বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে

অনেকের কাছে আমেরিকা স্বপ্নের দেশ, স্বপ্নের এই দেশে পাড়ি জমানোর ইচ্ছাও থাকে অনেকের। তবে আগের মতো আমেরিকা পাড়ি জমানো বর্তমানে অতটাও সহজ নয়। কিছু বছর পূর্বেও বিভিন্ন সময়ে লটারি দেওয়া হতো। আর এই লটারির সাহায্যে অনেক বাংলাদেশী আমেরিকা যেতে পারত।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পদ প্রাপ্ত হওয়ার পর লটারির সুবিধা উচ্ছেদ করে দিয়েছে। এর ই সাথে আমেরিকা কে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও শর্ত প্রদান করেছে। যে সকল পদক্ষেপ ও শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত বর্তমানে কেউ আমেরিকা বৈধ ভাবে প্রবেশ করতে পারবে না।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা প্রবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলেও চাকরি, উন্নত চিকিৎসা, পরিবার ও উচ্চ শিক্ষা সহ বেশ কিছু ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানেও অসংখ্য মানুষ আমেরিকা যাওয়ার পরিকল্পনা করে আমেরিকা ভিসার জন্য আবেদন করছে।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা পৌঁছানোর শর্ত গুলোর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান শর্ত হলো একটি আমেরিকান বৈধ ভিসা থাকা। কেবলমাত্র বৈধ ভিসার সাহায্যেই আমেরিকা সহজে পৌছানো সম্ভব। ভিসা ছাড়া অবৈধ ভাবে পূর্বে আমেরিকা প্রবেশ করা গেলেও বর্তমানে তা মৃত্যু ফাঁদের রূপ নিয়েছে।

অর্থাৎ বর্তমানে কেউ যদি অবৈধ ভাবে আমেরিকা প্রবেশ করতে চায় তার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। কেননা আমেরিকার সীমান্ত অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি ও ট্রেনিং প্রাপ্ত সৈন্য দ্বারা পাহারা দেওয়া হয়। বর্তমানে অধিক পরিমাণে আমেরিকা ভিসার চাহিদা থাকায় ভিসা তৈরীর খরচ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমেরিকা ভিসা তৈরির খরচ বাড়ার কারণে ভিসা তৈরিতে পূর্বের তুলনায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে বৈধ ভাবে আমেরিকা প্রবেশ করতে আনুমানিক সর্বনিম্ন প্রায় ৭ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। তবে সরকারি ভাবে ভিসা পেলে ৬ লাখ টাকা থেকে ৮ লাখ টাকায় আমেরিকা যাওয়া যায়।

আমেরিকা ভিসার দাম কত (আবেদন খরচ)

বিভিন্ন ক্যাটাগরির আমেরিকান ভিসা রয়েছে। আর এই আমেরিকা ভিসা পেতে হলে অবশ্যই ভিসার জন্য প্রথমে আবেদন করতে হবে। যেমন আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে চাকরির ভিসা তৈরি করতে হলে ইমপ্লয়মেন্ট-বেজড (ইবি) ক্যাটাগরির ভিসায় আবেদন করতে হবে। ইবি সিরিজের ১ থেকে ৫ পর্যন্ত ক্যাটাগরির ভিসা উন্নত।

আমেরিকা ভিসার আবেদন করতে অল্প কিছু টাকা আবেদন ফি প্রদান করতে হয়। যে ক্যাটাগরির ভিসা আবেদন করবেন সেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী আবেদন ফি প্রদান করতে হবে। যেমন আমেরিকান ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন ফি প্রায় ১৭ হাজার টাকা। অপরদিকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা বিমান ভাড়া কত

অসংখ্য বিমান এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার উদ্দেশ্যে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বিমান ভাড়া বিভিন্ন সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে বিমান ভাড়া বাবদ সর্বনিম্ন প্রায় ৮২,১২৫ টাকা থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। বিভিন্ন বিমান এয়ারলাইন্স ও বিমানের ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিমানের ভাড়া নির্ধারিত হয়ে থাকে।

যেমন ইন্ডিয়া এয়ারলাইন্স বিমান ভাড়া আনুমানিক প্রায় ৮২,১২৫ টাকা এবং কাতার এয়ারলাইন বিমান ভাড়া ১০১,৭২৯ টাকা। অপরদিকে আমেরিকার অফিসিয়াল বিমান এয়ারলাইন্স আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমান ভাড়া আনুমানিক প্রায় ১৫২,৫২৯ টাকা ও অত্যন্ত জনপ্রিয় বিমান এয়ারলাইন্স ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সের বিমান ভাড়া প্রায় ১৬০,৮৯৯ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত সময় লাগে

বিমানের সাহায্যে সব থেকে দ্রুত আমেরিকা পৌঁছানো যায়। বিমানের সাহায্যে আমেরিকা যেতে প্রায় ৮-১০ ঘন্টা থেকে ২-৩ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মূলত বিমানের স্টপেজের উপর কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে।

যেমন জনপ্রিয় কাতার এয়ারলাইন্স 1 স্টপে আমেরিকা পৌঁছাতে সময় নেয় ১ দিন ১৪ ঘন্টা। অপরদিকে আমেরিকান বিমান এয়ারলাইন্স 2 স্টপে আমেরিকা পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় ২ দিন ২০ মিনিট।

আমেরিকার ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা

যোগ্যতা ছাড়া আমেরিকান ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আপনি যে ক্যাটাগরির ভিসার আবেদন করবেন আপনাকে সেই বিষয়ের উপর দক্ষ হতে হবে। যেমন আমেরিকান স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য ভালো রেজাল্ট এবং IELTS স্কোর বেশি থাকতে হবে। এছাড়া আপনি যে কাজে আমেরিকা যাবেন সেই কাজের দক্ষতার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।

কোন মাসে আমেরিকা সবচেয়ে কম খরচে যাওয়া যায়

বছরের প্রায় সকল মাসেই আমেরিকা যাওয়ার খরচ বেশি। তবে বছরের শুরুতে সীমিত আকারে ভিসা প্রস্তুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার ফলে আমেরিকা যাত্রী সংখ্যা কম থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা ফ্লাইট পরিচালনাকারী সকল বিমান এয়ারলাইন্সের টিকেটের মূল্য কম থাকে। তাই বলা যায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা যাওয়ার খরচ কম থাকে।

শেষ কথা

আমেরিকা স্বপ্নের দেশ হওয়ায় সব থেকে বেশি মানুষের আমেরিকা যাওয়ার চাহিদা থাকে। আমেরিকা যাওয়ার চাহিদা বেশি থাকায় আমেরিকা ভিসা তৈরিতে দুর্নীতি ও বেশি হয়। তাই আমেরিকা ভিসা তৈরি করার আগে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ধন্যবাদ।