আজ কি দিবস ২০২৪

প্রতি বছর বিভিন্ন দিনে বিশ্বব্যাপী নানা দিবস পালিত হলেও ফেব্রুয়ারি মাস রয়েছে এদের শীর্ষে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস প্রথম পশ্চিমা সংস্কৃতিতে শুরু করা হয়। যা বর্তমানে পশ্চিমা দেশ সহ আরো বহু দেশে পালন করা হচ্ছে। কিছু কিছু দেশ এমনও আছে যারা এই ভালোবাসা দিবসকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম যায় যায় দিন পত্রিকার সাংবাদিক এবং সম্পাদক শফিক রহমান ভালোবাসা দিবস পালন করেন। পড়াশোনা শেষ করে লন্ডন থেকে ফিরে তিনি দেশবাসীর নিকট ভালোবাসা দিবসের কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে যা অনেকেই পালন করার জন্য জানতে চায় আজ কি দিবস। নিচে এই সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হল।

আজ কি দিবস

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসে সব থেকে বেশি দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এসব দিবসের মধ্যে জনপ্রিয় একটি দিবস হল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বহু বছর আগে প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ব্যক্তি নিষিদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন।

যার ফলে রোমের দ্বিতীয় সম্রাট তাকে বন্দী করেন এবং পরবর্তীতে মৃতদণ্ড প্রদান করেন। প্রতি বছর তার মৃত্যু বার্ষিকী হিসেবে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা হতো। যা বর্তমানে কালের পরিবর্তনে ভালোবাসা দিবস নামে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়।

আজকে কি ডে

ভালোবাসা দিবসের আগের ৭ দিনব্যাপী বিভিন্ন ডে পালন করা হয়। প্রতি দিনের পালনকৃত ডে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। পছন্দের মানুষকে খুশি করার জন্য সাত দিনব্যাপী এই ডে গুলো পালন করা হয়ে থাকে। নিচে এই সকল ডে সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে।

৭ ফেব্রুয়ারি – রোজ ডে গোলাপ দিবস

ভালোবাসার সপ্তাহ ৭ই ফেব্রুয়ারি রোজ ডে বা গোলাপ দিবস দিয়ে শুরু হয়। এই দিন একজন আরেক জনকে গোলাপ ফুল দেওয়ার দেওয়ার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও হলুদ গোলাপ বন্ধুত্বের প্রতিনিধিত্ব করার অনেকেই বন্ধুত্ব গভীর করার জন্য হলুদ গোলাপ ফুল দিয়ে রোজ ডে বা গোলাপ দিবস পালন করে।

৮ ফেব্রুয়ারি – প্রপোজ ডে প্রস্তাব দিবস

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ 8 ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিশ্ব প্রপোজ ডে বা প্রস্তাব দিবস পালন করা। এই দিন অনেকেই তাদের পছন্দের মানুষকে ভালবাসার প্রস্তাব দিয়ে থাকে। অনেকেই তাদের প্রিয় মানুষকে ভালোবাসার কথা জানাতে বা নিজের মনের কথা বলতে ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে এর অপেক্ষায় থাকেন।

৯ ফেব্রুয়ারি- চকলেট ডে চকলেট দিবস

ভালোবাসা সপ্তাহের তৃতীয় দিন যে ডে পালন করা হয় তাহলে চকলেট ডে। অনেকেই তাদের পছন্দের মানুষকে চকলেট উপহার দিয়ে খুশি করার জন্য চকলেট ডে পালন করে থাকে। তবে পশ্চিমা অনেক দেশে দরিদ্র শিশুদের আনন্দিত করার জন্য চকলেট উপহার দিয়ে চকলেট ডে পালন করা হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি – টেডি ডে

টেডি বিয়ার পছন্দ করে না এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই অনেক প্রেমিক তাদের প্রেমিকার মন জয় করার জন্য ১০ই ফেব্রুয়ারি টেডি বিয়ার গিফট করার মাধ্যমে টেডি ডে পালন করে থাকে। আপনি চাইলে আপনার স্ত্রী বা মেয়ে সন্তানকে টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে আনন্দিত করতে পারেন।

১১ ফেব্রুয়ারি – প্রমিস ডে (কথা দেওয়ার দিবস)

অনেকেই ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিস ডে তে তাদের প্রিয় মানুষকে বিভিন্ন কথা দিয়ে থাকে। যেমন একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়া, বিপদের দিনে হাত ছেড়ে না দেওয়া সহ আরো অনেক প্রমিস করে থাকে।

১২ ফেব্রুয়ারি – কিস ডে (চুম্বন দিবস)

ভালবাসা দিবসের পঞ্চম দিন অর্থাৎ কিস ডে তে অনেকেই তাদের প্রিয় মানুষকে চুম্বন করে থাকে। আপনি চাইলে আপনার স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু-বান্ধব যে কাউকে চুমু খাওয়ার মাধ্যমে কিস ডে পালন করতে পারেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি – হাগ ডে (আলিঙ্গনের দিবস)

অনেকেই ভালোবাসা দিবসের আগের দিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি একে অপরকে জড়িয়ে ধরার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যখন কাউকে জড়িয়ে ধরি তখন অক্সিটোসিন নামক এক প্রকার হরমোন নিঃসরণ হয়।

এই অক্সিটোসিন হরমোন আমাদেরকে মানসিকভাবে সুখী অনুভব করতে ও সকল দুঃখ ভুলে যেতে সাহায্য করে। তাই অনেকেই নিজেদের মনকে হালকা করতে অনেকেই তাদের প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরে হাগ ডে পালন করে থাকে।

১৪ ফেব্রুয়ারি – ভ্যালেন্টাইন ডে (ভালবাসা দিবস)

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর মৃত্যুবার্ষিকী হিসেবে ৪৯৬ থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন খ্রিস্টান রাষ্ট্রে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা হতো। যা বাংলাদেশের বর্তমান তরুন সমাজ ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন করা হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিন এই দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

শেষ কথা

আপনারা যারা আজ কি দিবস সে সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলেন আশা করছি তা বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এছাড়া ভালোবাসা দিবস ও তার আগের সাত দিনব্যাপী পালনকৃত ডে সমূহ পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে এসেছে। এই সকল দিবস ও ডে ইসলাম কখনও সমর্থন করে না তাই মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।