ওমান ভিসার দাম কত

বর্তমান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে ওমান ও অর্থনৈতিক ভাবে আগের থেকে দিন দিন উন্নতি লাভ করছে। বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে মানুষ ওমান যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন করে থাকে। ওমান যাওয়ার জন্য এই সকল ভিসা তৈরি করতে মানুষকে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। আগের তুলনায় বর্তমানে ওমান যাওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ওমান ভিসার দাম ও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক দেশের নাগরিক হয়ে অন্য দেশে বৈধভাবে প্রবেশ করতে হলে ওই দেশের সরকার প্রধানের অনুমতি পত্র অর্থাৎ ভিসা প্রয়োজন পড়ে। তাই বৈধভাবে ওমানে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে ওমান সরকারের কাছে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অতঃপর ওমান সরকার ভিসা প্রদান করলে বৈধভাবে ওমানে প্রবেশ করার অনুমতি পাওয়া যাবে।

ওমান ভিসার দাম কত

ওমানে অসংখ্য কাজের সুযোগ থাকায় ওমান সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। ওমান যেতে হলে সবার আগে ওমান সরকারের অনুমতি পত্র অর্থাৎ ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি দুই ভাবেই ভিসার জন্য আবেদন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

বেসরকারি ভাবে অর্থাৎ বিভিন্ন দালাল বা এজেন্সির দ্বারা ভিসা তৈরি করতে অধিক অর্থ খরচ করতে হয়। তবে আপনার কোন আত্মীয় স্বজন বা পরিচিত কেউ ওমান থাকলে খুব সহজেই ভিসা তৈরি করতে পারবেন। বর্তমানে ওমান ভিসার দাম আনুমানিক সর্বনিম্ন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ওমান কন্সট্রাকশন ভিসা ২০২৪

কনস্ট্রাকশন বলতে আমরা বিভিন্ন উঁচু উঁচু দালান নির্মাণ কার্যকে বুঝে থাকি। ওমানেও সারা বছরই অসংখ্য দালান তৈরির কাজ চলমান থাকে। তাই যাদের কন্সট্রাকশন সাইটে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে তারা এই কাজে ওমান গেলে লাভবান হতে পারবেন।

বর্তমানে ওমান বিভিন্ন ধরনের ভিসা পাওয়া যায় এবং এই সকল ভিসার ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে ওমান ভিসার দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে কন্সট্রাকশনের কাজে ওমান যাওয়ার জন্য কনস্ট্রাকশন ভিসা করতে সর্বনিম্ন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।

ওমান ফ্রি ভিসার দাম

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের ধারণা ফ্রি ভিসায় ওমান গেলে পূর্বের নেয় নিজের ইচ্ছামতো একাধিক কাজ করার সুযোগ থাকে। তবে বর্তমানে ওমান ফ্রি ভিসার অবস্থা বাংলাদেশের চাকরির বাজারের মতোই হয়ে গেছে। কেননা সেখানে একটা চাকরির সার্কুলার ছাড়লে ফ্রি ভিসায় যাওয়া একাধিক মানুষ সেই চাকরির জন্য আবেদন করে থাকে।

চাকরির সার্কুলার অনুযায়ী আসন সংখ্যার তুলনায় আবেদন অধিক পরিমাণে করায় ফ্রি ভিসায় কাজ পাওয়া আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তাই বিভিন্ন এজেন্সি বা দালালের প্রলোভনে পা দিয়ে ফ্রি ভিসায় ওমান যাওয়ার আগে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত। তবে পরিচিত কেউ ওমান থাকলে খুব সহজেই কাজ পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে ওমান ফ্রি ভিসা করতে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

ওমান শ্রমিক ভিসা ২০২৪

বলা হয়ে থাকে যার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার কাজের অভাব হয় না। কথাটা শুনতে অন্যরকম মনে হলেও ওমান যেন এটি বাস্তবিক রূপ নেয়। কেননা ওমান কাজ করার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল শ্রমিকদের থেকে দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ওমানে বিভিন্ন কাজ করানোর জন্য অসংখ্য শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে।

বর্তমানে ওমানে শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় শ্রমিক ভিসায় গেলে কাজ পেতে কোনো অসুবিধায় পরতে হয় না। এছাড়াও ওমানের অসংখ্য নাগরিক তাদের নিজস্ব কাজ করানোর জন্য বেশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্রমিক ভাড়া করে থাকে। বর্তমান ২০২৪ সালে ওমান শ্রমিক ভিসা করতে আনুমানিক সর্বনিম্ন সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা লাগে।

ওমান যেতে কত ঘন্টা সময় লাগে

বাংলাদেশ থেকে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ পূর্ব কোনায় অবস্থিত দেশ ওমানের দূরত্ব প্রায় ৩,৫২৮ কিলো মিটার। বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হলেও দ্রুতগামী যানবাহন বিমানের সাহায্যে অল্প সময়েই ওমান পৌঁছানো যায়। বর্তমানে ওমান যেতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগে।

শেষ কথা

বছরের শুরুর দিকে ওমান ভিসার দাম সবথেকে বেশি হয়ে থাকে কেননা এ সময় ওমান সরকার বিভিন্ন ভিসার সার্কুলার দিয়ে থাকে। ওমান ভিসা নিয়ে অনেক অসাধু দালালেরা বিভিন্নভাবে মানুষকে ধোকা দিয়ে তাদের অর্থ হাতিয়ে নেয়। তাই ওমান ভিসা করার ক্ষেত্রে এ সকল অসাধু দালাল থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

Md Tuhin
Md Tuhin