সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি আনতে যাচ্ছে সরকার

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি আনতে যাচ্ছে সরকার—তবে এটি নতুন কোনো পঞ্চম স্কিম নয়। বরং বিদ্যমান ‘সমতা’, ‘সুরক্ষা’, ‘প্রবাস’ ও ‘প্রগতি’—এই চারটি স্কিমের প্রতিটিতে ইসলামি বিনিয়োগের বিকল্প রাখা হবে। ফলে গ্রাহক প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সুদভিত্তিক কাঠামো এড়িয়ে চলতে চান এমন মানুষ সর্বজনীন পেনশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কার্যকারিতা শুধু নাম পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে না। বরং বিনিয়োগের সুযোগ, মুনাফার হার, শরিয়াহ তদারকি এবং গ্রাহকের আস্থাই হবে মূল পরীক্ষার জায়গা।

  • ২০২৩ সালে চালু হওয়া চার স্কিমে নিবন্ধিত গ্রাহক প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার।
  • এদিকে জমা হওয়া প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
  • নতুন ব্যবস্থা আলাদা পঞ্চম স্কিম নয়। বরং চার স্কিমের ইসলামি সংস্করণ হিসেবে এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • বাস্তবায়নের আগে আইনগত কাঠামো এবং বিনিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে।

শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি কেন আনা হচ্ছে

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি আনতে যাচ্ছে সরকার মূলত অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী চারটি স্কিমে নিবন্ধন হলেও অংশগ্রহণের বড় অংশ ‘সমতা’ স্কিমে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে, অন্য তিনটি স্কিমে নিবন্ধন তুলনামূলকভাবে কম।

‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪। বিপরীতে ‘সুরক্ষা’, ‘প্রবাস’ ও ‘প্রগতি’ স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই ব্যবধান দেখাচ্ছে যে শুধু স্কিম চালু করলেই সব শ্রেণির মানুষের আগ্রহ তৈরি হয় না।

অনেক গ্রাহক সুদভিত্তিক আয় গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হতে পারেন। তাই তাঁদের জন্য আলাদা বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি হলে সর্বজনীন পেনশনের আওতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে নীতিমালা সহজ ভাষায় প্রকাশ করা জরুরি।

প্রস্তাবের আইনগত অগ্রগতি

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি তৈরির জন্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ‘প্রবাস’ স্কিমের পাশাপাশি ‘প্রবাস শরিয়া’ ধরনের বিকল্প রাখা হতে পারে। একইভাবে ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিমেও শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ থাকবে।

চার স্কিমে কীভাবে বিকল্প থাকবে

নতুন পদ্ধতিতে গ্রাহক নিবন্ধনের সময় প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ একজন ‘প্রগতি’ গ্রাহক প্রচলিত কাঠামোতে থাকতে পারেন। আবার একই স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক বিকল্পও নির্বাচন করতে পারেন।

স্কিমশরিয়াহভিত্তিক সম্ভাব্য রূপপ্রাসঙ্গিক গ্রাহকগোষ্ঠী
সমতাসমতা স্কিমের ইসলামি বিকল্পনিম্ন আয়ের মানুষ
সুরক্ষাসুরক্ষা স্কিমের ইসলামি বিকল্পস্বনিযুক্ত বা অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মী
প্রবাসপ্রবাস শরিয়াবিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি
প্রগতিপ্রগতি স্কিমের ইসলামি বিকল্পবেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কিমের নামের সঙ্গে শুধু ‘শরিয়া’ শব্দ যুক্ত করলেই কাঠামো শরিয়াহসম্মত হয়ে যায় না। বরং অর্থের উৎস, বিনিয়োগের খাত, চুক্তির ধরন এবং মুনাফা বণ্টন—সবকিছু নির্ধারিত নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হতে হবে।

তহবিল কোথায় বিনিয়োগ হতে পারে

শরিয়াহভিত্তিক তহবিলের বিনিয়োগ কাঠামো এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা পরিচালন ব্যবস্থা, বিনিয়োগ পদ্ধতি, কারিগরি কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি দায় বিশ্লেষণে কাজ করছেন।

