ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশীদের কাছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এক অপরিহার্য নাম। ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামে পরিচিত এই অলরাউন্ডার তার শান্ত স্বভাব এবং চাপের মুখে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে লাখো ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি বাংলাদেশ দলের সংকটময় মুহূর্তে বারবার উদ্ধারকারী হয়ে উঠেছেন। যদিও ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, তার অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরকালীন হয়ে থাকবে। এই আর্টিকেলে আমরা তার ক্যারিয়ার, পরিসংখ্যান, ব্যক্তিগত জীবন এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করব।
একনজরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
- পুরো নাম: মোহাম্মদ মাহমুদুল্লাহ (Mohammad Mahmudullah)
- ডাকনাম: রিয়াদ, সাইলেন্ট কিলার
- জন্ম তারিখ: ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬
- জন্মস্থান: ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ
- জার্সি নম্বর: ৩০
- ভূমিকা: ব্যাটিং অলরাউন্ডার (ডানহাতি ব্যাটসম্যান, অফ-স্পিন বোলার)
- উচ্চতা: প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার বয়স ৩৯ বছর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ফিটনেস এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশকে অসংখ্য জয় এনে দিয়েছেন।
শিক্ষা এবং পরিবার
মাহমুদুল্লাহর জন্মভিটা ময়মনসিংহে। তিনি স্থানীয় স্কুল-কলেজ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB) থেকে উচ্চশিক্ষা নেন। খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার প্রতি তার এই মনোযোগ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২০১১ সালে জান্নাতুল কাওসার মিষ্টিকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে রয়েছে। মজার বিষয় হলো, তার স্ত্রীর বোন জান্নাতুল কিফায়েত মন্ডি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের স্ত্রী – ফলে তারা ভায়রা-ভাই।
আরও জানতে পারেনঃ ইসলামপুর মার্কেট কবে বন্ধ থাকে
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ার হাইলাইটস
মাহমুদুল্লাহ ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার যিনি ওডিআই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেন (২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। সেই বিশ্বকাপেই তিনি টানা দুই ম্যাচে (ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে) সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েন।
তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ম্যাচ ফিনিশ করার ক্ষমতা। চাপের মুখে শান্ত থেকে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া – এটিই তাকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ উপাধি এনে দেয়। তিনি টেস্ট থেকে ২০২১ সালে, টি-টোয়েন্টি থেকে ২০২৪ সালে এবং সবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে (চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি অবসর নেন।
পরিসংখ্যান একনজরে (ক্যারিয়ার শেষ পর্যন্ত)
- ওডিআই: ২৩৯ ম্যাচ, প্রায় ৫,৬৮৯ রান (৪ সেঞ্চুরি), ৮২ উইকেট
- টেস্ট: ৫০ ম্যাচ, ২,৯১৪ রান (৫ সেঞ্চুরি), ৪৩ উইকেট
- টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক: ১৪১ ম্যাচ, প্রায় ২,৪০০ রান, ৩৮ উইকেট
মোট আন্তর্জাতিক রান ১১,০০০+ এবং উইকেট ১৫০+। (সূত্র: ESPNcricinfo ও ICC)
জার্সি নম্বর এবং লিগ ক্যারিয়ার
তার আইকনিক জার্সি নম্বর ৩০ ভক্তদের কাছে আস্থার প্রতীক। আইপিএলে সরাসরি খেলার সুযোগ না পেলেও তিনি বিপিএল (BPL), পিএসএল (PSL) এবং সিপিএল (CPL)-এ সফলভাবে খেলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ফরচুন বরিশালের হয়ে বিপিএলে খেলছেন।
আরও জানতে পারেনঃ এয়ারটেল এমবি লোন নেওয়ার কোড
নেট ওয়ার্থ এবং আয়
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের আনুমানিক নেট ওয়ার্থ ৪-৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫-৫৫ কোটি টাকা)। তার আয়ের উৎস বিসিবি কন্ট্রাক্ট, ম্যাচ ফি, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট (যেমন Scan Cement)। ঢাকা ও ময়মনসিংহে তার সম্পত্তি এবং বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।
শেষ কথা
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি যুগের প্রতীক। তার শান্তচিত্তে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা বিশ্বের সেরা ফিনিশারদের সারিতে স্থান দিয়েছে। তরুণরা তার পরিশ্রম এবং নম্রতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে।


