়াশায় কি শীত বেশি লাগে?
ঘন কুয়াশায় সূর্যের তাপ দেরিতে পৌঁছায় এবং দিনের তাপমাত্রা কম বাড়ে। ফলে সরকারি হিসাবে ঠান্ডা মাঝারি হলেও মানুষের অনুভূতিতে শীত বেশি তীব্র মনে হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় নিশ্চিত কি?
না। পূর্বাভাসে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ এবং এর মধ্যে একটি বা দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বলা হয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্যতা, নিশ্চিত ঘোষণা নয়।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কতটা নির্ভরযোগ্য?
এটি সম্ভাব্য আবহাওয়ার প্রবণতা বোঝায়, নির্দিষ্ট দিনের নিশ্চয়তা নয়। তাই যাতায়াত, কৃষিকাজ বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে নিয়মিত দৈনিক পূর্বাভাসও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শীতের প্রস্তুতিতে নজর রাখুন
শৈত্য প্রবাহ ২০২৬-এর পূর্বাভাসে একদিকে কয়েক দফা ঠান্ডার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে উষ্ণ শীতের ইঙ্গিতও আছে। অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী অতি তীব্র শীতের আশঙ্কা কম হলেও তীব্র ঠান্ডার স্বল্পস্থায়ী দফার জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় ১৭ অক্টোবর। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ২৭ অক্টোবর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১.৮, ০.৪ ও ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।