প্রচলিত পেনশন তহবিল সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট হারে সুদ পায়। অন্যদিকে, শরিয়াহভিত্তিক তহবিলে সুদ গ্রহণের সুযোগ নেই। তাই বিকল্প সম্পদ ও চুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ নির্বাচন করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

  • সুকুক: সম্পদ বা প্রকল্পভিত্তিক শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম।
  • শরিয়াহসম্মত শেয়ার: নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ও আর্থিক মানদণ্ড পূরণকারী কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ।
  • মুদারাবা: এক পক্ষ মূলধন দেবে এবং অন্য পক্ষ ব্যবসা পরিচালনা করবে। ফলে মুনাফা চুক্তি অনুযায়ী ভাগ হতে পারে।
  • মুশারাকা: একাধিক পক্ষ মূলধন দিয়ে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায় যুক্ত হবে।

বাংলাদেশে সুকুকের বাজার এখনো ছোট। ফলে পর্যাপ্ত শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি না হলে প্রচলিত স্কিমের তুলনায় মুনাফা কম হতে পারে। আবার ঝুঁকি বেশি এমন খাতে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদি পেনশন তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলাদা শরিয়া বোর্ড গঠন করা হবে কি না তা পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি, সুকুকসহ কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়া বোর্ড এবং সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শরিয়া কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি আনতে যাচ্ছে সরকার, কিন্তু গ্রাহকের আস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে না। মানুষ জানতে চাইবে তাঁদের টাকা কোথায় রাখা হচ্ছে। একইভাবে, তাঁরা জানতে চাইবেন মুনাফা কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে এবং শরিয়াহ নীতিমালা কে তদারক করছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মো. আহসান হাবীব মনে করেন, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা দরকার। তাঁর মতে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে বিনিয়োগের সুযোগ, মুনাফার হার এবং গ্রাহকের বিশ্বাসের ওপর।

এই কারণে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন শরিয়া বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত শরিয়াহ অডিট এবং সহজবোধ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। বিনিয়োগের খাত, ঝুঁকি, আয় এবং ব্যয়ের তথ্য গ্রাহকের কাছে গোপন থাকলে নতুন পদ্ধতি গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

ব্যাংকিং সংকটের প্রভাব

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সংকট শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে সেই প্রশ্ন নতুন পেনশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পেনশন তহবিলের ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা দরকার।

অধ্যাপক আহসান হাবীবের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতির জন্য ব্যাংকিং মডেলকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক নয়। বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখলের মতো বাহ্যিক কারণও ক্ষতির পেছনে থাকতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করতে স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রকাশ্য তদারকি প্রয়োজন।

পেনশন সুবিধায় আরও যেসব পরিবর্তন

শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির পাশাপাশি সর্বজনীন পেনশনে আরও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে। পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রী আগে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পেতেন। এখন সেই বয়সসীমা ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন পাবেন। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার উদ্যোগ রয়েছে।
  • এদিকে বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো হবে।
  • বিমানবন্দরে ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে নিবন্ধনের প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

ব্যস্ত কর্মজীবীদের জন্য নিবন্ধনের স্থান এবং সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন, বিমানবন্দর বা ডিজিটাল সেন্টারে সরাসরি নিবন্ধনের সুযোগ থাকলে বিদেশগামী কর্মী এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক সহজে যুক্ত হতে পারেন। তবে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ শর্ত যাচাই করা উচিত।

বাস্তবায়নে কোন বাধা আছে

শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। প্রথমে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠাতে হবে। এরপর আইনগত অনুমোদন এবং পরিচালন নীতিমালা তৈরি হলে বাস্তব প্রয়োগের পথ পরিষ্কার হবে।

পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করা যায় কি না, পেনশন তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা যায় কি না এবং স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করা যায় কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। তবে এগুলো শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির বাইরে বৃহত্তর পেনশন সংস্কারের প্রশ্ন।

