২৭তম বিসিএস বেতন নির্ধারণ ২০২৬ এখন সরকারি প্রজ্ঞাপন মোতাবেক চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে—প্রথম ভাইভার কর্মকর্তাদের জন্য যোগদানের কার্যকর তারিখ ০১ জানুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে এবং দ্বিতীয় ভাইভার কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০০৮ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ থেকে যোগদানের সময়সীমা গণনা করা হবে। মূল বেতন নির্ধারণে জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৫—এই তিনটি স্কেল বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনার মাধ্যমে প্রযোজ্য হবে। এই গাইডে প্রজ্ঞাপনের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ, বেতন নির্ধারণের ধাপ, চাকরিকাল গণনার শর্ত এবং বেতন সংরক্ষণের নিয়মাবলী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য বেতন নির্ধারণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৪৭.১১.০০৮.২৫-২৮০ জারি করেছে, যেখানে বেতন নির্ধারণ, চাকরিকাল গণনা ও পদসমতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কখন থেকে বেতন পাবেন, কোন স্কেলে ইনক্রিমেন্ট হবে, এবং পূর্বের চাকরি কীভাবে গণনায় আসবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন এক জায়গায় পাবেন।
২৭তম বিসিএস বেতন নির্ধারণ ২০২৬: কীভাবে সম্পন্ন হবে?
২৭তম বিসিএস বেতন নির্ধারণ ২০২৬ হবে জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৫ অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনার মাধ্যমে। প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য যোগদানের কার্যকর তারিখ ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ধরা হবে। দ্বিতীয় ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ৩০ নভেম্বর ২০০৮ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ—এই দুটির মধ্যে যেটি প্রযোজ্য হবে, সেই তারিখ থেকে ইনক্রিমেন্ট গণনা শুরু হবে।
অর্থাৎ, আপনার বেতন নির্ধারণের জন্য প্রথমে দেখতে হবে আপনি প্রথম ভাইভার নাকি দ্বিতীয় ভাইভারের কর্মকর্তা। তারপর সেই অনুযায়ী যোগদানের কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনা করতে হবে। বেতন নির্ধারণে তিনটি ভিন্ন সময়ের বেতনস্কেল প্রযোজ্য হবে—২০০৫ স্কেল (৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত), ২০০৯ স্কেল (১ জুলাই ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত) এবং ২০১৫ স্কেল (১ জুলাই ২০১৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত)।
প্রথম ও দ্বিতীয় ভাইভার কর্মকর্তাদের জন্য যোগদানের কার্যকর তারিখ কী?
প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদানের কার্যকর তারিখ ০১ জানুয়ারি ২০২৬। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে এই তারিখটিকেই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য যোগদানের সময়সীমার শেষ তারিখ হবে ৩০ নভেম্বর ২০০৮ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ। এই দুটির মধ্যে যেটি প্রযোজ্য হবে, সেই তারিখ থেকে ইনক্রিমেন্ট গণনা শুরু হবে।
উদাহরণস্বরূপ, একজন দ্বিতীয় ভাইভারের কর্মকর্তা যদি ১৫ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে যোগদান করেন, তাহলে তার যোগদানের কার্যকর তারিখ হবে ১৫ নভেম্বর ২০০৮। কিন্তু যদি তার নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে ৩০ নভেম্বর ২০০৮ তারিখের মধ্যে যোগদানের নির্দেশনা থাকে, তাহলে সেই তারিখ থেকেই গণনা শুরু হবে।
দ্বিতীয় ভাইভার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা থাকা উচিত?
দ্বিতীয় ভাইভারের কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে যে তাদের যোগদানের তারিখের পূর্ববর্তী কোনো সময়ের জন্য বেকায়া বেতন পাওয়া যাবে না। আসলে, প্রকৃত যোগদানের তারিখ (যেটি ৩০ নভেম্বর ২০০৮ বা নির্ধারিত তারিখ) থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৩.২ ধারা অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হিসাব করতে হবে।
বেতন নির্ধারণের জন্য প্রযোজ্য বেতনস্কেলসমূহ কী কী?
