হুইল চেয়ার এখন আর বিলাসিতা নয় বরং একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবারে বয়স্ক সদস্য, অসুস্থ রোগী কিংবা শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড ব্যক্তি রয়েছেন তাদের জন্য এটি নিত্যদিনের সঙ্গী। ২০২৬ সালে এসে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে হুইল চেয়ারের নকশা এবং কার্যকারিতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
এখন আর সেই ভারী ও জং ধরা লোহার চেয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বাজারে এসেছে হালকা ওজনের অ্যালুমিনিয়াম বডি এবং স্মার্ট ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার। আপনি যদি জানতে চান হুইল চেয়ারের দাম কত বাংলাদেশে তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য একটি কমপ্লিট পোস্ট হতে চলেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে লোকাল মার্কেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হুইল চেয়ার পাওয়া যাচ্ছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা, ঘরের মাপ ও বাজেট সবকিছু বিবেচনা করে সঠিক মডেলটি বেছে নেওয়া জরুরি।
আমাদের এই পোস্টে আজ আমরা ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে ম্যানুয়াল থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক মডেলের দাম, সুবিধা-অসুবিধা এবং কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। সঠিক তথ্য জেনে কেনাকাটা করলে আপনি যেমন সাশ্রয়ী দামে ভালো জিনিস পাবেন তেমনি রোগীও পাবে সর্বোচ্চ আরাম। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আরও জানতে পারেনঃ কালোজিরার দাম কত
হুইল চেয়ারের দাম কত বাংলাদেশে ২০২৬
বাংলাদেশে হুইল চেয়ারের বাজার এখন অনেক বড়। ২০২৬ সালে মুদ্রাস্ফীতি এবং আমদানি শুল্কের পরিবর্তনের কারণে দামের কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত একটি বেসিক বা সাধারণ মানের ম্যানুয়াল হুইল চেয়ারের দাম শুরু হয় ৭,০০০ টাকা থেকে। তবে আপনি যদি একটু ভালো মানের, গদিযুক্ত এবং ফোল্ডিং সিস্টেম চান, তবে বাজেট ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। অন্যদিকে যারা শারীরিক শ্রম ছাড়া চলাফেরা করতে চান তাদের জন্য ইলেকট্রিক বা ব্যাটারি চালিত হুইল চেয়ারের দাম ৫৫,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১,২০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
দাম মূলত নির্ভর করে ফ্রেমের মেটেরিয়াল (স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম), চাকার ধরন (সলিড বা পাম্প সিস্টেম) ও অতিরিক্ত ফিচারের ওপর। যেমন, কিছু চেয়ারে কমোড সুবিধা থাকে, আবার কিছু চেয়ার শুয়ে থাকার মতো করে অ্যাডজাস্ট করা যায়। Wheelchair price in Bangladesh লিখে যারা অনলাইনে সার্চ করেন তারা প্রায়ই বিভ্রান্ত হন কারণ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন দাম দেওয়া থাকে। তাই আমরা এখানে লেটেস্ট মার্কেট প্রাইস নিয়ে আলোচনা করছি যাতে আপনি একটি স্বচ্ছ ধারণা পান।
আরও জানতে পারেনঃ রোজা কত তারিখে
ম্যানুয়াল হুইল চেয়ারের ধরণ ও দামের বিস্তারিত
ম্যানুয়াল হুইল চেয়ার বা হাত দিয়ে চালানো চেয়ারগুলোই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এগুলোর প্রধান সুবিধা হলো এগুলো টেকসই হয় এবং মেইনটেন্যান্স খরচ খুবই কম।
স্ট্যান্ডার্ড স্টিল হুইল চেয়ার
এটি সবচেয়ে সাধারণ মডেল। হাসপাতালের বেড বা সাধারণ ব্যবহারের জন্য এটি কেনা হয়। ২০২৬ সালে এর দাম প্রায় ৮,৫০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে। এই মডেলগুলোতে সাধারণত ফিক্সড আর্মরেস্ট এবং লেগ রেস্ট থাকে। বডি স্টিলের তৈরি হওয়ায় এটি বেশ ভারী হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী।
ফোল্ডিং হুইল চেয়ার
