সহকারী শিক্ষক এর কাজ কি

সহকারী শিক্ষক এর কাজ কি—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ক্লাস নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধরুন, সকালবেলার সমাবেশ শেষ হয়েছে এবং এক ঘণ্টার মধ্যে ক্লাস, উপস্থিতি, খাতা দেখা ও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ—সব সামলাতে হবে। তাই একজন সহকারী শিক্ষক পাঠদান, মূল্যায়ন, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সহায়তা একসঙ্গে করেন। ২০২৬ সালে ডিজিটাল রেকর্ড ও যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের কারণে এই দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ

  • সহকারী শিক্ষক মূলত পাঠদান, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ও শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত ১৩তম গ্রেডের বেতন কাঠামো প্রযোজ্য। তবে মাধ্যমিক স্তরে গ্রেড বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী বদলাতে পারে।
  • স্নাতক ডিগ্রি, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কম্পিউটার দক্ষতা চাকরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • এছাড়াও সরকারি, এমপিওভুক্ত, নন-এমপিও, কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম ও মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষা শাখায় কাজের সুযোগ আছে।

সহকারী শিক্ষক কে?

সহকারী শিক্ষক হলেন এমন একজন পেশাদার শিক্ষাবিদ যিনি প্রধান শিক্ষক বা সিনিয়র শিক্ষকের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন এবং বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা করেন। পদটির “সহকারী” পরিচয় প্রশাসনিক অধীনতা বোঝালেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষের দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ তার ওপর নির্ভর করে।

কোথায় কাজ করেন?

সহকারী শিক্ষকের কর্মক্ষেত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পাশাপাশি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নন-এমপিও স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষা শাখা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই পদ রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের পদ ৩ লক্ষাধিক এবং মোট কাঠামোর ৭০ শতাংশের বেশি। তবে নিয়োগসংখ্যা ও পদসংক্রান্ত তথ্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় অবশ্যই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা উচিত।

সহকারী শিক্ষক এর কাজ কি?

সহকারী শিক্ষক এর কাজ কি—সংক্ষেপে বললে, পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, রেকর্ড সংরক্ষণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। বাস্তবে দায়িত্বের পরিধি প্রতিষ্ঠানভেদে বদলালেও নিচের কাজগুলো প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠদান ও পাঠ পরিকল্পনা

নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেওয়া একজন সহকারী শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব। ২০২৬ সালে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। তাই শুধু পাঠ্যবই পড়ে শোনালে চলবে না; প্রশ্নোত্তর, দলীয় কাজ, প্রকল্প, কুইজ ও বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করে পাঠ বোঝাতে হয়।

ক্লাসের আগে লেসন প্ল্যান তৈরি করলে ৪০ মিনিটের একটি ক্লাসেও সময়ের সঠিক ব্যবহার হয়। পরিকল্পনায় শেখার লক্ষ্য, আলোচনার ধাপ, প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং শেষে শিক্ষার্থীরা কী শিখল তা যাচাই করার পদ্ধতি থাকা ভালো। একইভাবে সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানেই ডিজিটাল লেসন প্ল্যানের ব্যবহার বাড়ছে।

মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থী পর্যবেক্ষণ

পরীক্ষা নেওয়া মূল্যায়নের একমাত্র পদ্ধতি নয়। বরং ধারাবাহিক মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষের অংশগ্রহণ, বাড়ির কাজ, আচরণগত পরিবর্তন ও বিষয় বোঝার অগ্রগতি বিবেচনা করা হয়। একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও যদি পড়া না বোঝে তাহলে তার জন্য আলাদা সহায়তা দরকার হতে পারে।

ক্লাস টেস্টের খাতা দেখা, নম্বর রেকর্ড করা এবং প্রগ্রেস রিপোর্ট তৈরি করাও এই দায়িত্বের অংশ। তবে মাসিক বা সাময়িক মূল্যায়নের সময় কাজের চাপ বাড়ে। ফলে সময় বাঁচাতে একই দিনে খাতা জমা না রেখে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করা কার্যকর পদ্ধতি।