২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণের জন্য তিনটি জাতীয় বেতনস্কেল ক্রমান্বয়ে প্রযোজ্য হবে। নিচের টেবিলটি দেখুন:
| সময়কাল | প্রযোজ্য বেতনস্কেল | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত | জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫ | প্রথম প্রয়োগকাল |
| ১ জুলাই ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত | জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৯ | মধ্যবর্তী সময় |
| ১ জুলাই ২০১৫ থেকে বর্তমান | জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ | চূড়ান্ত প্রয়োগকাল |
প্রতিটি স্কেলের জন্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (যা সাধারণত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত) গণনা করে নবম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে। বেতন নির্ধারণের সময় মনে রাখবেন যে আপনি যদি পূর্বে সরকারি চাকরি করে থাকেন, তাহলে ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের সম্পূর্ণ তথ্য আপনার বেতন সংরক্ষণ ও ইনক্রিমেন্ট গণনায় সাহায্য করবে।
চাকরিকাল গণনা কীভাবে নির্ধারিত হবে?
২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের চাকরিকাল গণনার বিষয়টি কিছুটা জটিল। সরকারি চাকরিতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। নিচের ক্যাটাগরিগুলো দেখুন:
প্রথম ক্যাটাগরি: যারা ৩০ নভেম্বর ২০০৮ তারিখের পূর্বে একই পর্যায়ের (৯ম গ্রেড) বেতন বা সমবেতনে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করাসহ বেতন সংরক্ষণের শর্তাদি প্রতিপালন করেছেন—তারা বিএসআর (১ম খণ্ড) অনুচ্ছেদ ৪২(২) অনুসারে বেতন সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। তবে তাদের চাকরিকাল শুধু পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: যারা ৩০ নভেম্বর ২০০৮ তারিখের পূর্বে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের চাকরি বিধি-বিধান অনুসারে স্থায়ীকরণ, রাজস্বখাতে নিয়মিতকরণ এবং চাকরির সোলেমানক হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করাসহ বেতন সংরক্ষণের শর্তাদি প্রতিপালন করলে এবং ৯ম গ্রেডে সমবেতনে থাকলে তাদের চাকরির স্থায়ীকরণের তারিখ থেকে চাকরিকাল গণনা হবে এবং বেতন সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। চাকরিকাল গণনা শুধু পেনশনের হিসাবের জন্য প্রযোজ্য।
তৃতীয় ক্যাটাগরি (নন-ক্যাডার): নন-ক্যাডারের ৯ম গ্রেডের নিম্নে যারা ৩০ অক্টোবর ২০০৮ তারিখের পূর্বে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন—তাদের ক্ষেত্রে শুধু পেনশনের জন্য বেতন সংরক্ষণ প্রযোজ্য হবে।
চাকরিকাল গণনার সময় কী ভুলগুলো এড়ানো উচিত?
প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ভুল হলো অনেকে মনে করেন যে পূর্বের সব চাকরিই বেতন গণনায় আসবে। আসলে, বেতন সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অনেকে ভাবেন বেকায়া সুবিধা পাওয়া যাবে—কিন্তু বাস্তবে ০১/০১/২০২৬ তারিখের পূর্বের কোনো বেকায়া আর্থিক সুবিধা নেই।
তৃতীয় ভুলটি হলো পেনশন গণনা নিয়ে। অনেকেই মনে করেন পূর্বের চাকরিকাল পেনশনে গণনা হবে না—কিন্তু উপরোক্ত শর্ত পূরণ করলে তা পেনশন গণনার জন্য বিবেচিত হবে।
বেতন সংরক্ষণ পেতে কী কী প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে?
বেতন সংরক্ষণ পেতে হলে নিচের শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
- ৩০ নভেম্বর ২০০৮ তারিখের পূর্বে একই পর্যায়ের (৯ম গ্রেড) বেতন বা সমবেতনে থাকতে হবে
- যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে
- বিএসআর অনুচ্ছেদ ৪২(২) অনুসারে শর্তাদি প্রতিপালন করতে হবে
- চাকরির স্থায়ীকরণ এবং রাজস্বখাতে নিয়মিতকরণ সম্পন্ন করতে হবে (এডহক কর্মীদের জন্য)
- ৯ম গ্রেডে সমবেতনে থাকতে হবে
মনে রাখবেন, বেতন সংরক্ষণের সুবিধা পেলেও আপনি ০১/০১/২০২৬ তারিখের পূর্বের কোনো বেকায়া পাবেন না। এটি শুধু পেনশনের জন্য চাকরিকাল গণনার সুবিধা দেবে।
স্থায়ীকরণ ও যোগ্যতা সংরক্ষণের শর্ত কী?