যারা ভ্রমণের সময় হুইল চেয়ার সাথে নিতে চান, তাদের জন্য ফোল্ডিং মডেল সেরা। এটি সহজেই ভাঁজ করে গাড়ির পেছনে বা ঘরের এক কোণে রাখা যায়। এর দাম বর্তমানে ১২,০০০ টাকা থেকে ১৮,০০০ টাকার মধ্যে। ভালো মানের ফোল্ডিং চেয়ারে সিট এবং ব্যাকরেস্ট অনেক বেশি আরামদায়ক হয়।
লাইটওয়েট অ্যালুমিনিয়াম হুইল চেয়ার
এই চেয়ারগুলো ওজনে খুব হালকা হয়, ফলে রোগী বা অ্যাটেনডেন্ট খুব সহজেই এটি ঠেলে নিতে পারেন। এগুলোর দাম একটু বেশি, সাধারণত ২২,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকার মধ্যে। দেখতে খুব স্মার্ট এবং মরিচা পড়ার ভয় থাকে না।
কমোড হুইল চেয়ার
অনেক রোগীর জন্য টয়লেটে যাওয়া কষ্টকর হয়। তাদের জন্য সিটের নিচে পট বা কমোড সিস্টেম যুক্ত হুইল চেয়ার পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে এই ধরনের চেয়ারের দাম ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারের দাম ও আধুনিক ফিচার
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার বা Power Wheelchair বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই চেয়ারগুলোতে ব্যাটারি ও মোটর লাগানো থাকে, যা রিমোট বা Joystick দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রোগীর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না, তারা নিজেরাই এটি চালাতে পারেন।
২০২৬ সালে একটি ভালো মানের ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারের দাম ৬০,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। সাধারণ মানের মডেলগুলোতে লেড-এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যা ফুল চার্জে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এই মডেলগুলোর ওজন একটু বেশি হয়।
প্রিমিয়াম বা হাই-এন্ড ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারের দাম ৮৫,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে। এগুলোতে লিথিয়াম ব্যাটারি থাকে, যা ওজনে হালকা এবং দ্রুত চার্জ হয়। যেমন, Dayang DY01114LA বা এই ধরনের ফোল্ডিং ইলেকট্রিক মডেলগুলো খুব জনপ্রিয়। এগুলোতে শক অ্যাবজর্বার থাকে, ফলে উঁচু-নিচু রাস্তায় ঝাঁকুনি লাগে না। এছাড়া স্পিড কন্ট্রোল, হর্ন এবং রিভার্স গিয়ার সিস্টেমও থাকে। যদি বাজেট সমস্যা না হয় এবং রোগীর সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চান, তবে Electric Wheelchair বা মোটরচালিত চেয়ার কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সেরা হুইল চেয়ার ব্র্যান্ড এবং মডেল সিলেকশন
বাংলাদেশে মূলত চীন এবং তাইওয়ান থেকে আসা হুইল চেয়ারগুলোই বেশি বিক্রি হয়। কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম জানলে আপনার কিনতে সুবিধা হবে।
- Kaiyang: এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত ব্র্যান্ড। এদের ম্যানুয়াল এবং ইলেকট্রিক—উভয় ধরনের চেয়ারই পাওয়া যায়। দাম এবং মানের দিক থেকে এটি মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। Kaiyang Electric Wheelchair এর পারফর্মেন্স বেশ ভালো এবং পার্টস সহজে পাওয়া যায়।
- Dayang: একটু প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জন্য Dayang ব্র্যান্ডটি সেরা। এদের ফিনিশিং এবং ডিউরিবিলিটি অনেক উন্নত। বিশেষ করে এদের সেরিব্রাল পলসি (CP) বাচ্চাদের জন্য বিশেষায়িত চেয়ারগুলো খুব ভালো।
- Yuwell: মেডিকেল ইকুইপমেন্ট জগতে Yuwell একটি বিশ্বাসযোগ্য নাম। এদের হুইল চেয়ারগুলো দেখতে খুব স্লিম এবং আধুনিক। Yuwell AIR 113 মডেলটি বেশ জনপ্রিয়।
- Karma: এটি একটি তাইওয়ানিজ ব্র্যান্ড। এদের “S-Ergo” সিরিজের চেয়ারগুলো বসার জন্য খুব আরামদায়ক, কারণ এগুলো শরীরের শেপ অনুযায়ী ডিজাইন করা। দাম একটু বেশি হলেও আরামের দিক থেকে এটি সেরা।
মডেল সিলেক্ট করার সময় রোগীর ওজন কত তা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। সাধারণ চেয়ারগুলো ১০০-১২০ কেজি পর্যন্ত ওজন নিতে পারে। কিন্তু রোগী যদি বেশি ওজনের হয়, তবে Heavy Duty ফ্রেমের চেয়ার অর্ডার করতে হবে।
কোথায় থেকে হুইল চেয়ার কিনবেন?
