বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত কবিতা

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একাধারে তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। যার রাজনীতি ছিল গরীব অসহায় মানুষকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ও বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের মুক্তযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছিলেন তা নয় বরং তিনি ভারত বিভাজন আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়। তার এই দুঃসাহসিক নেতৃত্বের কারণে তিনি বর্তমানে হাজারো বাঙালির নিকট বিখ্যাত হয়ে আছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে। তার এই ত্যাগকে স্বীকৃতি দিতে বাঙালি জাতি তার জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষি বিভিন্ন ভাবে পালন করে থাকে। ১৭ ই মার্চ জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছোট কবিতা আবৃত্তি করা হয়। তাই এখানে আপনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত কবিতা এর কিছু নমুনা খুজে পাবেন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত কবিতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার এই ত্যাগ স্বীকারের জন্যই তিনি এখনো পর্যন্ত বাঙালি জাতির নিকট বিখ্যাত হয়ে রয়েছে। বিখ্যাত এই মানুষকে নিয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক গণ লিখেছেন বিভিন্ন ধরনের কবিতা। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত কবিতা লিখেছেন জসীমউদ্দীন, নির্মলেন্দু গুণ সহ আরো অনেকেই।

অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছড়া

যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু তুমি কবিতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কেন্দ্রীয় ভাবে নেতৃত্ব প্রদান। শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার জন্য বাংলাদেশের আবু জাফর বিঃ বঙ্গবন্ধু তুমি নামক কবিতা লিখেছেন যা নিচে দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
তুমি এ বাঙ্গালী জাতির পিতা,
আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে তোমার গুনের
কথা লেখার নেই ক্ষমতা।
তোমার নিয়ে যুগযুগ ধরে
লিখবে কত কবি তাদের কবিতা,
তুমি যে সংগ্রাম করে এনেছো
বাঙালির স্বপ্নের স্বাধীনতা।
৭মার্চে রেসকোর্স ময়দানে
তুমি দিয়েছিলে অগ্নিঝরা ভাষন,
সাড়ে সাতকোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ
করে ভেঙে দিয়েছিলে সেই দুঃশাসন।
ক্ষুধা, নিপীড়ন, নির্যাতন, শোষণের
বিরুদ্ধে সহ্য করেছিলে কত ব্যাথা,
গোটা জাতির সামনে একটাই পথ
আর প্রণের দাবী, শুধুই স্বাধীনতা।
তাই বাঙালি জাতি হলো ক্ষব্ধ
আর তখনি শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ,
মুক্তিকামি বাঙালিকে পারল না
দাবাতে, পারল না করতে গৃহরুদ্ধ।
লাখো শহীদের রক্তেরাঙা ভূখণ্ডে
সৃষ্টি হলো অসংখ্য বীরের অমরগাঁথা,
পৃথিবীর মানচিত্রে আঁকা হলো নতুন
একটি সীমানা, পেলাম স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কবিতা

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালে ১৭ই মার্চ পিতা লুৎফর রহমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করে। তিন জন্ম গ্রহণ না করলে হয়তো আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। তাই তার জন্মদিন কে কেন্দ্র করে অনেক কবিতা সমাজে প্রচলিত রয়েছে।

স্বাধীনতার ইতিহাস
মোঃহাসান

স্বাধীনতার সচ্ছতা,
কী কেউ জানে।
জানতে হলে,
জানতে হবে তোমাকে।
তোমারই হাত ধরে স্বাধীনতা,
গল্পের শুরু থেকে শেষ।
তুমিই নায়ক,
তুমি মহান নেতা।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন,
ছয় দফার দাবি।
কোথায় নেই তোমার অবদান,
তাহাই আমি খুজি।
খুজতে হলে যেতে হবে,
আন্দোলনের মর্মকে।
জেল-জুলুমের আগলভাঙা কর্মকে।
জানতে হবে হামলাকে,
আগরতলার মামলাকে।
খুজতে হবে ইতিহাস,
জানতে হবে স্বাধিকার।
বুঝতে হবে তোমায়,
ঘাঁটতে হবে তোমার ইতিহাস।

আরও পড়ুনঃ ১৭ই মার্চ নিয়ে কবিতা

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোট কবিতা

শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি অতঃপর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ পরিচালনার দায়িত্ব নেন। পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের অত্যাচার থেকে বিভিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্ত করায় তাকে বাঙালি জাতির জনক খেতাবে ভূষিত করা হয়।