রেকর্ড ও প্রশাসনিক সহায়তা

উপস্থিতি রেজিস্টার, শিক্ষার্থীর তথ্য, ফলাফল, বিভিন্ন ফরম এবং অনলাইন পোর্টালে তথ্য আপলোড করা সহকারী শিক্ষকের নিয়মিত কাজ হতে পারে। তাই ডিজিটাল ডিভাইসে তথ্য সংরক্ষণের সময় নামের বানান, রোল নম্বর ও জন্মতারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি। ছোট ভুলও পরে সনদ বা সরকারি প্রতিবেদনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

প্রধান শিক্ষক বা সিনিয়র শিক্ষক ব্যস্ত থাকলে সহকারী শিক্ষক অফিসের ফাইল প্রস্তুত, সরকারি আদেশ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ, ভর্তি কার্যক্রম ও অডিটের সময় নথি সাজানোর কাজে সহায়তা করেন। তবে কোন দায়িত্ব প্রযোজ্য হবে তা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও নিয়োগপত্র দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

সহশিক্ষা কার্যক্রম

ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্কাউট কার্যক্রমে সহকারী শিক্ষকের সক্রিয় ভূমিকা থাকে। যেমন, বার্ষিক ক্রীড়া দিবসে মাঠের শৃঙ্খলা, দল ভাগ, সময়সূচি ও ফলাফল নথিবদ্ধ করার দায়িত্বও তাদের ওপর পড়তে পারে। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানেও একই ধরনের দায়িত্ব দেখা যায়।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ

শিক্ষার্থীর দুর্বলতা বা অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অভিভাবকের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে কথা বলা শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্যারেন্ট-টিচার মিটিংয়ে শুধু অভিযোগ না তুলে সমস্যা, সম্ভাব্য কারণ এবং বাস্তবসম্মত সহায়তার পথ জানানো উচিত। এতে অভিভাবকও শিশুর উন্নতিতে অংশ নিতে পারেন।

দৈনন্দিন দায়িত্ব কীভাবে সাজাবেন?

একজন সহকারী শিক্ষক এর কাজ কি—তা বোঝার সহজ উপায় হলো একটি সাধারণ কর্মদিবসের ধারাবাহিকতা দেখা। সকালে সমাবেশের পর ক্লাস নেওয়া দিয়ে দিন শুরু হলেও খাতা, রেকর্ড, পরীক্ষা ও যোগাযোগের কাজ মিলিয়ে দায়িত্বটি কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।

  1. ক্লাস পরিচালনা: রুটিন অনুযায়ী পাঠদান এবং ধীরগতির শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা করা।
  2. শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা: শোরগোল নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং টিফিনের সময় শৃঙ্খলা দেখা।
  3. খাতা ও ফলাফল: ক্লাস টেস্ট নেওয়া, খাতা মূল্যায়ন এবং নম্বর রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা।
  4. পরীক্ষা তদারকি: সিট প্ল্যান, প্রশ্নপত্র বিতরণ এবং নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
  5. সমন্বয়: প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে মাঠপর্যায়ের তথ্য জানানো।
  6. অনুষ্ঠান পরিচালনা: জাতীয় দিবস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া কার্যক্রমে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করা।

শারীরিক শাস্তি কোনো গ্রহণযোগ্য শৃঙ্খলা-পদ্ধতি নয়। তাই শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ম ব্যাখ্যা, ব্যক্তিগতভাবে কথা বলা, অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কাউন্সেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এই পরিবর্তন শিক্ষককে আরও সংযত ও দক্ষ হতে বাধ্য করেছে।

যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা

সহকারী শিক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা পদ ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী আলাদা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি দরকার। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্সকে অনেক নিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ২০২৬ সালের যে কোনো বিজ্ঞপ্তির নির্দিষ্ট শর্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

কিছু নিয়োগে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫০ বা সমমানের ফলাফলের শর্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি পরীক্ষার ফল, বিষয়ের সামঞ্জস্য, বয়স ও জেলা-ভিত্তিক শর্ত একেক বিজ্ঞপ্তিতে বদলাতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা অংশটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।