বাংলাদেশে হুইল চেয়ার কেনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মার্কেট এবং অনলাইন শপ রয়েছে। আপনি যদি ঢাকা শহরে থাকেন, তবে তোপখানা রোডের বিএমএ ভবন (BMA Bhaban) এলাকাটি মেডিকেল ইকুইপমেন্টের সবচেয়ে বড় মার্কেট। এখানে আপনি অনেকগুলো দোকান যাচাই করে পাইকারি দামে কিনতে পারবেন। এছাড়া মিরপুর ১০, পান্থপথ এবং ধানমন্ডি এলাকাতেও অনেক সার্জিক্যাল শোরুম রয়েছে, যেমন Aleef Surgical Ltd বা Techno Health।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট বা রাজশাহীর মতো বড় শহরগুলোতেও নির্দিষ্ট মেডিকেল মার্কেট রয়েছে। তবে আপনি যদি ঘরে বসে কিনতে চান, তবে অনলাইন শপগুলো ভালো অপশন। ২০২৬ সালে Daraz.com.bd, BDStall.com এবং MedicalStall.com-এর মতো ওয়েবসাইটগুলো খুব জনপ্রিয়। অনলাইনে কেনার সুবিধা হলো আপনি বিভিন্ন মডেলের ছবি এবং স্পেসিফিকেশন দেখে তুলনা করতে পারেন। অনেক সময় তারা ফ্রি হোম ডেলিভারি এবং EMI সুবিধাও দিয়ে থাকে। তবে অনলাইনে অর্ডার করার আগে সেলারের রেটিং এবং রিভিউ চেক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ফেসবুকে “Wheelchair BD” বা এই ধরনের গ্রুপগুলোতেও অনেক সময় কম দামে ভালো কন্ডিশনের সেকেন্ড হ্যান্ড চেয়ার পাওয়া যায়।
হুইল চেয়ার কেনার আগে জরুরি টিপস
হুইল চেয়ার কেনার আগে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় চেক করে নেওয়া খুব জরুরি, যা অনেকেই এড়িয়ে যান।
১. চাকার সাইজ: পেছনের চাকা বড় হলে রোগী নিজেই হাত দিয়ে চাকা ঘুরিয়ে চেয়ার চালাতে পারবেন। কিন্তু চাকা ছোট হলে তাকে ঠেলে নেওয়ার জন্য সবসময় একজন সাহায্যকারী বা অ্যাটেনডেন্ট প্রয়োজন হবে। তাই রোগীর সক্ষমতা বুঝে চাকার সাইজ নির্বাচন করুন।
২. টায়ারের ধরণ: সলিড টায়ার এবং নিউম্যাটিক (বাতাস ভরা) টায়ার এই দুই ধরণের চাকা হয়। সলিড টায়ারে হাওয়া দেওয়ার ঝামেলা নেই এবং এটি ফাটে না, তাই ইনডোর ব্যবহারের জন্য ভালো। কিন্তু আউটডোর বা রাস্তায় ব্যবহারের জন্য বাতাস ভরা টায়ার ভালো, কারণ এটি ঝাঁকুনি কমায়।
৩. আর্মরেস্ট এবং ফুটরেস্ট: রোগী যদি বিছানা থেকে চেয়ারে শিফট হতে চান, তবে ডিটাচেবল (খুলে ফেলা যায় এমন) আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট যুক্ত চেয়ার কিনুন। ফিক্সড আর্মরেস্ট অনেক সময় শিফটিং-এর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
৪. ওয়ারেন্টি: ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার কেনার সময় অবশ্যই মোটর এবং ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কার্ড বুঝে নেবেন। ম্যানুয়াল চেয়ারে সাধারণত ফ্রেমের ওয়ারেন্টি থাকে।
৫. বসার সিটের মাপ: সিট খুব বেশি টাইট বা খুব বেশি ঢিলা হওয়া উচিত নয়। কেনার আগে রোগীর হিপ সাইজ অনুযায়ী সিটের প্রস্থ (১৮ ইঞ্চি, ২০ ইঞ্চি ইত্যাদি) দেখে নিন।
হুইল চেয়ারের যত্ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ
একটি হুইল চেয়ার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে এর নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ২০২৬ সালে যখন যন্ত্রাংশের দাম কিছুটা বেড়েছে, তখন রক্ষণাবেক্ষণ আরও জরুরি।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: সপ্তাহে অন্তত একবার চেয়ারের সিট এবং ফ্রেম শুকনো কাপড় দিয়ে মুছুন। চাকায় চুল বা সুতা পেঁচিয়ে আছে কি না তা নিয়মিত চেক করুন।