সাধারণ গ্রাহকের জন্য মূল বিষয় তিনটি। প্রথমত, বিনিয়োগ কোথায় হবে তা স্পষ্ট হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য মুনাফা ও ঝুঁকি আলাদা করে জানাতে হবে। তৃতীয়ত, শরিয়াহ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বা বোর্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাহকের যাচাই তালিকা

  1. নিবন্ধনের সময় প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক বিকল্পের পার্থক্য বুঝে নিন।
  2. এছাড়াও তহবিল কোন খাতে বিনিয়োগ হবে তা লিখিতভাবে জেনে নিন।
  3. মুনাফা নির্ধারণের নিয়ম এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করুন।
  4. শরিয়া বোর্ড বা অডিট ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে কি না দেখুন।
  5. চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করুন।

সাধারণ ভুল ধারণা এড়ান

একটি সাধারণ ভুল হলো শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগকে নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত মুনাফার সমার্থক মনে করা। বরং শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগে সুদ এড়িয়ে ব্যবসা, সম্পদ বা অংশীদারত্বভিত্তিক আয় কাঠামো থাকতে পারে। তাই মুনাফা ও ঝুঁকি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য থাকা জরুরি।

আরেকটি ভুল হলো প্রচলিত স্কিমের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরিয়াহভিত্তিক স্কিমে চলে যাবে মনে করা। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী গ্রাহককে বিকল্প বেছে নিতে হবে। তবে আইন ও চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের আগে পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে পারে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি কি আলাদা পঞ্চম স্কিম?

না। বরং এটি ‘সমতা’, ‘সুরক্ষা’, ‘প্রবাস’ ও ‘প্রগতি’—চারটি বিদ্যমান স্কিমের ইসলামি বিকল্প হিসেবে চালুর উদ্যোগ।

কোন কোন স্কিমে শরিয়াহ বিকল্প থাকবে?

চারটি স্কিমেই বিকল্প রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ‘প্রবাস’ স্কিমের ইসলামি সংস্করণকে ‘প্রবাস শরিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শরিয়াহ তহবিল কোথায় বিনিয়োগ হবে?

সুকুক, শরিয়াহসম্মত শেয়ার, মুদারাবা ও মুশারাকার মতো কাঠামো বিবেচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত বিনিয়োগ খাত এখনো নির্ধারিত হয়নি।

প্রচলিত স্কিমের চেয়ে মুনাফা কি বেশি হবে?

এটি নিশ্চিত নয়। কারণ বাংলাদেশে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের বাজার ছোট হওয়ায় পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকলে মুনাফা কমও হতে পারে।

নতুন ব্যবস্থা কবে চালু হবে?

চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আইনগত খসড়া, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং পরিচালন নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর সময়সীমা স্পষ্ট হবে।

শরিয়াহ তদারকি কে করবে?

আলাদা শরিয়া বোর্ড গঠন করা হবে কি না তা পর্যালোচনায় আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শরিয়া কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া হবে।

পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রী কত বছর পর্যন্ত পেনশন পাবেন?

আগের ৭৫ বছরের সীমা বাড়িয়ে ৮০ বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যাচাই করা দরকার।

নিবন্ধনে প্রণোদনা কত টাকা করা হয়েছে?

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নিবন্ধনে প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

আস্থার ভিত্তি তৈরি করাই মূল কাজ

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি আনতে যাচ্ছে সরকার—এই উদ্যোগ অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে। কিন্তু সফলতার মাপকাঠি হবে বাস্তব ব্যবস্থাপনা। পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র, ন্যায্য মুনাফা, স্বাধীন শরিয়া তদারকি এবং নিয়মিত প্রকাশ্য প্রতিবেদন ছাড়া মানুষের আস্থা পাওয়া কঠিন হবে।

আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগের খাত, বোর্ডের কাঠামো এবং নিবন্ধনের চূড়ান্ত নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগ্রহী গ্রাহকদের সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

Scroll to Top