প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি

সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন বা ডিপিএড এবং কিছু ক্ষেত্রে সি-ইন-এড প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টিচার্স ট্রেনিং সার্টিফিকেট বা সমমানের প্রশিক্ষণ অগ্রাধিকার দিতে পারে। কোন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক তা নিয়োগবিধি দেখে নিশ্চিত করতে হবে।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, ই-মেইল, অনলাইন ফরম এবং কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্রাথমিক জ্ঞান এখন বাস্তব প্রয়োজন। এছাড়া ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্মে বাংলা ও ইংরেজি প্রশ্নের সমাধান খোঁজা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে হলেও শিক্ষকের প্রযুক্তি-সচেতনতা দরকার।

বয়স ও ব্যক্তিগত গুণ

সরকারি চাকরিতে সাধারণ বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ বছর হিসেবে উল্লেখ থাকতে পারে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য কিছু নিয়োগে সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত সুযোগ থাকে। বয়স গণনার তারিখ ও কোটা-সংক্রান্ত শর্ত প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে যাচাই করতে হবে।

  • ধৈর্য ও সহানুভূতি
  • সহজ ভাষায় বিষয় বোঝানোর ক্ষমতা
  • শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও নেতৃত্ব
  • দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা
  • ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সক্ষমতা
  • শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীর প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব

নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে হয়?

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সাধারণত অনলাইন আবেদন, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, কাগজপত্র যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত নিয়োগের ধাপে সম্পন্ন হয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন ও ফি জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ধাপের সংখ্যা বা পরীক্ষার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

  1. অনলাইন আবেদন: বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য পূরণ করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।
  2. লিখিত পরীক্ষা: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
  3. মৌখিক পরীক্ষা: বিষয়জ্ঞান, উপস্থাপনা, যোগাযোগ এবং শিক্ষানীতি সম্পর্কে ধারণা যাচাই করা হয়।
  4. কাগজপত্র যাচাই: শিক্ষাগত সনদ, পরিচয়পত্র, কোটা-সংক্রান্ত দলিল ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করা হয়।
  5. চূড়ান্ত নিয়োগ: মেধাতালিকা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিয়োগপত্রের পর প্রশিক্ষণ বা যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র বা মিথ্যা দাবির কারণে প্রার্থী আবেদন বা ভাইভা পর্যায়ে বাদ পড়তে পারেন। তাই ফরম পূরণের আগে সনদপত্রের বানান, জন্মতারিখ, কোটা এবং ঠিকানা মিলিয়ে নেওয়া দরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তথ্য এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যেতে পারে।

বেতন ও গ্রেডের বাস্তব চিত্র

সহকারী শিক্ষকের বেতন পদ, প্রতিষ্ঠান, গ্রেড ও ভাতার ওপর নির্ভর করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের মূল বেতন ১১,০০০ টাকা থেকে শুরু হওয়ার তথ্য প্রচলিত আছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসবভাতা যোগ হলে শুরুতে মোট প্রাপ্তি প্রায় ২১,০০০ থেকে ২৪,০০০ টাকা হতে পারে।

তবে এই অঙ্কগুলো ভাতা, কর্তন, কর্মস্থল এবং কার্যকর সরকারি আদেশ অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই বেতন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সরকারি বেতন নির্দেশনা দেখা উচিত। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গ্রেড ১০ বা ১১-এর কথা বলা হলেও পদ ও নিয়োগের ধরন অনুযায়ী পার্থক্য থাকতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের ধরনবেতন ও সুবিধার সাধারণ চিত্রযা যাচাই করবেন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সাধারণত ১৩তম গ্রেড এবং নির্ধারিত ভাতানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও কার্যকর বেতন আদেশ
এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়সরকারি সহায়তায় বেতন কাঠামো পরিচালিত হয়এমপিও নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠানের পদ
নন-এমপিও স্কুলপ্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী বড় পার্থক্যচাকরির চুক্তি ও মাসিক বেতন
কিন্ডারগার্টেন বা ইংলিশ মিডিয়ামপ্রায় ৭,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারেবিষয়, অভিজ্ঞতা, ইংরেজি দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের মান