ছোট্ট একটি গ্রাম
মোঃ হাসান

অনেক দুরে ছোট্ট গ্রাম,
নামটা যেন কী..?
কী যেন তার নাম।
সুদু যে এইটুকু রয়েছে মোর স্মরনে,
গ্রামটি ছিল নদীর তীর।
তাল, তমাল, হিজল গাছে ভরা।
পাশ দিয়ে গান গেয়ে যায়,
মাঝি নৌকায় পাল তুলে।
পাখিরা গান গায় সু মধুর কন্ঠে।
কী যেন তার নাম..?
শহর থেকে অনেক দুরে,
কলকাতাতে যেতে হত,
বানিজ্য করিতে,
পানসি নৌকা নিয়ে।
স্টিমারও চলিত মাঝে সাজে।
ভারত থেকে আসিত সরদার,
বানাইতো দালান ঘর।
হয়তো কিছু আছে এখনো দারিয়ে।
একাত্তরের পাক বাহিনী,
তাও দিলো জ্বালিয়ে।
তারই পাশে তৈরি হয়,
ছোট্ট টিনের ঘর।
সেই ঘরেতে জন্ম নেয়,
বিশ্ব নেতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান ।
টুঙ্গিপাড়া গ্রামটি তাহার নাম।

কবিতার নাম: “মুজিব আমার”
কবি: অনিন্দ্য ঈপ্সিতা
উৎসর্গ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

মুজিব আমার বক্ষদেশের বজ্র আহ্বান ,
যে নামের তরে শহিদ হল লক্ষ কোটি প্রাণ।
অকুতোভয় শ্রেষ্ঠ বাঙালির সুদৃঢ় তর্জনী;
সত্য কর্ম, সত্য ধর্ম, অমোঘ সত্য বাণী ।
নাচল আকাশ, কাঁপল বাতাস, হাসল মহাশূন্য-
উঠে লাঠিয়াল, ধরে মাঝি হাল, করে নাকো কার্পণ্য!
জননী মোদের জন্মভূমি, দর্পে গরিয়সী –
বীর সেনাদের দিয়েছো জন্ম,ধন্য তোমার নাড়ি।
নেই কোনো ক্ষয়, হয়েছে যে জয়;
“মুজিব- মুজিব” ,চির অম্লান, অক্ষয়!

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকল বাঙ্গালীদের একনিষ্ঠ নেতা। তাই বঙ্গভঙ্গ শেখ মুজিবুর রহমান কে নিয়ে অনেক বিখ্যাত কবিতা বিভিন্ন ধরনের কবিতা ও ছন্দ লিখেছেন। তাদের লেখা এই ছন্দ ও কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন কে স্মরণ করা হয়।

স্বপ্ন পূরণ
মোঃহাসান

পদ্মার এই পাড়েতে,
লাখো বাংঙ্গালির ডল।
ঐ পাড়েতে বাহারী রঙের ডং।
মাঝখানেতে পদ্মানদী,
ডিঙ্গি সেজেছে,
হাজার সাজের সাজ।
আজকে সবার সুখের দিন,
স্বপ্ন পূরণ এই দিন।
স্বপ্নের সেতু উদ্বোধন ।
পদ্মা সেতু উদ্বোধন
জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ,
পদ্মা সেতু উদ্বোধন,
জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ,
দেশ আজ উন্নয়ন।
সবার মাঝে মরেও অমর,
সবার প্রিয় মহা নায়ক।
তোমার পায়ের ধুলোয়,
পূর্নতা পেল বাঙালির স্বপ্ন,
পূর্নতা পেল বাঙ্গালী।

ফাল্গুনী মুজিব
মোঃহাসান

যদি এই ফাল্গুনীর,
নতুন পাতার সাথে,
তুমি আবার ফিরে এতে,
নতুন ফুলের মাঝে।
সৌরভ সরাতে,
ফুলের মতো করে।
তাবে আজ,
পূর্নতা পেত মোদের ফাল্গুনী।
আজ এই ফাল্গুনে,
হাজারো ফুলের গ্রানে মন মাতয়ারা।
নতুন গাছের বাহারি পাতা,
চারিপাশে সবুজের সমহার।
হাজারো পাখির গান।
কে যেন ডাকছে মুজিব তোমায়,
কচি পাতার মনোহর।
তুমি থাকো রোজ ফাল্গুনীতে,
হাজারো কবির কন্ঠে।
তোমায় খুজে ফিরি,
হাজারো গানের ছন্দে।
লাখো বাঙ্গালির হৃদয় তুমি,
ফোট ফাল্গুনীর জবা হয়ে।
আছো তুমি আমাদের,
হৃদয়ে আঙ্গিনাতে।
থাকবে তুমি চিরকাল,
আমাদের মাঝে।

শেষ কথা

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের তথা বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা সহ অসংখ্য আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন এবং অপরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছে। তার এই কৃতিত্বকে বাঙালি জাতি কখনো ভুলবেনা।

আরও দেখুনঃ

17 ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে কবিতা ২০২৪

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোট কবিতা

Md Tuhin
Md Tuhin