- লুব্রিকেশন: চাকার বিয়ারিং এবং ফোল্ডিং জয়েন্টগুলোতে মাঝে মাঝে লুব্রিকেন্ট বা তেল দিন। এতে চেয়ারটি স্মুথলি চলবে এবং জং ধরবে না।
- ব্যাটারি কেয়ার (ইলেকট্রিক মডেলের জন্য): আপনি যদি ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার ব্যবহার করেন, তবে ব্যাটারি কখনোই পুরোপুরি ডিসচার্জ হতে দেবেন না। ব্যবহার না করলেও সপ্তাহে অন্তত একবার চার্জ দিন। লিথিয়াম ব্যাটারি হলে ওভারচার্জ করা থেকে বিরত থাকুন।
- টায়ার প্রেসার: বাতাস ভরা চাকা হলে মাসে একবার হাওয়ার প্রেশার চেক করুন। হাওয়া কম থাকলে চেয়ার ঠেলতে বেশি শক্তি লাগে।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হুইল চেয়ারের গুরুত্ব
বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনোভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। তাদের জন্য হুইল চেয়ার শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, এটি তাদের সমাজের মূল স্রোতে মেশার একটি সুযোগ। একটি ভালো মানের হুইল চেয়ার একজন মানুষকে স্কুল, কলেজ বা কর্মক্ষেত্রে যেতে সাহায্য করে। মানসিকভাবে এটি তাদের স্বাবলম্বী করে তোলে। তাই পরিবারের উচিত রোগীর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক এবং উপযোগী মডেলটি নির্বাচন করা। অনেক এনজিও এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে গরিব রোগীদের হুইল চেয়ার প্রদান করে থাকে। প্রয়োজনে তাদের সাথেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।
প্রশ্ন-উত্তর
বর্তমানে সবচেয়ে সস্তা বা বেসিক ম্যানুয়াল হুইল চেয়ারের দাম ৭,০০০ থেকে ৮,৫০০ টাকার মধ্যে। তবে এগুলো সাধারণত স্টিল বডির হয় এবং খুব বেশি ফিচার থাকে না।
লেড-এসিড ব্যাটারি সাধারণত ১ থেকে ১.৫ বছর ভালো সার্ভিস দেয়। লিথিয়াম ব্যাটারি হলে সেটি ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত চলতে পারে, যদি সঠিকভাবে মেইনটেন্যান্স করা হয়।
হ্যাঁ, ম্যানুয়াল ফোল্ডিং হুইল চেয়ার বিমানে নেওয়া যায়। তবে ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে, বিশেষ করে ব্যাটারির ওয়াট এবং ধরণ নিয়ে। ভ্রমণের আগে এয়ারলাইন্সের সাথে কথা বলে নেওয়া ভালো।
বেশিরভাগ আধুনিক হুইল চেয়ারে রেক্সিন বা ওয়াটারপ্রুফ কাপড়ের সিট থাকে, যা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করা যায়। কিছু মডেলের সিট কভার খুলে ধোয়াও সম্ভব।
সাধারণ চেয়ার CP বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ নয়। তাদের জন্য বিশেষ CP Wheelchair পাওয়া যায়, যাতে মাথা, ঘাড় এবং বুক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বেল্ট এবং কুশন থাকে। এগুলোর দাম ২৫,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়।
শেষ কথা
হুইল চেয়ার কেনাটা শুধু একটি কেনাকাটা নয় বরং এটি পরিবারের একজন সদস্যের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে বিভিন্ন বাজেটের ও ফিচারের হুইল চেয়ার সহজলভ্য। আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক মডেলটি বেছে নেওয়াই আসল কাজ।
ম্যানুয়াল হোক বা ইলেকট্রিক, কেনার আগে অবশ্যই ফ্রেমের কোয়ালিটি, চাকার ধরন ও আফটার সেলস সার্ভিস সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। আশা করি, আমাদের এই পোস্টটি আপনাকে সঠিক হুইল চেয়ার খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে বা নির্দিষ্ট কোনো মডেল সম্পর্কে জানতে চান তবে নিচে কমেন্ট করতে পারেন। সুস্থ থাকুক আপনার প্রিয়জন, সহজ হোক তাদের চলাফেরা।


