দায়িত্বে নেই ১১ সচিব দুই মন্ত্রণালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে

দায়িত্বে নেই ১১ সচিব দুই মন্ত্রণালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে—এই প্রশাসনিক চিত্রে একদিকে ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৯৪ জন সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে ১১ জনের কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব নেই। অন্যদিকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পূর্ণকালীন সচিব ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে চলছে। ফলে দক্ষ জনবল ব্যবহার, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়াসমীন পারভীনকে সচিব হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসনে ন্যস্ত রাখা হয়েছে। প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্রের ব্যাখ্যায়, সংযুক্তির কারণ সব সময় এক নয়; যেমন পরবর্তী পদায়নের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস কিংবা চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

  • ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তা: ৯৪ জন
  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব: ১১ জন
  • ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর: দুটি
  • সচিব হিসেবে পরবর্তী পদায়নের অপেক্ষায় জনপ্রশাসনে ন্যস্ত কর্মকর্তা: ১ জন

দায়িত্বে নেই ১১ সচিবের অবস্থান

দায়িত্বে নেই ১১ সচিব দুই মন্ত্রণালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে—এই পরিস্থিতির প্রথম অংশটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকা কর্মকর্তাদের নিয়ে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মো. সাইফুল্লাহ পান্না, মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ফারজানা মমতাজ, খান মো. নূরুল আমীন এনডিসি, জাহেদা পারভীন, মো. মফিদুর রহমান, কানিজ মওলা, মোহাম্মদ খালেদ রহীম, কাজী আনোয়ার হোসেন, মো. রায়হান কাওছার ও মো. সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

সংযুক্ত থাকা মানেই কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে জনপ্রশাসনে রাখা হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় কোনো নির্দিষ্ট দাপ্তরিক দায়িত্ব না থাকলে তাঁদের অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।

১১ কর্মকর্তার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র

এই কর্মকর্তাদের কর্মজীবনে মাঠ প্রশাসন, মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের আগের দায়িত্বগুলো দেখলে বোঝা যায়, সংযুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকেরই নীতি বাস্তবায়ন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। ফলে তাঁদের দক্ষতা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।

কর্মকর্তাআগের দায়িত্ব বা অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র
মো. সাইফুল্লাহ পান্নাভূমি আপিল বোর্ড ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীমাঠ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, পানিসম্পদ ও সরকারি কর্ম কমিশন
ফারজানা মমতাজবিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত
খান মো. নূরুল আমীন এনডিসিস্বাস্থ্যসেবা ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
জাহেদা পারভীনমন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার অনুবিভাগ
মো. মফিদুর রহমানজনপ্রশাসন, অর্থ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
কানিজ মওলাআইএমইডি, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
মোহাম্মদ খালেদ রহীমমাঠ প্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দুদক
কাজী আনোয়ার হোসেনস্থানীয় সরকার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত
মো. রায়হান কাওছারভূমি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাত
মো. সাখাওয়াত হোসেনমাঠ প্রশাসন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

কোন দুই দপ্তর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তায় চলছে

দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামো পূর্ণকালীন সচিব ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ফাহমিদা খানম। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন আহসান হাবীব। তিনি একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার মতো বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের রাজস্ব প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এসব দপ্তরে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থায় থাকলে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা, নীতিগত মালিকানা এবং দায়িত্বের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করে দায়িত্বের মেয়াদ, প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিধি এবং নিয়মিত সচিব পদায়নের সময়সীমার ওপর।

সচিব পদ কেন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ

সচিব একটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাও সচিবের অন্যতম দায়িত্ব।

সাধারণভাবে সচিবের কাজ কেবল ফাইল অনুমোদন করা নয়। একটি নীতির বাস্তব প্রয়োগে কোন দপ্তর যুক্ত হবে, অর্থ বরাদ্দ কীভাবে সমন্বিত হবে এবং মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা কীভাবে পৌঁছাবে—এসব বিষয়েও সচিবের নেতৃত্ব প্রয়োজন হয়। ফলে একটি পদ শূন্য থাকা বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন চলা প্রশাসনিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রশাসনসংশ্লিষ্টদের মতে, সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় কোনো দায়িত্ব ছাড়া রাখা এবং একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে কাজ চালানো দক্ষ জনবল ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য প্রশাসনিক পদায়ন ও কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সরকারি উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জনপ্রশাসনে সংযুক্তির সম্ভাব্য কারণ

কোনো কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার পেছনে একাধিক প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো পরবর্তী পদায়নের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকার বিষয়গুলোকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রতিটি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে একই কারণ প্রযোজ্য হবে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।

  • পরবর্তী পদায়নের প্রস্তুতি: নতুন দায়িত্ব নির্ধারণের আগ পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত রাখা হতে পারে।
  • সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস: মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাঠামো পরিবর্তনের সময় সাময়িক পদায়ন-ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।
  • চাকরির মেয়াদ: চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকলে কোনো কর্মকর্তার অনুরোধ বিবেচনায় সংযুক্তি দেওয়া হতে পারে।
  • প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের আগ পর্যন্ত সংযুক্তি কার্যকর থাকতে পারে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বণিক বার্তাকে বলেছেন, মূলত কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে গেলে কারও অনুরোধও বিবেচনা করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংযুক্তির কারণ পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান সরকার দক্ষতা, যোগ্যতা ও মেধাকে গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন সাজাচ্ছে। অতীতের স্থবিরতা কাটিয়ে জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া কাউকে বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়ার পরিবর্তে কর্মকর্তাদের কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকারের আগ্রহ আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দক্ষ জনবল ব্যবহারে মূল প্রশ্ন

সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দীর্ঘ কর্মজীবনে মাঠ প্রশাসন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। নীতি প্রণয়ন, নীতি বাস্তবায়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই অভিজ্ঞতা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকা সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেছেন, দায়িত্ব ছাড়া দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকলে তাঁদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাঁর বক্তব্যে দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ওপর সরকারের আস্থা এবং কর্মকর্তাদের সরকারের প্রতি আস্থার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন, সরকার কেন এসব কর্মকর্তাকে কাজে লাগাচ্ছে না, তা তিনি জানেন না। তবে তাঁর ১৫ থেকে ২০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, সরকার হয়তো তাঁদের আর বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না।

তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সিভিল সার্ভিস এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে সরকার কর্মকর্তাদের অবিশ্বাস করার অনেক কারণ খুঁজে পেতে পারে। একইভাবে সরকার কোনো কর্মকর্তাকে অবিশ্বাস করলে এবং ওই কর্মকর্তারও সরকারের ওপর আস্থা না থাকলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।

দায়িত্ব বণ্টনের বাস্তব প্রভাব

দায়িত্বে নেই ১১ সচিব দুই মন্ত্রণালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে—এই দুই তথ্যকে একসঙ্গে দেখলে প্রশাসনিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি স্পষ্ট হয়। একদিকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা দায়িত্বের অপেক্ষায় আছেন। অন্যদিকে রাজস্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব কার্যকর রয়েছে।

ধরা যাক, কোনো নীতি বাস্তবায়নে একাধিক মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থার সমন্বয় দরকার। পূর্ণকালীন সচিব থাকলে দায়িত্বের মালিকানা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্ধারণ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে। তবে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থায় কাজ থেমে যায় না। দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক স্থায়িত্বের বিষয়টি অবশ্য আলাদা করে বিবেচনা করতে হয়।

প্রশাসনের সামনে সম্ভাব্য করণীয়

সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মকর্তাদের পদায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই দায়িত্বহীন থাকা ১১ সচিবের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে পদায়ন হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক দায়িত্ব না থাকলে তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অব্যবহৃত থাকার ঝুঁকি বাড়ে।

  1. প্রতিটি সংযুক্ত কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে উপযুক্ত দায়িত্ব নির্ধারণ করা।
  2. ভারপ্রাপ্ত সচিবের মাধ্যমে চলা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিয়মিত পদায়নের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা।
  3. সংযুক্তির প্রশাসনিক কারণ ও সম্ভাব্য মেয়াদ নথিভুক্ত রাখা।
  4. চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য সম্মানজনক ও কার্যকর দায়িত্ব ব্যবস্থার সুযোগ বিবেচনা করা।
  5. পদায়নে দক্ষতা, যোগ্যতা, মেধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার ভারসাম্য নিশ্চিত করা।

সাধারণ ভুল হলো সংযুক্তি বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাকে শুধু ব্যক্তিগত পদায়নের বিষয় হিসেবে দেখা। বাস্তবে এর সঙ্গে প্রশাসনিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারের প্রশ্নও জড়িত। তাই দ্রুত পদায়নই একমাত্র সমাধান নয়; সঠিক দায়িত্বে সঠিক কর্মকর্তাকে বসানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ ভুল ধারণা

সংযুক্ত কর্মকর্তা কি চাকরির বাইরে

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকা মানে কর্মকর্তা চাকরি থেকে বাদ পড়েছেন—এমন নয়। বরং তিনি সরকারি চাকরির কাঠামোর মধ্যেই থাকেন। তবে নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দাপ্তরিক দায়িত্ব না থাকায় তাঁর কাজের পরিধি ও প্রশাসনিক ভূমিকা সীমিত থাকতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত সচিব কি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন

ভারপ্রাপ্ত সচিব দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাজ পরিচালনা করেন। তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ভর করে সরকারি আদেশ, পদায়নের শর্ত এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

১১ সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়েছে কি

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১ কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য এখানে নেই। সংযুক্তির প্রশাসনিক কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ বা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

কতজন সচিবের বর্তমানে দাপ্তরিক দায়িত্ব নেই?

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১১ জন সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন। ফলে তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন না।

কোন দুটি দপ্তর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তায় চলছে?

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে কারা দায়িত্বে আছেন?

ড. ফাহমিদা খানম বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব। অন্যদিকে আহসান হাবীব অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

জনপ্রশাসনে কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করার কারণ কী?

পরবর্তী পদায়নের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস কিংবা চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকার মতো প্রশাসনিক কারণে কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হতে পারে। তবে কারণটি কর্মকর্তা ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ইয়াসমীন পারভীনের বর্তমান অবস্থান কী?

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসমীন পারভীনকে সচিব হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রাখা হয়েছে। পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে সংযুক্ত থাকবেন।

দায়িত্ব ছাড়া সচিবদের রাখলে কী প্রশ্ন ওঠে?

দীর্ঘ সময় দায়িত্ব না থাকলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত হয়। একই সঙ্গে পূর্ণকালীন সচিব ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

দক্ষ প্রশাসনের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ

দায়িত্বে নেই ১১ সচিব দুই মন্ত্রণালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে—এই পরিস্থিতি সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। তবে সংযুক্ত কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকলে রাষ্ট্র দক্ষ জনবল ব্যবহারের সুযোগ হারায়। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দীর্ঘায়িত হলে সিদ্ধান্তের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপযুক্ত দায়িত্বে দ্রুত পদায়ন, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়মিত পর্যালোচনা এবং পদায়নে যোগ্যতা ও আস্থার ভারসাম্য রাখা—এই তিনটি বিষয় প্রশাসনিক সমাধানের ভিত্তি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত তথ্যের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সরকারি আদেশ যাচাই করা উচিত।

Scroll to Top