সরকারি ও এমপিওভুক্ত চাকরিতে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, উৎসবভাতা, ঋণসুবিধা বা অন্যান্য সুবিধা নীতিমালা অনুযায়ী থাকতে পারে। তবে প্রতিবন্ধী শিক্ষক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য আলাদা ভাতা ও সুবিধা প্রযোজ্য কি না তা সংশ্লিষ্ট বিধি দেখে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভালো শিক্ষক হওয়ার কৌশল

একজন ভালো সহকারী শিক্ষক কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে পারেন। ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীর ৪০ মিনিটের ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে কণ্ঠের ব্যবহার, বোর্ডের কাজ, প্রশ্ন করা এবং দলীয় কার্যক্রম একসঙ্গে কাজে লাগাতে হয়। তাই শুধু জ্ঞান থাকলেই যথেষ্ট নয়; সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীর স্তরে নামিয়ে আনাই আসল দক্ষতা।

  • প্রতিটি ক্লাসের জন্য সংক্ষিপ্ত শেখার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
  • পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদা প্রশ্ন ও অনুশীলন দিন।
  • ভুল উত্তরকে অপমান না করে সংশোধনের সুযোগ দিন।
  • মাল্টিমিডিয়া, কুইজ ও বাস্তব উদাহরণ পরিমিতভাবে ব্যবহার করুন।
  • বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রয়োজনে অনলাইন ক্লাস চালানোর প্রস্তুতি রাখুন।

সাধারণ ভুল হলো প্রযুক্তিকে শিক্ষাদানের বিকল্প ভাবা। একটি প্রজেক্টর বা অনলাইন অ্যাপ ক্লাসকে আকর্ষণীয় করতে পারে, কিন্তু পরিষ্কার ব্যাখ্যা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীর সঙ্গে মানবিক যোগাযোগের বিকল্প নয়। লক্ষ্য করার মতো বিষয়, কম উপকরণেও পরিকল্পিত ক্লাস অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়।

সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

সহকারী শিক্ষকতা একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হলেও কাজটি সবসময় সহজ নয়। সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরির স্থায়িত্ব, ছুটি, ভাতা ও অবসর সুবিধা আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে বড় শ্রেণি, কম শিক্ষক-অনুপাত, অভিভাবকের চাপ এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ মানসিক ও সময়ের চাপ বাড়ায়।

দিকসুবিধাচ্যালেঞ্জ
কর্মপরিবেশসামাজিক সম্মান ও শিক্ষার্থীর উন্নতিতে অবদানএকসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী সামলানো
ছুটিগ্রীষ্মকালীন, শীতকালীন ও সরকারি ছুটিপরীক্ষা বা অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত দায়িত্ব
আর্থিক সুবিধাসরকারি বা এমপিও প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ভাতানন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে বেতন-বৈষম্য
ক্যারিয়ারসিনিয়র শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুযোগপদোন্নতি প্রতিষ্ঠান ও বিধির ওপর নির্ভরশীল

সহকারী শিক্ষক ও প্রভাষকের পার্থক্য

সহকারী শিক্ষক সাধারণত প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বুনিয়াদি শিক্ষা, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে বেশি যুক্ত থাকেন। অন্যদিকে প্রভাষক কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক গভীর পাঠদান, গবেষণা এবং থিসিস তত্ত্বাবধানে বেশি ভূমিকা রাখেন। ফলে যোগ্যতা ও নিয়োগ কাঠামোও আলাদা।

তুলনার বিষয়সহকারী শিক্ষকপ্রভাষক
কর্মক্ষেত্রপ্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
প্রধান দায়িত্ববুনিয়াদি শিক্ষা ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনাউচ্চতর পাঠদান ও গবেষণা
যোগ্যতাস্নাতক বা স্নাতকোত্তর এবং প্রশিক্ষণসাধারণত মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট নিয়োগযোগ্যতা
গ্রেডপ্রাথমিক ক্ষেত্রে ১৩ এবং মাধ্যমিকে বিজ্ঞপ্তিভেদে ১০ বা ১১পদ ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী সাধারণত ৯ বা ১০

 

Scroll to Top