স্থায়ীকরণের যোগ্যতা সংরক্ষণের জন্য নিচের দুটি শর্ত একসাথে পূরণ করতে হবে:
- প্রথম শর্ত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যোগদানের পূর্বে ক্যাডার ভিত্তিক চাকরির স্থায়ীকরণের পূর্ব শর্তসমূহ অর্জন করে থাকতে হবে
- দ্বিতীয় শর্ত: পূর্বের ক্যাডার থেকে একই ক্যাডারে ০১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যোগদান করতে হবে
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি প্রশাসন ক্যাডারে স্থায়ীকরণের পূর্বশর্ত অর্জন করে থাকেন এবং একই প্রশাসন ক্যাডারে ০১/০১/২০২৬ তারিখে যোগদান করেন, তাহলে আপনার যোগ্যতা সংরক্ষিত হবে। কিন্তু যদি আপনি ভিন্ন ক্যাডারে যোগদান করেন, তাহলে স্থায়ীকরণের যোগ্যতা সংরক্ষিত হবে না।
পদসমতা নির্ধারণ কীভাবে হবে?
পদসমতা নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের বিদ্যমান বিধি-বিধানের উপর নির্ভরশীল। এই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে পদসোপানভিত্তিক সরকারের বিদ্যমান বিধি বা বিধানের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অর্থাৎ, পদসমতা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি—এটি সময়ের সাথে সাথে সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে এটা পরিষ্কার যে পদসমতা নির্ধারণে পদসোপানভিত্তিক নিয়মাবলী অনুসরণ করা হবে।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা: কী কী এড়ানো উচিত?
২৭তম বিসিএস বেতন নির্ধারণ ২০২৬ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কিছু ভুল ধারণা আছে। নিচে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো:
ভুল ধারণা ১: অনেকে ভাবেন যে ০১/০১/২০২৬-এর আগের সময়ের জন্যও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
সঠিক তথ্য: প্রকৃত যোগদানের (০১/০১/২০২৬) তারিখের পূর্বের কোনো বেকায়া আর্থিক সুবিধা নেই।
ভুল ধারণা ২: অনেকেই মনে করেন পেনশন গণনায় পূর্বের চাকরিকাল ধরা হবে না।
সঠিক তথ্য: উপরোক্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্বের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে।
ভুল ধারণা ৩: কেউ কেউ ভাবেন যেকোনো পূর্ব সরকারি চাকরিতে থাকলেই বেতন সংরক্ষণ হবে।
সঠিক তথ্য: একই পর্যায়ের (৯ম গ্রেড বা সমতুল্য) বেতনে থাকতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন ও শর্তাদি প্রতিপালন করতে হবে।
ভুল ধারণা ৪: দ্বিতীয় ভাইভারের কর্মকর্তারা মনে করেন তাদের জন্যও ০১/০১/২০২৬ তারিখ প্রযোজ্য হবে।
সঠিক তথ্য: দ্বিতীয় ভাইভারের কর্মকর্তাদের জন্য ৩০/১১/২০০৮ অথবা নির্ধারিত তারিখ প্রযোজ্য হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের যোগদানের কার্যকর তারিখ কবে?
প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ০১ জানুয়ারি ২০২৬। দ্বিতীয় ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০০৮ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ—এই দুটির মধ্যে যেটি প্রযোজ্য হবে, সেই তারিখ থেকে যোগদানের কার্যকর তারিখ গণনা শুরু হবে।
২৭তম বিসিএস বেতন নির্ধারণে কোন বেতনস্কেল অনুসরণ করা হবে?
জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫ (৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত), ২০০৯ (১ জুলাই ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত) এবং ২০১৫ (১ জুলাই ২০১৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত)—এই তিনটি স্কেল যোগদানের তারিখ ভিত্তিক বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনার মাধ্যমে প্রযোজ্য হবে। প্রতিটি স্কেলে ইনক্রিমেন্ট হিসাব করে নবম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
২৭তম বিসিএস কর্মকর্তারা কি পূর্বের বেতন সংরক্ষণ পাবেন?
