ছোটদের স্বাধীনতা দিবসের কবিতা ২০২৪

২৬ শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ছাত্র জনতা থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক পর্যন্ত সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালো রাতে এ দেশের হাজার হাজার অসহায় বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে।

যার ফলে বাংলাদেশের সকল বাঙালি গর্জে ওঠে এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে আনে। ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তাই প্রতি বছর মার্চের ২৬ তারিখ স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য বেশ কিছু দিন আগে থেকে এই সকল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

ছোটদের স্বাধীনতা দিবসের কবিতা ২০২৪

স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ ২৬ শে মার্চ আমাদের গৌরবের দিন। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করলেও ১৯৭২ সালের ২৬ শে মার্চ পাকিস্তাননি হানাদার বাহিনীদের লিখিত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। তাই এই দিনকে উদযাপন করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কবিতা লেখার আয়োজন করে থাকে।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

আমি আর লিখবো না

বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস

ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,‘পেয়েছি,পেয়েছি’।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে

ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে

ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,

বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসন্মানে সাদা দুতে-ভাতে।

ছোটদের স্বাধীনতা দিবসের কবিতা

হাজারো জীবন উৎসর্গ ও হাজারো মা ও বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ২৬ শে মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। তাই সারা দেশে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলিত হয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।

২৬ মার্চ কবিতা আবৃত্তি

৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাইকে সারা দিনব্যাপী দেশাত্মবোধক গান বাজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। এছাড়াও প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন উপলক্ষে সরকারি ভাবেও বিভিন্ন জায়গায় কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়।

শহীদদের প্রতি

__আসাদ চৌধুরী

তোমাদের যা বলার ছিল

বলছে কি তা বাংলাদেশ ?

শেষ কথাটি সুখের ছিল ?

ঘৃণার ছিল ?

নাকি ক্রোধের,

প্রতিশোধের,

কোনটা ছিল ?

নাকি কোনো সুখের

নাকি মনে তৃপ্তি ছিল

এই যাওয়াটাই সুখের।

তোমরা গেলে, বাতাস যেমন যায়

গভীর নদী যেমন বাঁকা

স্রোতটিকে লুকায়

যেমন পাখির ডানার ঝলক

গগনে মিলায়।

সাঁঝে যখন কোকিল ডাকে

কারনিসে কি ধুসর শাখে

বারুদেরই গন্ধস্মৃতি

ভুবন ফেলে ছেয়ে

ফুলের গন্ধ পরাজিত

স্লোগান আসে ধেয়ে।

তোমার যা বলার ছিল

বলছে কি তা বাংলাদেশ ?

স্বাধীনতা দিবসের কবিতা আবৃত্তি

২৬ শে মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও গৌরবের একটি দিন। কেননা এই দিন স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে একটি নতুন মানচিত্র তৈরি হয়। এবং এই দিন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশ লাল সবুজের নিজস্ব পতাকা আকাশের বুকে উত্তোলন করে।

