ইতালি যেতে কত টাকা লাগে

বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইত্যালি কাজ করলে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখে থাকে তবে আনুষাঙ্গিক তথ্য না জানায় সাহস করে উঠতে পারে না কেউই। প্রতি বছরই ইতালি থেকে বিভিন্ন ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়।

ইতালির দেওয়া এই সকল ভিসা সরকারি ও বেসরকারি দুই ভাবেই অনুমোদিত হয়ে থাকে। তবে সরকারি ভাবে ভিসার অনুমোদন পেলে অল্প টাকায় ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। আপনার পরিচিত কেউ ইতালিতে থাকলে বেসরকারি ভাবেও অল্প টাকায় ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

বর্তমানে সকল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ইতালি যাওয়ার খরচ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পূর্বের তুলনায় ইতালি যাওয়ার খরচ আনুমানিক দুই গুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতালি যাওয়ার খরচ বাড়লেও মানুষের চাহিদা কমেনি কোন অংশে।

ইতালি যেতে কত টাকা লাগে

ইতালি যেতে হলে ভিসা ও বিমান ভাড়া সহ বেশ কিছু খাঁতে লাখ লাখ টাকা র্পযন্ত খরচ করতে হয়।বর্তমানে পূর্বের তুলনায় ইতালি যাওয়ার খরচ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে বিমানের টিকিটের দাম অনেক কম থাকলেও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান ভাড়া পূর্বের তুলনায় ১ থেকে দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২২ সালের দিকে বিমানের ভাড়া হাতের নাগালে থাকলেও ২০২৩ সালের তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। করোনা ভাইরাসজনিত সমস্যা থাকাকালীন ইতালি সহ বিশ্বের সকল দেশ ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল। পরবর্তীতে ভিসা কার্যক্রম শুরু হলে অল্প টাকায় ইতালি পৌঁছানো যেত।

করোনা ভাইরাসে নিয়ন্ত্রণে আসলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিমান ভাড়া বাবদ খরচ করে ইতালি পৌঁছানো যেত। করোনা কালীন সময়ের আগে এই ভাড়া ছিল ১৮ থেকে ২৭ হাজার টাকার আশেপাশে। তবে বর্তমান ২০২৪ সালে বিমান ভাড়া বেড়ে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা হয়েছে।

ইতালি ভিসা খরচ ২০২৪

বিশ্বের যে কোন দেশেই বৈধভাবে প্রবেশ করতে ওই দেশের সরকারের অনুমতি পত্র অর্থাৎ ভিসার প্রয়োজন। ইতালিও এর ব্যতিক্রম নয়। ইতালি যেতে হলে সবার আগে ইতালি সরকারের নিকট ভিসার আবেদন করতে হবে। এই ভিসা আবেদন করতে আনুমানিক ১৩-১৬ হাজার টাকা আবেদন ফ্রি প্রদান করতে হবে।

তবে আপনি যে এজেন্সির দ্বারা ভিসার জন্য আবেদন করবেন সেই এজেন্সিতে আপনার পরিচিত লোক থাকলে ১০-১২ টাকা আবেদন ফ্রি প্রদানের মাধ্যমে ভিসার আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। অতঃপর ইতালি ভিসা সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইতালি যেতে কত টাকা লাগে

প্রতি বছরই ইতালি সরকারি ও বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন শ্রমিক নিয়োগ করে থাকে। এই সকল নিয়োগের মাধ্যমে ইতালি পৌঁছাতে হলে ইতালি ওয়ার্ক পারমিট থাকা অত্যন্ত জরুরী। এই ওয়ার্ক পারমিটের জন্য ইতালির ওয়ার্ক পারমিট নিয়োগকর্তার নিকট আবেদন করতে হবে। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা তৈরি করতে বর্তমানে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

স্টুডেন্ট ভিসায় ইতালি যেতে কত টাকা লাগে

ছাত্র জনতা একটি দেশের প্রধান ভবিষ্যৎ। এদের মধ্য থেকেই কোন একজন দেশের রাষ্ট্র প্রদান থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে অনেকেই দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। ইটালি উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ বা তারও অধিক টাকা খরচ হয়।

টুরিস্ট ভিসায় ইতালি যেতে কত টাকা লাগে

ভ্রমন পিপাসু মানুষ আমাদের সমাজে রহরহ দেখা যায়। যারা প্রতিনিয়ত নিজ দেশের পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের পাশাপাশি দেশের বাইরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করে। বহির্বিশ্ব ভ্রমণের তালিকায় ইতালি সবার উপরে থাকে। টুরিস্ট ভিসায় ইতালি যেতে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার আশেপাশে খরচ করতে হয়।

ইতালি ভিসা আবেদন করার নিয়ম

বৈধ ভাবে কোন দেশে যেতে হলে ভিসার গুরুত্ব অপরিসীম। সামান্য কিছু টাকা ভিসা ফ্রি প্রদানের মাধ্যমে ইতালি ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। কোন দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার আবেদন না করে সরাসরি সরকারিভাবে অথবা পরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা ইতালির ভিসা তৈরি করা নিরাপদ। অথবা আপনি চাইলে নিজেই অনলাইনে ইতালি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত সময় লাগে

ইতালি যেতে বেশ কিছু দিন সময় প্রয়োজন হয়। তবে দ্রুত সময়ে ইতালি যেতে হলে অবশ্যই সবথেকে দ্রুতগামী যানবাহন বিমান ব্যবহার করতে হবে। বিমানের সাহায্যে ইতালি যেতে কত ঘন্টা সময় লাগবে তা মূলত বিমানের ক্যাটাগরি ও এয়ারলাইন্সের উপর নির্ভর করে। তবে নন স্টপ অর্থাৎ সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার সময়ের প্রয়োজন হয়।

শেষ কথা

বর্তমানে ইতালির ভিসা পাওয়া অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। তবে অনেক অসাধু দালাল সহজে ইতালির ভিসা তৈরি করে দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই ইতালি ভিসা তৈরি করার আগে অধিক সতর্ক থাকতে হবে। পোস্টটি ভাল লাগলে পরিচিতদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Md Tuhin
Md Tuhin