হ্যাঁ, তবে শর্ত আছে। ৩০ নভেম্বর ২০০৮-এর আগে একই পর্যায়ের (৯ম গ্রেড) সরকারি চাকরিতে থেকে যথাযথ আবেদন ও শর্ত পালন করলে বিএসআর অনুচ্ছেদ ৪২(২) অনুসারে বেতন সংরক্ষণ পাওয়া যাবে। তবে এই সুবিধা শুধু পেনশনের জন্য চাকরিকাল গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা কি বেকায়া বেতন পাবেন?
না। ০১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পূর্বের কোনো বেকায়া আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। প্রকৃত যোগদানের তারিখ থেকে বেতন গণনা শুরু হবে এবং পূর্বের সময়ের জন্য কোনো আর্থিক ক্লেম গ্রহণযোগ্য নয়।
২৭তম বিসিএসের পূর্বের চাকরিকাল পেনশনে গণনা হবে কি?
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্বের চাকরিকাল পেনশন গণনার জন্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রথম ক্যাটাগরির জন্য বিএসআর অনুচ্ছেদ ৪২(২) অনুসারে, দ্বিতীয় ক্যাটাগরির জন্য স্থায়ীকরণের তারিখ থেকে এবং তৃতীয় ক্যাটাগরির জন্য শুধু পেনশনের হিসাবের জন্য চাকরিকাল গণনাযোগ্য হবে।
স্থায়ীকরণ ও যোগ্যতা সংরক্ষণের শর্ত কী?
দুটি শর্ত একসাথে পূরণ করতে হবে: প্রথমত, ০১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে ক্যাডার ভিত্তিক চাকরির স্থায়ীকরণের পূর্বশর্ত অর্জন করে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, পূর্বের ক্যাডার থেকে একই ক্যাডারে ০১/০১/২০২৬ তারিখে যোগদান করতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ করলেই কেবল যোগ্যতা সংরক্ষিত হবে।
২৭তম বিসিএস প্রজ্ঞাপন কে জারি করেছে?
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্বাক্ষরকারী সিনিয়র সহকারী সচিব মো: মুসফিকুল আলম হালিম। প্রজ্ঞাপন নং: ০৫.০০.০০০০.১৪৭.১১.০০৮.২৫-২৮০, তারিখ: ২৪ জুন ২০২৬। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের পত্রের ভিত্তিতে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে [অর্থ মন্ত্রণালয়]।
নন-ক্যাডার পদ থেকে আসা কর্মকর্তারা কি বেতন সংরক্ষণ পাবেন?
নন-ক্যাডারের ৯ম গ্রেডের নিম্নে থাকা যারা ৩০ অক্টোবর ২০০৮-এর আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন, তাদের শুধু পেনশনের জন্য বেতন সংরক্ষণ প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বেতন সংরক্ষণের আওতায় তারা পড়বেন না।
পদসমতা কীভাবে নির্ধারিত হবে?
পদসোপানভিত্তিক সরকারের বিদ্যমান বিধি বা বিধান অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদসমতা নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখনো পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি—এটি সময়ের সাথে সাথে সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
দ্বিতীয় ভাইভার ফলাফলের কর্মকর্তারা কি একই সুবিধা পাবেন?
হ্যাঁ, তবে তাদের যোগদানের কার্যকর তারিখ আলাদা—৩০ নভেম্বর ২০০৮ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ প্রযোজ্য হবে। বেতন নির্ধারণ, চাকরিকাল গণনা এবং বেতন সংরক্ষণের অন্যান্য শর্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ভাইভার উভয়ের জন্যই প্রায় একই রকম।
এডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা কি বেতন সংরক্ষণ পাবেন?
পূর্বের চাকরির বিধি অনুসারে স্থায়ীকরণ, নিয়মিতকরণ, চাকরির সোলেমানক ও বেতন সংরক্ষণের শর্ত পালন করলে এবং ৯ম গ্রেডে সমবেতন থাকলে বেতন সংরক্ষণ পাবেন। তাদের ক্ষেত্রে চাকরির স্থায়ীকরণের তারিখ থেকে চাকরিকাল গণনা হবে এবং বেতন সংরক্ষণ শুধু পেনশনের জন্য প্রযোজ্য হবে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় — প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৪৭.১১.০০৮.২৫-২৮০, তারিখ: ২৪ জুন ২০২৬
- অর্থ মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ, বাস্তবায়ন-৮ শাখা — পত্র নং ০৭.০০.০০০০.০০০.১৬৮.৯৯.০০০২.২৬-১২, তারিখ: ১৮ জুন ২০২৬