বন্দী শিবির থেকে

__শামসুর রাহমান

ঈর্ষাতুর নই, তবু আমি

তোমাদের আজ বড় ঈর্ষা করি। তোমরা সুন্দর

জামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,

কখনো সেজন্যে নয়। ভালো খাও দাও,

ফুর্তি করো সবান্ধব

সেজন্যেও নয়।

বন্ধুরা তোমরা যারা কবি,

স্বাধীন দেশের কবি, তাদের সৌভাগ্যে

আমি বড়ো ঈর্ষান্বিত আজ।

যখন যা খুশি

মনের মতো শব্দ কী সহজে করো ব্যবহার

তোমরা সবাই।

যখন যে শব্দ চাও, এসে গেলে সাজাও পয়ারে,

কখনো অমিত্রাক্ষরে, ক্ষিপ্র মাত্রাবৃত্তে কখনো-বা।

সেসব কবিতাবলী, যেন রাজহাঁস

দৃপ্ত ভঙ্গিমায় মানুষের

অত্যন্ত নিকটে যায়, কুড়ায় আদর।

অথচ এদেশে আমি আজ দমবদ্ধ

এ বন্দী-শিবিরে

মাথা খুঁড়ে মরলেও পারি না করতে উচ্চারণ

মনের মতন শব্দ কোনো।

মনের মতন সব কবিতা লেখার

অধিকার ওরা

করেছে হরণ।

প্রকাশ্য রাস্তায় যদি তারস্বরে চাঁদ, ফুল, পাখি

এমনকি নারী ইত্যাকার শব্দাবলী

করি উচ্চারণ, কেউ করবে না বারণ কখনো।

কিন্তু কিছু শব্দকে করেছে

বেআইনী ওরা

ভয়ানক বিস্ফোরক ভেবে।

স্বাধীনতা নামক শব্দটি

ভরাট গলায় দীপ্ত উচ্চারণ করে বারবার

তৃপ্তি পেতে চাই। শহরের আনাচে কানাচে

প্রতিটি রাস্তায়

অলিতে-গলিতে,

রঙিন সাইনবোর্ড, প্রত্যেক বাড়িতে

স্বাধীনতা নামক শব্দটি আমি লিখে দিতে চাই

বিশাল অক্ষরে।

স্বাধীনতা শব্দ এত প্রিয় যে আমার

কখনো জানিনি আগে। উঁচিয়ে বন্দুক,

স্বাধীনতা, বাংলাদেশ- এই মতো শব্দ থেকে ওরা

আমাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে সর্বদা।

অথচ জানেনা ওরা কেউ

গাছের পাতায়, ফুটপাতে

পাখির পালকে কিংবা নারীর দু’চোখে

পথের ধুলায়

বস্তির দুরন্ত ছেলেটার

হাতের মুঠোয়

সর্বদাই দেখি জ্বলে স্বাধীনতা নামক শব্দটি।

২৬ শে মার্চ এর ছোট কবিতা

১৯০৫ সালে বঙ্গ ভঙ্গের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাঙ্গালীদের অধিকার ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্র তৈরি হয়। এই ষড়যন্ত্র কে রুখে দিতে ১৯৭১ সালে ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের পেছনেও বীর বাঙালির সংগ্রাম ও আত্মদানের এক কঠোর ইতিহাস লুকায়িত রয়েছে।

এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়

হুমায়ুন আজাদ

এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় ?

তেমন যোগ্য সমাধি কই ?

মৃত্তিকা বলো, পর্বত বলো

অথবা সুনীল-সাগর-জল-

সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই !

তাইতো রাখি না এ লাশ আজ

মাটিতে পাহাড়ে কিম্বা সাগরে,

হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।

রিপোর্ট ১৯৭১

আসাদ চৌধুরী

প্রাচ্যের গানের মতো শোকাহত, কম্পিত, চঞ্চল

বেগবতী তটিনীর মতো স্নিগ্ধ, মনোরম

আমাদের নারীদের কথা বলি, শোনো।

এ-সব রহস্যময়ী রমণীরা পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনে

বৃক্ষের আড়ালে স’রে যায়-

বেড়ার ফোঁকড় দিয়ে নিজের রন্ধনে

তৃপ্ত অতিথির প্রসন্ন ভোজন দেখে

শুধু মুখ টিপে হাসে।

প্রথম পোয়াতী লজ্জায় অনন্ত হ’য়ে

কোঁচরে ভরেন অনুজের সংগৃহীত কাঁচা আম, পেয়ারা, চালিতা-

সূর্য্যকেও পর্দা করে এ-সব রমণী।

অথচ যোহরা ছিলো নির্মম শিকার

সকৃতজ্ঞ লম্পটেরা

সঙ্গীনের সুতীব্র চুম্বন গেঁথে গেছে-

আমি তার সুরকার- তার র*ক্তে স্বরলিপি লিখি।

মরিয়ম, যীশুর জননী নয় অবুঝ কিশোরী

গরীবের চৌমুহনী বেথেলহেম নয়

মগরেবের নামাজের শেষে মায়ে-ঝিয়ে

খোদার কালামে শান্তি খুঁজেছিলো,

অস্ফুট গোলাপ-কলি লহুতে রঞ্জিত হ’লে

কার কী বা আসে যায়।

বিপন্ন বিস্ময়ে কোরানের বাঁকা-বাঁকা পবিত্র হরফ

বোবা হ’য়ে চেয়ে দ্যাখে লম্পটের ক্ষুধা,

মায়ের স্নেহার্ত দেহ ঢেকে রাখে পশুদের পাপ।

পোষা বেড়ালের বাচ্চা চেয়ে-চেয়ে নিবিড় আদর

সারারাত কেঁদেছিলো তাহাদের লাশের ওপর।

এদেশে যে ঈশ্বর আছেন তিনি নাকি

অন্ধ আর বোবা

এই ব’লে তিন কোটি মহিলারা বেচারাকে গালাগালি করে।

জনাব ফ্রয়েড,

এমন কি খোয়াবেও প্রেমিকারা আসে না সহজ পায়ে চপল চরণে।

জনাব ফ্রয়েড, মহিলারা

কামুকের, প্রেমিকের, শৃঙ্গারের সংজ্ঞা ভুলে গ্যাছে।

রকেটের প্রেমে পড়ে ঝ’রে গ্যাছে

ভিক্টোরিয়া পার্কের গীর্জার ঘড়ি,

মুসল্লীর সেজদায় আনত মাথা

নিরপেক্ষ বুলেটের অন্তিম আজানে স্থবির হয়েছে।

বুদ্ধের ক্ষমার মূর্তি ভাঁড়ের মতন

ভ্যাবাচেকা খেয়ে প’ড়ে আছে, তাঁর

মাথার ওপরে

এক ডজন শকুন মৈত্রী মৈত্রী ক’রে

হয়তো বা উঠেছিলো কেঁদে।

শেষ কথা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে সকল সংগ্রাম ও আন্দোলন হয়েছিল তার মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ অন্যতম। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতা। তাই ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস সকল বাঙালির চেতনা কে জাগ্রত করে।